
কাঠবাদাম পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, আঁশ, ভিটামিন ই ও ম্যাগনেশিয়াম। একসময় ভিজিয়ে আস্ত কাঠবাদাম খাওয়ার চল বেশি থাকলেও এখন অনেকেই এর তৈরি দুধ পান করছেন। চা-কফি থেকে শুরু করে নানা খাবারেও ব্যবহার হচ্ছে এই দুধ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আস্ত কাঠবাদামের তুলনায় এর দুধে কি একই পরিমাণ পুষ্টি পাওয়া যায়?
কীভাবে তৈরি হয় কাঠবাদামের দুধ?
কাঠবাদামের দুধ তৈরি করা বেশ সহজ। প্রথমে এক কাপ কাঠবাদাম সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পরদিন ভেজানো বাদাম পানি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হয়। এরপর সেই মিশ্রণ ছেঁকে নিলেই পাওয়া যায় কাঠবাদামের দুধ।
তবে এই ছেঁকে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেই বাদামের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুষ্টি কমে যায়। বিশেষ করে বাদামের আঁশের বেশিরভাগ অংশই ছাঁকনির সঙ্গে বাদ পড়ে যায়। পাশাপাশি আস্ত কাঠবাদামের তুলনায় দুধে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণও কম থাকে।
পুষ্টির দিক থেকে এগিয়ে গোটা কাঠবাদাম
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে কাঠবাদামের পূর্ণ পুষ্টি পেতে চাইলে আস্ত বাদাম খাওয়াই ভালো। এক মুঠো কাঠবাদামে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৪ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং সাড়ে ৩ গ্রাম আঁশ পাওয়া যায়। এর সঙ্গে থাকে ভিটামিন ই ও ম্যাগনেশিয়াম।
অন্যদিকে, এক কাপ চিনি ছাড়া কাঠবাদামের দুধে সাধারণত প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ক্যালরি এবং মাত্র ১ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এতে আঁশ খুব কম বা প্রায় থাকেই না। কিছু স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ভিটামিন ই থাকলেও আস্ত বাদামের তুলনায় তার পরিমাণ অনেক কম।
তাই শুধু পুষ্টির হিসাব করলে কাঠবাদামের দুধের চেয়ে আস্ত কাঠবাদামই এগিয়ে।
তাহলে কি কাঠবাদামের দুধ খাওয়া যাবে না?
একেবারেই তা নয়। অনেকের জন্য কাঠবাদামের দুধ একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে যাদের দুধের চিনি হজমে সমস্যা হয়, তাদের জন্য এই উদ্ভিজ্জ দুধ উপকারী বিকল্প হতে পারে। এতে সাধারণত দুধের চিনি থাকে না এবং অনেকের ক্ষেত্রে এটি সহজে সহ্য হয়।
আস্ত কাঠবাদামের পাশাপাশি কাঠবাদামের দুধও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। বাড়িতে তৈরি দুধও খাওয়া যায়। তবে বাজার থেকে প্যাকেটজাত কাঠবাদামের দুধ কিনলে একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
বাজারের দুধ কেনার আগে যা দেখবেন
প্যাকেটজাত কাঠবাদামের দুধ কেনার সময় তাতে বাড়তি চিনি বা অপ্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। উপাদানের তালিকা না দেখে শুধু প্যাকেটের সামনের লেখা দেখে পণ্য কেনা ঠিক নয়।
অনেক কাঠবাদামের দুধে বাড়তি পুষ্টি যোগ করা থাকে। এ ধরনের দুধ কিনলে তাতে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
কাঠবাদামের দুধ স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে, তবে এটি আস্ত কাঠবাদামের পুষ্টির বিকল্প নয়। বেশি প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি পেতে চাইলে গোটা কাঠবাদামই ভালো পছন্দ।
আরটিভি/জেএমএ

