
দুধ চায়ের বদলে এখন অনেকেই গ্রিন টিয়েতে অভ্যস্ত হচ্ছেন। শরীরকে সুস্থ রাখতে এই পানীয়ের বেশ কদর রয়েছে। গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক বলে মনে করা হয়।
শুধু তাই নয়, শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতেও গ্রিন টি ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
অনেকেই গ্রিন টিতে লেবুর রস বা মধু মিশিয়ে খান। তবে এর বদলে এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন। গ্রিন টি ও দারুচিনির এই মিশ্রণ স্বাদে যেমন আলাদা, তেমনই এতে রয়েছে বেশ কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সহায়ক
গ্রিন টি ও দারুচিনি—দুটিই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমতে পারে।
তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রিন টি ও দারুচিনির এই পানীয় রাখা যেতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে গ্রিন টিও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়।
দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়তি সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়।
শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে সহায়ক
গ্রিন টি ও দারুচিনি—দুটিই শরীরের বিপাকক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এই পানীয় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
তবে শুধু গ্রিন টি বা দারুচিনি খেলেই দ্রুত ওজন কমে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক
গ্রিন টি ও দারুচিনিতে প্রদাহ কমাতে সহায়ক কিছু উপাদান রয়েছে। তাই এই পানীয় শরীরের ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বাতের ব্যথা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যার ক্ষেত্রেও কিছুটা উপকার মিলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
গ্রিন টি ও দারুচিনি—দুটিতেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো শরীরের ক্ষতিকর জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
শরীরে এই ধরনের ক্ষতিকর চাপ কম থাকলে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা মিলতে পারে। তবে কোনো পানীয়ই ক্যানসারসহ গুরুতর রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেয় না।
কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে এক কাপ গ্রিন টি তৈরি করে নিন। এরপর তাতে এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে নিন। চাইলে টি ব্যাগ ব্যবহার করেও গ্রিন টি তৈরি করতে পারেন।
তবে দারুচিনি বেশি পরিমাণে ব্যবহার না করে অল্প পরিমাণে মেশানোই ভালো। প্রতিদিন কতবার পান করবেন, তা নিজের শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।
মনে রাখবেন
গ্রিন টি ও দারুচিনি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে ওজন কমানো, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য শুধু এই পানীয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/জেএমএ


