ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সকালে ডিম না পনির, প্রোটিনে কে এগিয়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
সকালের খাবারে ডিম ও পনির—দুটিই হতে পারে প্রোটিনের ভালো উৎস। ছবি: এআই

শরীরের গঠন, পেশি তৈরি ও ক্ষয় পূরণে প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু পেশি নয়, ত্বক, চুল, বিভিন্ন উৎসেচক ও হরমোন তৈরিতেও প্রয়োজন এই পুষ্টি উপাদান। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সক্রিয় রাখে। তাই দিনের শুরুতেই খাবারের তালিকায় প্রোটিন রাখা উপকারী।

সকালের খাবারে সহজে যোগ করা যায় এমন দুটি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হলো ডিম ও পনির। দুটিই পুষ্টিকর হলেও এদের পুষ্টিগুণে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

একটি ডিমে কতটা প্রোটিন?

প্রায় ৪৪ গ্রাম ওজনের একটি সেদ্ধ বা পানিতে পোচ করা ডিমে প্রায় ৫ দশমিক ৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে চর্বি, ক্যালশিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, দস্তা, সেলেনিয়াম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন পেশি তৈরি ও ক্ষয় পূরণে সাহায্য করে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখায় অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।

এছাড়া ডিমে থাকা ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি ও কোলিন মস্তিষ্কের কার্যক্রম, বিপাক ও সামগ্রিক শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের কুসুমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

আরও পড়ুন

পনিরে প্রোটিন কতটা?

প্রায় ৪০ গ্রাম কম চর্বিযুক্ত পনিরে প্রায় ৭ দশমিক ৫৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে। একই সঙ্গে এতে রয়েছে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ফলেট, চর্বি ও শর্করা।

পনিরের প্রোটিন তুলনামূলক ধীরে হজম হয়। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে এবং বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমাতে সাহায্য করে। পনিরে থাকা ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত শক্তিশালী রাখতেও ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া পনিরে থাকা বি-জাতীয় ভিটামিন শরীরের বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে। কম চর্বিযুক্ত পনির পরিমিত পরিমাণে সকালের খাবারে রাখা যেতে পারে।

গবেষণায় পনির সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

পনির নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চর্বি ও প্রোটিন রয়েছে। পাশাপাশি এতে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়। পনিরে থাকা দুধের প্রোটিনে শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে।

এ কারণে নিরামিষভোজীদের খাদ্যতালিকায় পনির প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

ডিমের প্রোটিন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ডিমের প্রোটিনকে উচ্চমানের প্রোটিন হিসেবে ধরা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমে শরীরের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের ভারসাম্য ভালো এবং এর প্রোটিন শরীর সহজে ব্যবহার করতে পারে।

বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশে ভালো পরিমাণে প্রোটিন থাকে। শরীরের পেশি তৈরি ও পেশির শক্তি ধরে রাখতে ডিমের প্রোটিন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তাহলে ডিম না পনির—কে এগিয়ে?

আসলে একটিকে সরাসরি অন্যটির চেয়ে সেরা বলা কঠিন। ডিম ও পনির দুটিই উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস এবং দুটিতেই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি রয়েছে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান এমন নিরামিষভোজীদের জন্য পরিমিত পরিমাণে পনির ভালো বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে ডিম সহজলভ্য, রান্না করা সহজ এবং উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস।

তাই চাইলে দুটিকে পালা করে খাবারের তালিকায় রাখা যায়। পাশাপাশি ডাল, সয়াবিন, বাদামসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

কীভাবে খাবেন?

ডিম হলে সেদ্ধ, পানিতে পোচ করা কিংবা অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। পনিরও অল্প মসলা দিয়ে হালকা রান্না করে, সবজির সঙ্গে বা সালাদের সঙ্গে খাওয়া যায়।

তবে যে খাবারই বেছে নিন, পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। অতিরিক্ত চর্বি ও তেল ব্যবহার না করে সহজভাবে রান্না করলে খাবারটি আরও হালকা ও পুষ্টিকর হয়।

সব মিলিয়ে, সকালের খাবারে ডিম বা পনির—দুটিই ভালো প্রোটিনের উৎস। আপনার খাদ্যাভ্যাস, পছন্দ ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
‘বিশ্ব ডিম দিবস’ উপলক্ষে বাকৃবিতে বিনামূল্যে ৩৫০০ ডিম বিতরণ
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
পায়ুপথে তিন ‘সোনার ডিম’ নিয়ে ঢাকায় নামলেন যাত্রী
বিশ্ব ডিম দিবস আজ