ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

লেবু-মধু নয়, গ্রিন টিয়ের সঙ্গে মেশান এই মশলা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
এক কাপ গরম গ্রিন টিতে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে সুগন্ধি স্বাস্থ্যকর পানীয়। ছবি: সংগৃহীত

দুধ চায়ের বদলে এখন অনেকেই গ্রিন টিয়েতে অভ্যস্ত হচ্ছেন। শরীরকে সুস্থ রাখতে এই পানীয়ের বেশ কদর রয়েছে। গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক বলে মনে করা হয়।

শুধু তাই নয়, শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতেও গ্রিন টি ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

অনেকেই গ্রিন টিতে লেবুর রস বা মধু মিশিয়ে খান। তবে এর বদলে এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন। গ্রিন টি ও দারুচিনির এই মিশ্রণ স্বাদে যেমন আলাদা, তেমনই এতে রয়েছে বেশ কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সহায়ক

গ্রিন টি ও দারুচিনি—দুটিই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমতে পারে।

তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রিন টি ও দারুচিনির এই পানীয় রাখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে

দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে গ্রিন টিও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়।

দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়তি সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়।

শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে সহায়ক

গ্রিন টি ও দারুচিনি—দুটিই শরীরের বিপাকক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এই পানীয় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

তবে শুধু গ্রিন টি বা দারুচিনি খেলেই দ্রুত ওজন কমে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক

গ্রিন টি ও দারুচিনিতে প্রদাহ কমাতে সহায়ক কিছু উপাদান রয়েছে। তাই এই পানীয় শরীরের ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বাতের ব্যথা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যার ক্ষেত্রেও কিছুটা উপকার মিলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ

গ্রিন টি ও দারুচিনি—দুটিতেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো শরীরের ক্ষতিকর জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শরীরে এই ধরনের ক্ষতিকর চাপ কম থাকলে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা মিলতে পারে। তবে কোনো পানীয়ই ক্যানসারসহ গুরুতর রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেয় না।

কীভাবে তৈরি করবেন?

প্রথমে এক কাপ গ্রিন টি তৈরি করে নিন। এরপর তাতে এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে নিন। চাইলে টি ব্যাগ ব্যবহার করেও গ্রিন টি তৈরি করতে পারেন।

তবে দারুচিনি বেশি পরিমাণে ব্যবহার না করে অল্প পরিমাণে মেশানোই ভালো। প্রতিদিন কতবার পান করবেন, তা নিজের শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

মনে রাখবেন

গ্রিন টি ও দারুচিনি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে ওজন কমানো, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য শুধু এই পানীয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
খালি পেটে গ্রিন টি খেলে বমি লাগার কারণ