ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ইসবগুল নাকি চিয়া সিড, পেটের যত্নে কোনটি বেশি উপকারী?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সকালে ঘুম থেকে উঠে পেট পরিষ্কার না হলে অনেকেরই সারাদিন এক অস্বস্তিকর ভাব নিয়ে থাকতে হয়। পেট ফাঁপা, হজমের গোলযোগ কিংবা অনিয়মিত মলত্যাগের জটিলতায় ভুগে থাকেন অনেকে। এই ধরনের শারীরিক সমস্যায় সাধারণত খাদ্যতালিকায় দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। ফাইবার বা আঁশের চাহিদাপূরণে ইসবগুল ও চিয়া বীজ—দুই-ই বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু শরীরের ভেতরে এদের কাজের ধরন মোটেও এক নয়। ফলে পেটের যত্নে ঠিক কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে আপনার সুনির্দিষ্ট শারীরিক প্রয়োজনের ওপর।

কোষ্ঠকাঠিন্যের উপশমে ইসবগুলের দাপট

হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে ইসবগুল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ইসবগুলের মূল উপাদান ‘সাইলিয়াম হাস্ক’ পানির সংস্পর্শে এলে এক ধরনের ঘন জেলের মতো পদার্থে রূপ নেয়। এটি মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং সেটিকে নরম করে সহজ মলত্যাগে সাহায্য করে। চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ম মেনে ইসবগুল খেলে পেটের গতি স্বাভাবিক হয় ও মলত্যাগের গুণগত মান দ্রুত উন্নত হয়। অন্যদিকে চিয়া বীজেও প্রচুর ফাইবার রয়েছে, যা পানিতে ভিজলে জেলি হয়ে যায়। তবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সরাসরি চিকিৎসায় ইসবগুলের প্রভাব চিয়া বীজের চেয়ে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কে কতটা সফল

রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকেরা দ্রবণীয় ফাইবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে ইসবগুলের পক্ষে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য গবেষণালব্ধ তথ্য রয়েছে। গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিমিত ইসবগুল গ্রহণের সঙ্গে রক্তে বাজে কোলেস্টেরল কমার সরাসরি সংযোগ রয়েছে। চিয়া বীজ রক্তের চর্বি কমাতে কতটা সহায়ক, তা নিয়ে গবেষণা হলেও ফলাফল এখনো পুরোপুরি একমুখী নয়। ফলে কোলেস্টেরল কমানোর চিকিৎসায় চিয়া বীজকে ইসবগুলের বিকল্প ভাবা ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন

পুষ্টিতে এগিয়ে চিয়া বীজ

ইসবগুল মূলত আঁশ সরবরাহ করতেই বেশি কার্যকর। তবে পুষ্টিগুণের বৈচিত্র্যের দিকে তাকালে অল-রাউন্ডার হলো চিয়া বীজ। ফাইবারের পাশাপাশি এই ক্ষুদ্র বীজে রয়েছে প্রচুর উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিজ্জ উপাদান। কেবল পেটের সুস্বাস্থ্য নয়, বরং প্রতিদিনের খাবারে বাড়তি পুষ্টি যুক্ত করতে চাইলে চিয়া বীজ চমৎকার একটি পছন্দ।

ওজন কমানোর চাবিকাঠি কার হাতে

ইসবগুল বা চিয়া বীজ—কোনোটিই সরাসরি মেদ বা ওজন ছাঁটাই করতে পারে না। তবে দুটি খাবারেই প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকে, যা ঘন ঘন অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা রাখে দৈনন্দিন সুষম খাদ্যাভ্যাস, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক পরিশ্রম।

খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সতর্কতা জরুরি

ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা সবচেয়ে জরুরি। পর্যাপ্ত পানি না খেলে হিতে বিপরীত হয়ে পেটে ব্লক তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া কোনো দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ চললে ইসবগুল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এটি ওষুধের শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে চিয়া বীজ বা ইসবগুল কোনোটিই হঠাৎ খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। প্রথমে অল্প পরিমাণে শুরু করে ধীরে ধীরে অভ্যাসে রূপ দেওয়াই শরীরের জন্য নিরাপদ।

সব মিলে আপনার প্রাধান্য যদি হয় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা ও হজম সচল রাখা, তবে খাদ্যতালিকায় ইসবগুলই প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। আর হজম ঠিক রাখার পাশাপাশি দৈনন্দিন প্রোটিন ও ওমেগা-৩ চাহিদা মিটিয়ে শারীরিক পুষ্টি বাড়াতে চাইলে নিয়মিত চিয়া বীজ বেছে নেওয়া যেতে পারে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
চিয়া সিড খাওয়ার সেরা সময় কখন, জেনে নিন উপকারিতা
সকালে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা জানালেন চিকিৎসক
চিয়া, ফ্ল্যাক্স সিড নাকি ইসবগুলের ভুসি? কোনটি আপনার জন্য সেরা 
ইসবগুল সম্পর্কে জেনে নিন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য