
চুপচাপ বসে আছেন, হঠাৎ খেয়াল করলেন চোখের পাতা কাঁপছে। কয়েক সেকেন্ড পর হয়তো ঠিকও হয়ে গেল। আবার কারও ক্ষেত্রে দিনের মধ্যে বারবার এমন হতে পারে। চোখের পাতা এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপাকে সাধারণত চোখের পাতার পেশির অনিচ্ছাকৃত সংকোচন বলা হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা সাময়িক এবং নিজে থেকেই সেরে যায়। ক্লান্তি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত চা-কফি পান কিংবা চোখে শুষ্কতা ও অস্বস্তির কারণে এমন হতে পারে। তবে কখনও কখনও দীর্ঘস্থায়ী চোখের পাতা কাঁপা অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
কেন চোখের পাতা কাঁপে?
চোখের পাতা কাঁপার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
দীর্ঘ সময় মুঠোফোন, কম্পিউটার বা অন্য পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখে চাপ পড়তে পারে। এর ফলে চোখ শুষ্ক হওয়া, অস্বস্তি এবং চোখের পাতা কাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া চোখের পাতায় প্রদাহ, চোখের সংক্রমণ, চোখের মাঝের স্তরে প্রদাহ বা মাথাব্যথার বিশেষ ধরনের সমস্যার সঙ্গেও চোখের পাতা কাঁপার সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে।
সব কাঁপুনি এক রকম নয়
চোখের পাতা কাঁপার ধরন ও কারণ অনুযায়ী এর কয়েকটি ধরন রয়েছে।
সাধারণ পেশির কাঁপুনি
এটি সবচেয়ে পরিচিত ধরন। সাধারণত নিচের চোখের পাতায় হালকা টান বা কাঁপুনি অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্রাম নিলে এটি কমে যায়।
দুই চোখে দীর্ঘস্থায়ী কাঁপুনি
দীর্ঘদিন ধরে দুই চোখের পাতায় বারবার বা শক্তভাবে সংকোচন হলে এটি বিশেষ এক ধরনের স্নায়ুজনিত নড়াচড়ার সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সময়ের সঙ্গে চোখ ঝাপসা দেখা, আলো সহ্য করতে না পারা বা মুখের অন্য অংশেও কাঁপুনি দেখা দিতে পারে।
এক পাশের চোখ ও মুখ কাঁপা
শুধু এক চোখের পাতা দিয়ে শুরু হয়ে পরে মুখের একই পাশের অন্য অংশেও কাঁপুনি দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। কখনও কখনও চোখের পাতা এমনভাবে সংকুচিত হতে পারে যে চোখ বন্ধ হয়ে যায়, পরে মুখের এক পাশও টান পড়তে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণ চোখের পাতা কাঁপা নিয়ে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
চোখে আঘাত লাগার পর এ ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চোখের স্বচ্ছ আবরণে আঁচড় লাগলে স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকতে পারে।
কমাতে কী করবেন?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই চোখের পাতা কাঁপা কমে যায়। তবে সমস্যা কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস কাজে লাগতে পারে।
চা-কফি কমান: অতিরিক্ত চা-কফি পান করলে কাঁপুনি বাড়তে পারে। তাই পরিমাণ কমিয়ে দেখুন।
পর্যাপ্ত ঘুমান: ঘুমের অভাব চোখের ওপর চাপ বাড়ায়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম চোখের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
চোখ আর্দ্র রাখুন: চোখ শুষ্ক লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণ চোখের আর্দ্রতা রক্ষাকারী তরল ব্যবহার করা যেতে পারে।
গরম সেঁক দিন: চোখের পাতা কাঁপা শুরু হলে হালকা গরম কাপড় দিয়ে চোখে সেঁক দিতে পারেন।
খাবারে কোনো ঘাটতি থাকলে কি এমন হয়?
কিছু ক্ষেত্রে খনিজের ঘাটতির সঙ্গে পেশির সংকোচনের সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পেশির সংকোচনের কারণ হতে পারে।
তবে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি-১২ বা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিই চোখের পাতা কাঁপার কারণ—এমন দাবির পক্ষে বর্তমানে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে কোনো ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি আছে কি না তা নির্ণয় করতে পারেন।
চোখের পাতা কাঁপা ঠেকাতে যা খেয়াল রাখবেন
কখন চোখের পাতা বেশি কাঁপছে, তা লিখে রাখলে কারণ বোঝা সহজ হতে পারে। সেই সঙ্গে দিনে কতটা চা-কফি পান করছেন, ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস আছে কি না, মানসিক চাপ কতটা এবং কত ঘণ্টা ঘুম হচ্ছে—এসবও খেয়াল করুন।
যদি দেখা যায় কম ঘুমের দিনগুলোতেই চোখ বেশি কাঁপছে, তাহলে রাতে কিছুটা আগে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
চোখের পাতা কাঁপা খুবই সাধারণ এবং বেশিরভাগ সময় ক্ষতিকর নয়। ক্লান্তি, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা চোখে চাপ পড়ার মতো কারণ থাকলে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনেই সমস্যা কমে যেতে পারে।
তবে কাঁপুনি দীর্ঘদিন ধরে চললে, চোখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে, চোখ লাল বা ফুলে গেলে কিংবা মুখের অন্য অংশেও কাঁপুনি দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: হেলথ লাইন
আরটিভি/জেএমএ


