ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

রাগ উঠলেই কটু কথা বলেন? নিজেকে সামলাবেন যেভাবে 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
রাগের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে কিছুক্ষণ নিজেকে সময় দিলে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ছোটখাটো বিষয়েই রেগে যাচ্ছেন? রাগের মাথায় কাছের মানুষকে কটু কথা বলে ফেলছেন, পরে আবার অনুতপ্ত হচ্ছেন? এমনটা অনেকের সঙ্গেই ঘটে। তবে রাগ প্রকাশ করে ফেললেই মন হালকা হয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং রাগের মুহূর্তে নিজেকে সামলাতে পারলে সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা—দুটিই ভালো রাখা সম্ভব।

কেন এত রাগ হয়?

রাগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা থাকলে এটি বেশি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তখন সামান্য বিষয়েও মেজাজ খারাপ হওয়া বা হঠাৎ কটু কথা বলে ফেলার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া হরমোনের পরিবর্তনও মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরে চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে দুশ্চিন্তা ও উত্তেজনা বাড়তে পারে। এর প্রভাব রাগের প্রকাশেও পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

রাগ উঠলে ১০ সেকেন্ড চুপ থাকুন

রাগের মুহূর্তে সঙ্গে সঙ্গে কথা না বলাই ভালো। কয়েক সেকেন্ড নিজেকে সময় দিন। মনে মনে নিজের নাম, বয়স বা ফোন নম্বর উল্টো দিক থেকে বলার চেষ্টা করতে পারেন।

এই ছোট বিরতিটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। রাগ কিছুটা কমলে তখন কথা বললে ভুল বা কটু কথা বলে ফেলার আশঙ্কাও কমে।

গলার স্বর কমিয়ে দিন

রেগে গেলে স্বাভাবিকভাবেই গলার স্বর চড়ে যায়। এমন সময়ে ইচ্ছা করে ধীরে এবং নিচু স্বরে কথা বলার চেষ্টা করুন। একেবারে ফিসফিস করে কথা বলাও একটি কৌশল হতে পারে।

গলার স্বর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা মনকে কিছুটা শান্ত করার সুযোগ দিতে পারে। ফলে উত্তেজনার মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা কমে।

মন অন্যদিকে ফেরাতে পারেন

রাগের সময় শরীর ও মনের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা যায়। যেমন, হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনীর (মধ্যমা আঙুলের মাঝের আঙুল) ডগায় চাপ দেওয়া বা হাতের তালুতে বরফের টুকরো কিছুক্ষণ চেপে ধরা যেতে পারে।

হঠাৎ পাওয়া এই অনুভূতি রাগের কারণ থেকে মনোযোগ কিছুটা সরিয়ে দিতে পারে। তবে বরফ সরাসরি দীর্ঘক্ষণ ত্বকে চেপে না রাখাই ভালো।

রাগের জবাব দিতে ৩০ মিনিট অপেক্ষা

রাগের সময় কাউকে বার্তা পাঠানো, ফোন করা বা কটু কথা বলার আগে নিজেকে অন্তত ৩০ মিনিট সময় দিন। শুরুতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে।

এই সময়টুকু পার হলে অনেক ক্ষেত্রেই উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে। তখন একই বিষয় নিয়ে কথা বললেও প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক শান্ত হতে পারে।

যা বলতে চান, আগে রেকর্ড করে রাখুন

রাগের সময় প্রিয়জনকে কটু কথা না বলে নিজের ফোনে মনের কথাগুলো বলে রেকর্ড করতে পারেন। রাগের মুহূর্তে যা বলতে ইচ্ছে করছে, তা বলে রেকর্ড করে পরে মুছে দিন।

এতে নিজের ভেতরের ক্ষোভ প্রকাশ করার সুযোগ পাওয়া যায়, আবার সরাসরি কাউকে আঘাত করার আশঙ্কাও থাকে না।

রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন, চেপে রাখবেন না

রাগ হওয়া স্বাভাবিক অনুভূতি। কিন্তু রাগের কারণে কাউকে আঘাত করা বা সম্পর্ক নষ্ট করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। তাই রাগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দিয়ে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া জরুরি।

ছোট একটি বিরতি, গলার স্বর নিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ অন্যদিকে সরানো কিংবা কিছুক্ষণ অপেক্ষা—এসব অভ্যাস রাগের মুহূর্ত সামলাতে সাহায্য করতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
দিনে রেকি, রাতে গৃহবধূর ঘরে মুখোশধারী ৩ যুবক
শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিও প্রকাশ করা সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের মরদেহ উদ্ধার!
ধর্ষণ মামলায় কারাবন্দী চবি শিক্ষার্থী তোহার পরীক্ষা কারাগারেই
কারাগার ভেঙে পালালেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত খুনি, চলছে তল্লাশি