
ফ্যাশনের ধরন বদলায়, বদলায় পোশাকের নকশাও। কিন্তু বেনারসি শাড়ির আবেদন যেন কখনো পুরোনো হয় না। বিয়ের সাজ থেকে উৎসব—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কেন এতটা জনপ্রিয় এই শাড়ি?
সময় বদলের সঙ্গে ফ্যাশনেও আসে নানা পরিবর্তন। কখনো শাড়ি হয়ে ওঠে আধুনিক পোশাক, আবার কখনো সাবেকি শাড়ির সাজেই ফুটে ওঠে নতুনত্ব। তবে কিছু পোশাক রয়েছে, যেগুলো শুধু পরার জন্য নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ঐতিহ্য, স্মৃতি ও আবেগ। বেনারসি শাড়ি তেমনই একটি।
প্রজন্ম পেরিয়েও বেনারসির জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে এর নকশা ও পরার ধরনে পরিবর্তন এলেও ঐতিহ্যবাহী বুনন ও সৌন্দর্যের আবেদন এখনও একই রকম।
সাবেকি বুননেই বেনারসির আসল সৌন্দর্য
বাজারে এখন নানা ধরনের শাড়ি বেনারসি নামে পাওয়া যায়। তবে সব শাড়িতে ঐতিহ্যবাহী বেনারসির মতো সূক্ষ্ম সোনালি বা রূপালি জরির কাজ কিংবা হাতে বোনা নকশা থাকে না।
খাঁটি বেনারসির সৌন্দর্য মূলত এর বুনন ও কারুকাজে। অতিরিক্ত জাঁকজমক না থাকলেও সূক্ষ্ম নকশা, জরির কাজ ও ঐতিহ্যবাহী মোটিফ শাড়িটিকে আলাদা করে তোলে।
জরির কাজেই বাড়ে সৌন্দর্য
ঐতিহ্যবাহী বেনারসি শাড়িতে সাধারণত পুরো শাড়িজুড়ে বিভিন্ন ধরনের জরির কাজ দেখা যায়। সরু পাড়ে সোনালি বা রূপালি জরির সুতায় করা হয় সূক্ষ্ম কারুকাজ। শাড়ির শরীরজুড়ে থাকতে পারে জালির মতো নকশা ও নানা ধরনের ফুলের মোটিফ।
তবে বেনারসির আঁচলেই সাধারণত সবচেয়ে বেশি নজর পড়ে। ভারী জরির কাজের পাশাপাশি ফুল, কল্কা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী নকশা আঁচলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিয়ের সাজে বেনারসির আলাদা কদর
একসময় বাঙালি বিয়ের সাজে ঐতিহ্যবাহী বেনারসির ব্যবহার ছিল খুবই জনপ্রিয়। সেই ধারা এখনও রয়েছে। বিয়ের জন্য অনেকেই ফুল ও কল্কা নকশার সাবেকি বেনারসি বেছে নেন।
শুধু বিয়েই নয়, বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানেও বেনারসি শাড়ি পরা হয়। এর সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গয়না ও সাজ মিলিয়ে তৈরি করা যায় আভিজাত্যপূর্ণ সাজ।
মায়ের শাড়িতে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি
বেনারসির সঙ্গে পারিবারিক আবেগের সম্পর্কও কম নয়। মায়ের পরা শাড়ি মেয়ের পরা কিংবা পরিবারের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে একই শাড়ি পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা অনেক পরিবারেই দেখা যায়।
তাই মায়ের বেনারসি পরা শুধু ফ্যাশনের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পুরোনো দিনের স্মৃতি ও প্রিয় মানুষের ভালোবাসা। একটি শাড়ি হয়ে ওঠে পরিবারের স্মৃতি ধরে রাখার মাধ্যম।
টেকসই ফ্যাশনেও বেনারসি
খাঁটি হাতে বোনা বেনারসি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। যত্ন নিয়ে রাখলে একই শাড়ি বছরের পর বছর এমনকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরাও সম্ভব। ফলে পুরোনো শাড়ি ফেলে দিয়ে নতুন শাড়ি কেনার বদলে একই শাড়ি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
এই কারণেই ঐতিহ্যবাহী বেনারসিকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের একটি উদাহরণ হিসেবেও দেখা যায়।
ফ্যাশন বদলালেও বেনারসি কেন অমলিন?
ফ্যাশনে নতুন নতুন প্রবণতা আসবে, আবার সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু হারিয়েও যাবে। কিন্তু বেনারসির মতো ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আবেদন সহজে শেষ হওয়ার নয়।
এর সূক্ষ্ম বুনন, জরির কাজ, ফুল ও কল্কা নকশা যেমন চোখে পড়ে, তেমনই এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য ও আবেগও মানুষকে বারবার এই শাড়ির কাছে ফিরিয়ে আনে। তাই প্রজন্ম বদলালেও বেনারসি থেকে যায় বাঙালির সাজের অন্যতম চিরন্তন পোশাক হিসেবে।
আরটিভি/জেএমএ


