
ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে ঘরের সব আলো নিভিয়ে শুধু পড়ার বাতি (রিডিং ল্যাম্প) জ্বালিয়ে বই পড়লে চোখের ওপর চাপ পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। এ ক্ষেত্রে চোখের আরাম ও ভালো ঘুম—দুই বিষয়ই মাথায় রাখা জরুরি।
রাতে বই পড়ার সময় খুব কম বা অতিরিক্ত তীব্র আলো—দুটিই চোখের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই বইয়ের ওপর কতটা আলো পড়ছে এবং আলোর ধরন কেমন, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
বই পড়ার জন্য কেমন আলো ভালো?
বইয়ের পাতার ওপর আলোর তীব্রতা মাপা হয় লাক্স এককে। চোখের জন্য আরামদায়ক আলো হিসেবে বইয়ের পাতায় ৩০০ থেকে ৫০০ লাক্স আলো উপযুক্ত বলে ধরা হয়।
আলো যদি ২০০ লাক্সের নিচে নেমে যায়, তাহলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। খুব কম আলোতে পড়লে চোখ দ্রুত ক্লান্ত হওয়া, মাথাব্যথা বা চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আবার আলো ৮০০ লাক্সের বেশি তীব্র হলেও বইয়ের পাতা থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
পড়ার বাতি কোথায় রাখবেন?
ঘরের মূল আলো নিভিয়ে ছোট একটি পড়ার বাতি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাতির আলো সরাসরি বইয়ের পাতার ওপর পড়বে, তবে এমনভাবে রাখতে হবে যেন আলোয় ছায়া না পড়ে।
রাতে কেমন রঙের আলো ব্যবহার করবেন?
রাতে বই পড়ার জন্য উষ্ণ বা হালকা হলুদ আলো ব্যবহার করা ভালো। অতিরিক্ত নীল আলো ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা থাকে।
মুঠোফোন বা ফলকে বই পড়লে
মুঠোফোন বা ফলকে বই পড়ার ক্ষেত্রে রাতের পড়ার উপযোগী ব্যবস্থা চালু রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্দার আলোর তীব্রতা খুব বেশি না রেখে কম বা মাঝারি পর্যায়ে রাখাই ভালো।
সংক্ষেপে, খুব অন্ধকারে বা অতিরিক্ত ঝলমলে আলোয় বই পড়া—দুটিই চোখের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। রাতে বই পড়ার সময় ৩০০ থেকে ৫০০ লাক্স মাত্রার আলো উপযোগী বলে ধরা হয়। একটি ৫ ওয়াটের আলোক-নির্গত ডায়োডের বাতি বই থেকে প্রায় দুই ফুট দূরে রেখে পড়লে উপযুক্ত আলো পাওয়া যেতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ


