ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

শুধু ৮০-তেই নয়, নব্বইয়ের নস্টালজিয়ায় মাততে চ্যাটজিপিটিকে যে নির্দেশ দেবেন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ববিতা : ছবি সংগৃহীত

নব্বইয়ের দশক বলতে বুঝি ক্যাসেট, রঙিন টেলিভিশন, স্টুডিয়োতে ছবি তোলার আলাদা আয়োজন আর ফিল্ম ক্যামেরায় ধরা পড়া কিছুটা দানাদার ছবি। সেই সময়ের ফ্যাশন, চুলের স্টাইল কিংবা ছবির রঙ সবকিছুর মধ্যেই ছিল আলাদা এক নস্টালজিয়া। এখন সেই সময়ের আবহে নিজের ছবি দেখতে চাইলে ফিরে যেতে হবে না অতীতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কয়েক মুহূর্তেই নিজের আপলোড করা ছবিকে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতির মতো করে তোলা সম্ভব।

বিশেষ করে চ্যাটজিপিটিতে নিজের ছবি আপলোড করে ছবির ধরন, পোশাক, আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ক্যামেরার আবহ সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। শুধু ‘নব্বইয়ের দশকের ছবি বানিয়ে দিন’ বলার বদলে ছবিতে কী কী পরিবর্তন চান, তা স্পষ্ট করে লিখলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও নির্দিষ্টভাবে কাজ করতে পারে।

স্টুডিয়োর পুরোনো দিনের পোর্ট্রেট

নব্বইয়ের দশকে স্টুডিয়োতে তোলা পোর্ট্রেটের কথা মনে আছে? সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড, স্টুডিয়োর আলো আর ফিল্ম ক্যামেরার স্বাভাবিক দানাদার আবহ থাকতো তখনকার ছবিগুলোতে। নিজের ছবিকেও সেই সময়ের পোর্ট্রেটের মতো করে তুলতে চ্যাটজিপিটিকে এমন নির্দেশ দিতে পারেন, আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের একটি বাস্তবসম্মত স্টুডিয়ো পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। আমার মুখের গড়ন, পরিচিতি, ত্বকের স্বাভাবিক রং এবং অভিব্যক্তি যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। আমাকে নব্বইয়ের দশকের উপযোগী ক্লাসিক চুলের স্টাইল ও পোশাক দিন। পেছনে সাধারণ স্টুডিয়ো ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সেই সময়ের স্টুডিয়ো লাইটিং ব্যবহার করুন। ছবিতে বাস্তব ফিল্ম ক্যামেরার মতো হালকা অ্যানালগ গ্রেন, কিছুটা ফিকে রং এবং সামান্য প্রাকৃতিক অসম্পূর্ণতা রাখুন। ছবিটি যেন আধুনিক ডিজিটাল ছবির মতো অতিরিক্ত পরিষ্কার বা ঝকঝকে না হয়।

এ ধরনের নির্দেশে ছবিতে শুধু পুরোনো ফিল্টার বসানোর বদলে পুরো দৃশ্যটিকেই নব্বইয়ের দশকের আবহে সাজানোর চেষ্টা করা যায়।

ছুটির দিনের ছবিতে নব্বইয়ের আমেজ

নব্বইয়ের দশকের পারিবারিক ছুটির ছবির আলাদা আকর্ষণ ছিল। ছবিতে নিখুঁত পোজের চেয়ে স্বাভাবিক মুহূর্তই বেশি ধরা পড়ত। রোদেলা কোনো ভ্রমণস্থল, সাধারণ পোশাক, হাসিমুখ আর ফিল্ম ক্যামেরার হালকা রঙ এই আবহ নিজের ছবিতেও তৈরি করা যায়।

এ ক্ষেত্রে নির্দেশ দিতে পারেন, আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের একটি স্বতঃস্ফূর্ত ছুটির দিনের ছবিতে রূপান্তর করুন। আমার মুখ ও পরিচিতি যেন স্বাভাবিক ও সহজে চেনা যায়। আমাকে নব্বইয়ের দশকের উপযোগী ভ্রমণের পোশাক পরিয়ে দিন এবং রোদেলা কোনো ছুটির পরিবেশে রাখুন। ছবিতে সাধারণ কনজিউমার ফিল্ম ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলুন। হালকা ওয়াশড-আউট হাইলাইট, উষ্ণ রঙ, অ্যানালগ ফিল্ম গ্রেন এবং সামান্য অসম্পূর্ণ ফ্রেমিং রাখুন। শরীরের ভঙ্গি যেন স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়। পুরো ছবিটি যেন নব্বইয়ের দশকের একটি সত্যিকারের পারিবারিক ছুটির ছবির মতো দেখায়।

এতে আধুনিক ফটোগ্রাফির নিখুঁত কম্পোজিশনের বদলে পুরোনো দিনের অ্যালবামে পাওয়া কোনো স্মৃতির মতো আবহ তৈরি হতে পারে।

বলিউডের নব্বইয়ের দশকের গ্ল্যামার

নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় সিনেমার ফ্যাশন ও পোর্ট্রেটের কথাও আলাদা করে মনে রাখার মতো। সেই সময়ের পোশাক, চুলের স্টাইল, গয়না বা অন্যান্য অনুষঙ্গ এবং নাটকীয় স্টুডিয়ো আলো মিলিয়ে তৈরি করা যেত ঝলমলে প্রচারমূলক ছবি। নিজের ছবিতে সেই আবহ আনতেও চ্যাটজিপিটিকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া যায়।

বাংলায় এমন নির্দেশ লিখতে পারেন, আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত একটি জমকালো পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। আমার মুখের গড়ন, পরিচিতি এবং স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। আমাকে নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় ফ্যাশন, চুলের স্টাইল ও উপযোগী অনুষঙ্গে সাজিয়ে দিন। ছবিতে নাটকীয় স্টুডিয়ো লাইটিং, সমৃদ্ধ কিন্তু সামান্য ফিকে রঙ, সফট ফোকাস এবং বাস্তবসম্মত অ্যানালগ ফিল্ম গ্রেন ব্যবহার করুন। ছবিটি যেন নব্বইয়ের দশকের কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্রের ম্যাগাজিন শুট বা প্রচারমূলক ফটোগ্রাফির মতো মনে হয়। শুধু আধুনিক ছবির ওপর ভিন্টেজ ফিল্টার বসানো হয়েছে এমন যেন না লাগে।

শুধু ফিল্টার নয়, বদলাতে হবে পুরো আবহ

এ ধরনের ছবি তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্দেশ যত নির্দিষ্ট হবে, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। শুধু ‘নব্বইয়ের দশকের ছবি’ বললে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো কেবল রঙ বা গ্রেন পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু পোশাক, চুলের স্টাইল, ব্যাকগ্রাউন্ড, আলোর ধরন, ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য এবং ছবির পরিবেশ সম্পর্কে আলাদা করে নির্দেশ দিলে ফল অনেক বেশি নির্দিষ্ট হতে পারে।

তবে নিজের মুখের পরিচিতি ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার কথাটিও নির্দেশে উল্লেখ করা ভালো। এতে ছবিটিকে নিজের মতো রাখার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত সময়ের ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফির আবহ যোগ করা সহজ হয়।

সবশেষে, নব্বইয়ের দশকের ছবি তৈরি করার আসল মজাটা হলো নিজের বর্তমান চেহারার সঙ্গে সেই সময়ের ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফির নস্টালজিয়াকে মিলিয়ে দেখা। স্টুডিয়ো পোর্ট্রেট হোক, পারিবারিক ছুটির ছবি কিংবা বলিউড-অনুপ্রাণিত গ্ল্যামার শুট সঠিক নির্দেশনা দিলে কয়েক মুহূর্তেই নিজের জন্য তৈরি করে নিতে পারেন সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের একটি কাল্পনিক স্মৃতি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
আরও পড়ুন
তরুণদের ক্ষতির অভিযোগে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ অঙ্গরাজ্যের মামলা
এলো নতুন এআই অ্যাপ মিউজ, পেছনে ফেলল চ্যাটজিপিটিকে
চ্যাটজিপিটিতে মুছে ফেলা তথ্য কি ফেরত আনা যায়?
পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা, পরে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ