ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পোড়া খাবার খেলে কী ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
অতিরিক্ত আঁচে পুড়ে যাওয়া খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে । ছবি: সংগৃহীত

রান্না করতে গিয়ে খাবার পুড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কখনও তরকারি কড়াইয়ের সঙ্গে লেগে যায়, কখনও ভাত গরম করতে গিয়ে নিচের অংশ পুড়ে যায়। আবার পাউরুটি সেঁকতে গিয়েও অনেক সময় তা কালো হয়ে যায়। অনেকেই পোড়া অংশটুকু ফেলে দিয়ে বাকি খাবার খেয়ে নেন। কিন্তু নিয়মিত এমন পোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

চিকিৎসকের মতে, উচ্চ আঁচে বা দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করলে খাবারের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আসে। এতে খাবারের কিছু পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর কিছু যৌগও তৈরি হতে পারে।

পোড়া খাবার খেলে কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে?

অঙ্কোলজিস্ট (ক্যান্সারের রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপক) চিকিৎসকের মতে, পোড়া খাবার মানেই বিষ—এমনটা নয়। খাবারের সামান্য পোড়া অংশ বাদ দিয়ে দিলে সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত পোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাসকে একেবারে নিরাপদও বলা যায় না।

চিকিৎসকের মতে, শর্করাযুক্ত খাবার অতিরিক্ত পুড়ে গেলে অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। আবার মাংসজাতীয় খাবার বেশি পুড়িয়ে ফেললে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইন ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের মতো ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। এসব উপাদান নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

গ্রিল করা মাংসেও কি ঝুঁকি আছে?

উচ্চ আঁচে মাংস ঝলসানোর সময় হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইন তৈরি হতে পারে। আবার মাংসের চর্বি গলে আগুনের ওপর পড়লে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তা মাংসের গায়ে পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন জমাতে পারে।

এসব যৌগ শরীরের ডিএনএ-এর ক্ষতি করতে পারে। শাকসবজিতে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইন তৈরি হয় না। তবে অতিরিক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলে শাকসবজির গায়েও ক্ষতিকর পদার্থ জমতে পারে।

কোন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে?

চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত অতিরিক্ত পোড়া মাংস খাওয়ার সঙ্গে বৃহদান্ত্র ও মলাশয়, অগ্ন্যাশয় এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বিভিন্ন গবেষণায়। শরীরে নিয়মিত অ্যাক্রিলামাইড প্রবেশ করলে ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ভেতরের আবরণে হওয়া ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তবে মাঝেমধ্যে সামান্য পোড়া খাবার খাওয়া মানেই ক্যান্সার হবে—এমনটা নয়। মূল উদ্বেগ হলো দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অতিরিক্ত পোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস।

ক্যান্সার ছাড়াও কী ক্ষতি হতে পারে?

নিয়মিত পোড়া খাবার খাওয়ার প্রভাব শুধু ক্যান্সারের ঝুঁকিতেই সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে শরীরে প্রদাহ বাড়তে পারে এবং ইনসুলিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে ডায়াবিটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তাহলে কী করবেন?

খাবার রান্না বা গরম করার সময় যাতে অতিরিক্ত পুড়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা ভালো। খাবারের সামান্য অংশ পুড়ে গেলে সেটি বাদ দেওয়া যেতে পারে। তবে খাবার যদি বেশি কালো হয়ে যায় বা পুড়ে যায়, তা না খাওয়াই নিরাপদ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাঝে মধ্যে সামান্য পোড়া খাবার খাওয়াকে আতঙ্কের কারণ না বানিয়ে নিয়মিত অতিরিক্ত পোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
ইবিতে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল
স্তন ক্যান্সারের ৫ ধাপ: কোন পর্যায়ে কতটা ছড়ালে শরীরে যা ঘটে 
নিউইয়র্কবাসীদের পুষ্টিকর খাবার সহায়তা দিচ্ছে উইক, আবেদন করবেন যেভাবে