ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যায়ামের সময় নেই? ঘরের কাজেই মিলবে উপকার

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, হাঁটা ও ঘরের কাজের মতো দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ডও শরীর ও মন ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনে শরীরচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন। কারও সময়ের অভাব, কারও আবার ব্যায়াম করার সুযোগ নেই। ফলে নিয়মিত শরীরচর্চা না করার একটা অজুহাত তৈরি হয়। কিন্তু শরীরকে সচল রাখতে সবসময় দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র কয়েক মিনিটের শারীরিক কর্মকাণ্ডও মন-মেজাজ ও শক্তির মাত্রা বাড়াতে পারে। এমনকি সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, ঘরের কাজ করা কিংবা অল্প সময় হাঁটাও শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে।

মাত্র কয়েক মিনিটের নড়াচড়াতেই বদলাতে পারে মন

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার’ নামের গবেষণা সাময়িকীতে। গবেষকেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৮ হাজার মানুষের ওপর নজর রাখেন। তাদের বিশ্লেষণে ছিল ৬৭টি আলাদা তথ্যভান্ডার থেকে পাওয়া ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি মেজাজ-সংক্রান্ত মূল্যায়ন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তির স্বাভাবিক দৈনন্দিন চলাফেরার তুলনায় সামান্য বেশি শারীরিক কর্মকাণ্ড করলেও মন-মেজাজ ও শক্তির মাত্রায় দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

অর্থাৎ ব্যায়াম বলতে শুধু শরীরচর্চার নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে কঠিন অনুশীলন করাকেই বোঝায় না। দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক নড়াচড়ারও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

সিঁড়ি ভাঙা থেকে ঘরের কাজ—সবই কাজে আসতে পারে

গবেষণায় হালকা ও মাঝারি মাত্রার বিভিন্ন শারীরিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল হাঁটা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা এবং নিয়মিত ঘরের কাজ।

তাই লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, অল্প দূরত্বে হেঁটে যাওয়া কিংবা ঘর পরিষ্কার করার মতো কাজও শরীরকে সচল রাখার সুযোগ তৈরি করে।

এর জন্য আলাদা করে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। নিজের দৈনন্দিন চলাফেরার পরিমাণ সামান্য বাড়িয়েও উপকার পাওয়া সম্ভব।

শরীরচর্চা বাড়ায়, মনও ভালো থাকে

গবেষণায় শারীরিক কর্মকাণ্ড ও মন-মেজাজের মধ্যে দুই দিকের সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ শরীরচর্চা মন ভালো করতে পারে, আবার মন ভালো থাকলে আরও বেশি নড়াচড়া করার আগ্রহও তৈরি হতে পারে।

শারীরিক কর্মকাণ্ডের ফলে শরীরে কিছু রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ বাড়ে, যা আনন্দ, আগ্রহ ও কাজ করার ইচ্ছার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে সামান্য পরিশ্রম দিয়েই এক ধরনের ইতিবাচক চক্র তৈরি হতে পারে।

ব্যায়ামের জন্য আলাদা সময় না পেলেও উপায় আছে

শরীরচর্চা শুরু করার জন্য বড় কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। বরং ছোট কাজ দিয়ে শুরু করাই সহজ।

যারা দৌড়াতে পারেন না, তারা হাঁটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। শরীরচর্চার জায়গায় যাওয়ার সুযোগ না থাকলে বাড়িতেই অনুশীলন করা যায়। সময় কম থাকলে দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে শরীরচর্চা মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

যেমন দাঁত পরিষ্কার করার সময় হালকা ওঠবস করা, অল্প সময় হাঁটা কিংবা সিঁড়ি ব্যবহার করার অভ্যাস করা যেতে পারে। নিয়মিত করার জন্য পরিবারের সদস্য বা বন্ধুর সাহায্যও নেওয়া যায়।

উৎসাহের অপেক্ষায় না থেকে শুরু করাই গুরুত্বপূর্ণ

অনেকেই শরীরচর্চা শুরু করার আগে উৎসাহ বা আগ্রহ তৈরি হওয়ার অপেক্ষা করেন। কিন্তু গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় কাজ শুরু করার পরই আগ্রহ তৈরি হয়।

ছোট একটি কাজ দিয়ে শুরু করলে সেটি সফলভাবে শেষ করার পর নিজের মধ্যে আরও কিছু করার আগ্রহ তৈরি হতে পারে। এভাবেই ধীরে ধীরে শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে।

তাই একসঙ্গে অনেক কিছু করার চেষ্টা না করে প্রথমে অল্প সময় হাঁটা, কয়েকবার ওঠবস করা বা সিঁড়ি ব্যবহার করার মতো সহজ কাজ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

বাইরে হাঁটলেও বাড়তে পারে মানসিক স্বস্তি

শারীরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাইরে সময় কাটানোরও মানসিক উপকার রয়েছে। পার্ক, হাঁটার পথ কিংবা সবুজ পরিবেশে কিছু সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে এবং মন ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

নতুন কোনো হাঁটার পথ খুঁজে দেখা, নতুন জায়গা ঘুরে দেখা কিংবা সহজ কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়াও শরীর ও মনের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।

শরীরচর্চা মানেই কঠিন অনুশীলন নয়

নতুন গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—শরীরকে সচল রাখতে সবসময় কঠিন বা দীর্ঘ সময়ের ব্যায়াম প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট নড়াচড়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, ঘর পরিষ্কার করা, অল্প সময় হাঁটা কিংবা দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে কিছুটা শরীরচর্চা—এসবই শরীরকে সচল রাখার সহজ উপায় হতে পারে।

তাই সময়ের অভাবে শরীরচর্চা বাদ দেওয়ার আগে ভাবুন, আপনার চারপাশেই হয়তো রয়েছে সহজ কিছু সুযোগ। আজ থেকেই কয়েক মিনিট দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। ছোট সেই অভ্যাসই ধীরে ধীরে শরীর ও মন ভালো রাখার বড় সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
লো প্রেশার থাকলে ব্যায়ামের আগে জানুন এই সতর্কতা 
মাত্র ১০ মিনিটেই করুন পুরো শরীরের ব্যায়াম
মন ভালো রাখতে মানুন ৪ সহজ অভ্যাস
৯০ মিনিটের ওয়ার্কআউটের চেয়েও কার্যকর হতে পারে ৩ মিনিটের ব্যায়াম