ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

আজ বিশ্ব মশা দিবস

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
বিশ্ব মশা দিবসে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে হবে সচেতনতা ।  ছবি: সংগৃহীত

আজ ২০ আগস্ট, বিশ্ব মশা দিবস। মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং এসব রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য—‘একসাথে কাজ করি: মশা-সহনশীল সমাজ গড়ে তুলি’।

মশা দেখতে ছোট হলেও এর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রাণঘাতী নানা রোগ। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিসের মতো রোগের অন্যতম বাহক মশা। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশে মশার বংশবিস্তার ও বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।

যেভাবে শুরু বিশ্ব মশা দিবস

মশাবাহিত রোগের ইতিহাসে ২০ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক প্যাট্রিক ম্যানসন ও ভারতীয় চিকিৎসা বিভাগের কর্মকর্তা রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়ার সম্ভাব্য বাহক হিসেবে মশা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।

কয়েক বছরের গবেষণার পর ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট তারা প্রমাণ করেন, অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়ার পরজীবী বহন করতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য পরবর্তী সময়ে রোনাল্ড রস নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

আরও পড়ুন

তাদের ঐতিহাসিক আবিষ্কারের দিনটিকে স্মরণ করেই ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে পালিত হয়। পরে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটির নামকরণ করে।

তবে দিবসটি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে স্মরণ করার দিন নয়। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে মানুষের সচেতনতা বাড়ানোও এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশে কেন মশার এত বিস্তার?

বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া মশার প্রজননের জন্য বেশ উপযোগী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজাতির বৈচিত্র্যও রয়েছে। গবেষণায় বাংলাদেশে শতাধিক প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও বিভিন্ন প্রজাতির মশার উপস্থিতি রয়েছে।

দেশে মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ডেঙ্গু। এ ছাড়া চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিসও উল্লেখযোগ্য।

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে

বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রথম দিকে ‘ঢাকা ফিভার’ নামে পরিচিত ছিল। পরে ২০০০ সালে রোগটি ডেঙ্গু হিসেবে শনাক্ত হয়। ওই বছর দেশে বড় ধরনের ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

সরকারি হিসাবে, ২০০০ সালে বাংলাদেশে ৫ হাজার ৫৫১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৯৩ জনের মৃত্যু হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু বর্তমানে বিশ্বের দ্রুত বিস্তারমান সংক্রামক রোগগুলোর একটি। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি হলো মশার বিস্তার রোধ করা।

শুধু মশা নিধন নয়, দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত মশার প্রজননস্থল খুঁজে ধ্বংস করা এবং মশার বিস্তার সম্পর্কে নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি রোগী দ্রুত শনাক্ত করা ও চিকিৎসার সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি পক্ষের উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন।

বিশ্ব মশা দিবস তাই শুধু একটি দিবস পালন নয়, বরং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে সচেতন হওয়ারও একটি সুযোগ।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, অবসর সময়ে সোফায় গা এলিয়ে মুঠোফোন দেখা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম না করা—আধুনিক জীবনে এমন অভ্যাস অনেকেরই।
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন