
বেশি প্রোটিন খাওয়াকেই সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ধরা হয়। তবে নতুন গবেষণার পর্যালোচনায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। গবেষকদের মতে, পরিমিতভাবে প্রোটিন কম খাওয়া শরীরের বিপাকক্রিয়া ভালো রাখা, প্রদাহ কমানো এবং কোষের ক্ষতি হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সবার জন্য প্রোটিন কমানো উপযুক্ত নয়।
৩১ জুলাই প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণা পর্যালোচনায় ৩৫০টির বেশি গবেষণাগার ও প্রাণীর ওপর করা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, প্রোটিন গ্রহণ সীমিত করলে সুস্থ বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে কিছু সম্ভাব্য উপকার মিলতে পারে।
তবে গবেষকদের সতর্কতা, বয়স, শারীরিক পরিশ্রম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রোটিনের চাহিদা নির্ভর করে। তাই সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
গবেষণায় যা দেখা গেছে
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রোটিনের পরিমাণ পরিমিতভাবে কমানো বা কিছু নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড—যেমন মেথিওনিন, আইসোলিউসিন ও ভ্যালিন—সীমিত করার সঙ্গে প্রাণীদের সুস্থ বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যালিন সীমিত খাদ্য দেওয়া পুরুষ ইঁদুরের গড় আয়ু প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছিল। তবে এই ফল মানুষ নয়, ইঁদুরের ওপর করা গবেষণা থেকে পাওয়া।
শরীরে কী পরিবর্তন হতে পারে?
গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রোটিন সীমিত করলে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষীয় অংশ সরিয়ে নতুন অংশ তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও সক্রিয় হতে পারে।
এছাড়া প্রাণীদের ওপর করা গবেষণায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি কমানো এবং বয়সজনিত দুর্বলতা কমার মতো ফলও পাওয়া গেছে। তবে মানুষের আয়ু বাড়াতে প্রোটিন কম খাওয়ার সরাসরি প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে সবার জন্য প্রোটিন কমানো নয়
গবেষকরা বলছেন, প্রোটিনের চাহিদা সবার এক নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও শারীরিক অবস্থার ওপর এর প্রয়োজন নির্ভর করে।
বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, শিশু-কিশোর, খেলোয়াড় এবং অসুস্থতা বা আঘাত থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের তুলনামূলক বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় নিজের ইচ্ছায় হঠাৎ প্রোটিন কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
মূল কথা হলো, বেশি প্রোটিন সবসময় ভালো নয়, আবার কম প্রোটিনও সবার জন্য উপকারী নয়। নিজের বয়স ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে খাদ্যতালিকা ঠিক করাই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হেলথলাইন
আরটিভি/জেএমএ

