ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মুখের মেদ কমাতে চান? কাজে দেবে এই ৮ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ এএম
নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মুখের বাড়তি মেদ কমাতে সহায়তা করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

মুখের গাল, থুতনি কিংবা ঘাড়ে বাড়তি মেদ অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই শুধু মুখের মেদ কমানোর জন্য নানা ধরনের ফিতা, যন্ত্র বা বিশেষ ব্যায়ামের ওপর ভরসা করেন। তবে শরীরের নির্দিষ্ট একটি অংশের মেদ আলাদাভাবে কমানো সহজ নয়। বরং পুরো শরীরের বাড়তি মেদ কমানোর দিকেই নজর দেওয়া বেশি কার্যকর।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ধীরে ধীরে শরীরের মেদ কমতে পারে। এর প্রভাব মুখের গাল ও থুতনিতেও পড়তে পারে। মুখ কিছুটা স্লিম দেখাতেও সহায়তা করতে পারে কয়েকটি সহজ অভ্যাস।

শুধু মুখের মেদ কি আলাদাভাবে কমানো যায়?

শরীরের নির্দিষ্ট একটি জায়গার মেদ কমানোর ধারণাকে লক্ষ্যভিত্তিক মেদ কমানো বলা হয়। তবে শুধু মুখের মেদ কমানোর বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ খুব সীমিত।

শরীরে মেদ বিভিন্ন জায়গায় জমা থাকে। শরীরচর্চার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এসব মেদ শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই শুধু মুখের ব্যায়াম করলেই ওই জায়গার মেদ কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পুরো শরীরের মেদ কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়াই তুলনামূলকভাবে কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি।

আরও পড়ুন

১. মুখের কিছু ব্যায়াম করতে পারেন

মুখের বিভিন্ন ব্যায়াম মুখের পেশি শক্তিশালী করতে এবং মুখের গঠন কিছুটা টানটান রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মুখের ব্যায়াম গালের পেশির গঠন ও মুখের সামগ্রিক সৌন্দর্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এসব ব্যায়াম সরাসরি মুখের মেদ কমায়—এমন শক্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

সহজ কিছু ব্যায়ামের মধ্যে রয়েছে—গাল ফুলিয়ে বাতাস এক পাশ থেকে অন্য পাশে নেওয়া, দুই পাশের ঠোঁট পালা করে সংকুচিত করা এবং কয়েক সেকেন্ড দাঁত চেপে হাসির ভঙ্গি ধরে রাখা।

২. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

হৃদ্‌স্পন্দন বাড়ায় এমন শরীরচর্চা শরীরের মেদ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন—দৌড়ানো, সাইকেল চালানো কিংবা দ্রুত হাঁটা।

এক গবেষণায় ১২ সপ্তাহের নিয়মিত বায়বীয় শরীরচর্চার পর শরীরের ওজন, মেদের পরিমাণ ও কোমরের মাপ কমার পাশাপাশি পেশির পরিমাণ বাড়তে দেখা গেছে।

নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে ভার তোলার ব্যায়াম ও সুষম খাবার যুক্ত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে আরও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীর সুস্থ রাখতে পানির গুরুত্ব অনেক। ওজন নিয়ন্ত্রণেও পর্যাপ্ত পানি পান সহায়ক হতে পারে।

খাবারের আগে পানি পান করা, সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি খাওয়া এবং চিনিযুক্ত বা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করার অভ্যাস ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় কাজে আসতে পারে।

একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব অভ্যাস ১২ সপ্তাহে গড়ে ওজন কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু বেশি পানি খেলেই মেদ কমবে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই।

৪. মদ্যপান কমান

অতিরিক্ত মদ্যপান শরীরের ওজন ও মেদ বাড়াতে পারে। মদ্যপ পানীয়তে অনেক ক্যালরি থাকলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি তুলনামূলকভাবে কম।

এ ছাড়া মদ্যপান শরীর থেকে বেশি পানি বের করে দিতে পারে। এর ফলে শরীরে পানিশূন্যতা এবং অতিরিক্ত পানি জমে শরীর ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। মুখও কিছুটা ফোলা দেখাতে পারে।

৫. পরিশোধিত শর্করা কম খান

বিস্কুট, কেক, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত শস্যজাত খাবারে থাকা পরিশোধিত শর্করা ওজন বাড়াতে এবং শরীরে মেদ জমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এসব খাবার তৈরির সময় অনেক পুষ্টি উপাদান কমে যায় এবং চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

তাই পরিশোধিত শর্করার বদলে পূর্ণ শস্যজাত খাবার বেছে নেওয়া ভালো। এতে সামগ্রিকভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলতে পারে, যার প্রভাব মুখের মেদ কমাতেও পড়তে পারে।

৬. প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমান

শুধু খাবার ও শরীরচর্চা নয়, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও পেট ভরা থাকার অনুভূতির সঙ্গে জড়িত হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

ফলে বেশি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হতে পারে, অপ্রয়োজনীয় নাশতা খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে এবং শরীরে মেদ জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ভালো মানের ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়।

৭. খাবারে লবণ কমান

অতিরিক্ত লবণ খেলে শরীরে পানি জমে যেতে পারে। এর ফলে হাত-পা ছাড়াও মুখে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

শরীরে অতিরিক্ত লবণ যাওয়ার বড় একটি উৎস হলো প্রক্রিয়াজাত খাবার। তাই অতিরিক্ত নোনতা খাবার, প্যাকেটজাত খাবার ও প্রক্রিয়াজাত মাংসের পরিবর্তে তাজা ও স্বাভাবিক খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।

লবণ কম খেলে শরীরে পানি জমে তৈরি হওয়া মুখের ফোলাভাবও কিছুটা কমতে পারে।

৮. খাবারে আঁশ বাড়ান

ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবারের আঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আঁশযুক্ত খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এতে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমতে পারে।

একাধিক গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দ্রবণীয় আঁশ বেশি খেলে ক্যালরি কমানোর আলাদা চেষ্টা না করেও ওজন ও কোমরের মাপ কমতে পারে।

ফল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ, পূর্ণ শস্য ও ডালজাতীয় খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে। তাই প্রতিদিনের খাবারে এসব খাবার রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।

মুখের মেদ কমাতে মূল কথা কী?

মুখের মেদ কমানোর জন্য শুধু মুখের দিকে নজর না দিয়ে পুরো শরীরের বাড়তি মেদ কমানোর চেষ্টা করাই বেশি কার্যকর। নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, কম লবণ ও কম পরিশোধিত শর্করা খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং আঁশযুক্ত খাবার—সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মুখে অতিরিক্ত ফোলাভাব বা মেদ নিয়ে দীর্ঘদিন উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন হলে তিনি এর কারণ বুঝে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
সম্পর্ক শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে। জীবনও নিজের মতো এগিয়ে চলছে। আপনি জানেন, মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না।
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একসময় চুল পড়া বা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে অনেক তরুণের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
আরও পড়ুন
মুখের দাগছোপ দূর করে ত্বক হবে উজ্জ্বল, ঘরেই বানান ৪ প্যাক