ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
একসময় চিঠি ও প্রয়োজনীয় নথি আদান-প্রদানের প্রধান মাধ্যম ছিল ডাকসেবা। প্রযুক্তির যুগেও পার্সেল ও জনসেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ডাকব্যবস্থা। ছবি: সংগৃহীত

একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন। সময়ের সঙ্গে সেই চিঠির জায়গা নিয়েছে মুঠোফোন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তবু চিঠি, প্রয়োজনীয় নথি, টাকা ও পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাকসেবার গুরুত্ব এখনো রয়েছে।

আজ ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডাক দিবস। ডাকসেবার ঐতিহাসিক অবদান, বর্তমান ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্নে প্রতিষ্ঠিত হয় জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন, যা পরে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন নামে পরিচিতি লাভ করে। আন্তর্জাতিক ডাকব্যবস্থার সমন্বয় ও উন্নয়নে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে সংস্থাটির কংগ্রেসে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ স্থাপন, সরকারি ও ব্যবসায়িক নথি, বই এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে দীর্ঘদিন ধরে ডাকব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং পার্সেল পরিবহনে ডাকসেবার প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়েছে।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এবারের প্রতিপাদ্য: সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সাধারণত মূল ডাকসেবা ও এজেন্সি সেবা—এই দুই ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। মূল ডাকসেবার মধ্যে রয়েছে সাধারণ ও রেজিস্টার্ড চিঠি, দ্রুত ডাক, দেশি-বিদেশি পার্সেল, টাকা পাঠানো এবং ডাকটিকিট বিক্রি। রেজিস্টার্ড চিঠির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নথি পাঠানো যায়। গ্যারান্টিযুক্ত দ্রুত ডাক এবং দ্রুত ডাকসেবার মাধ্যমে চিঠি ও ছোট প্যাকেট দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় দ্রুত ইএমএস (EMS - Express Mail Service) ডাকসেবায় নির্দিষ্ট ওজনের পার্সেল (২০ গ্রাম থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত) ও দলিল পাঠানো এবং সেগুলোর অবস্থান অনুসরণের সুযোগ রয়েছে।

ডাক বিভাগের মাধ্যমে সাধারণ ও ইলেকট্রনিক মানি অর্ডারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা পাঠানো যায়। পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে টাকা লেনদেন ও সংরক্ষণের সুবিধাও রয়েছে। এছাড়া মূল্যে আদায়যোগ্য পার্সেল ও রেজিস্টার্ড চিঠি, জেলা শহরগুলোতে দ্রুত চিঠি ও পার্সেল বিলি, স্মারক ডাকটিকিট বিক্রি এবং অনলাইন ব্যবসার পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহে সহায়তার জন্য পণ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মতো সেবাও রয়েছে।

মূল ডাকসেবার পাশাপাশি ডাক বিভাগ বিভিন্ন সরকারি আর্থিক ও দাপ্তরিক সেবাও দিয়ে থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে ডাক জীবনবিমা, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র কেনাবেচা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাইজ বন্ড কেনা ও ভাঙানো, বিড়ির ব্যান্ডারোল মুদ্রণ ও বিক্রি এবং বিভিন্ন সরকারি ফি ও স্ট্যাম্পের জন্য ডাকবহির্ভূত টিকিট মুদ্রণ ও বিতরণ।

তবে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে ডাকসেবার সামনে তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় মানুষ এখন দ্রুত যোগাযোগের জন্য ই-মেইল, মুঠোফোন ও বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম ব্যবহার করছে। এ পরিস্থিতিতে ডাকসেবাকে আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পার্সেল সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

বাংলাদেশেও ডাকব্যবস্থার রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল ডাকঘর। চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও জনসেবামূলক কাজেও ডাকব্যবস্থা ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমানে কুরিয়ার সেবা, অনলাইন কেনাকাটা ও ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসারে ডাকসেবার ধরন বদলেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সামনে সেবার মান বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে আরও অবদান রাখতে পারে ডাকব্যবস্থা।

বিশ্ব ডাক দিবস কেবল অতীতের ঐতিহ্য স্মরণের দিন নয়, বরং ভবিষ্যতের ডাকসেবা নিয়ে ভাবারও উপলক্ষ। প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয়, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা গেলে ডাকব্যবস্থা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। চিঠির আবেগময় দিন বদলে গেলেও দূরত্ব কমিয়ে মানুষকে কাছে আনার ডাকসেবার মূল উদ্দেশ্য আজও গুরুত্বপূর্ণ।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
ঘামের গন্ধ দূর করতে বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম কোনটি সেরা?
সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শখ করে দামি পারফিউম স্প্রে করলেন। কিন্তু লোকাল বাসের ভিড় ঠেলে কিংবা কিছুটা হেঁটে অফিসে পৌঁছাতেই দেখা গেল, শরীর থেকে উধাও হয়ে গেছে সুগন্ধ। উল্টো ঘামের দুর্গন্ধে নিজেই অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই হয়। অনেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য সুগন্ধির ব্র্যান্ড কিংবা মানকে দায়ী করেন। তবে বাস্তবে সমস্যাটা অনেক সময় সুগন্ধির নয়, বরং ভুল ধরনের পণ্য ব্যবহারের। বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম তিনটিই সুগন্ধি পণ্য হলেও এদের কাজ এক নয়। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা, ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী সুবাস ধরে রাখার জন্য আলাদা ধরনের পণ্য প্রয়োজন। তাই কখন কোনটি ব্যবহার করা উচিত, তা জানা জরুরি। ডিওডোরেন্ট প্রতিদিন বাইরে বের হতে হয়, গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হয় কিংবা দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে থাকতে হয় এমন মানুষের জন্য ডিওডোরেন্ট বেশ কার্যকর। সাধারণভাবে ঘামের নিজস্ব গন্ধ থাকে না। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে ক্রিয়া করে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। ডিওডোরেন্টের মূল কাজ হলো সেই দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা। এতে সুগন্ধি উপাদানের পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক উপাদান থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সব ডিওডোরেন্ট ঘাম বন্ধ করে না। ঘাম কমানোর জন্য ব্যবহৃত পণ্যকে সাধারণত ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ বলা হয়। এতে ঘামগ্রন্থির কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমাতে অ্যালুমিনিয়াম-ভিত্তিক উপাদান থাকতে পারে। তাই ঘামের গন্ধ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলে ডিওডোরেন্ট উপকারী, আর অতিরিক্ত ঘাম কমাতে চাইলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট বেছে নেওয়া যেতে পারে। পারফিউম বিয়ে, পার্টি, করপোরেট মিটিং কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় সুবাসের জন্য পারফিউমের জুড়ি নেই। পারফিউমে সুগন্ধি তেলের ঘনত্ব সাধারণত বডি মিস্টের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এর সুবাস তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে পারফিউমের মূল কাজ ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা নয়; এটি মূলত শরীর বা পোশাকে কাঙ্ক্ষিত সুবাস যোগ করে। তাই প্রচণ্ড ঘামে ভেজা শরীরে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বরং ঘামের গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের তীব্র সুবাস মিশে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি করতে পারে। বডি মিস্ট বডি মিস্ট হলো তুলনামূলকভাবে হালকা ধরনের সুগন্ধি। এতে সুগন্ধি উপাদানের ঘনত্ব পারফিউমের চেয়ে কম থাকায় এর সুবাসও সাধারণত কোমল ও স্নিগ্ধ হয়। যারা তীব্র সুগন্ধি পছন্দ করেন না কিংবা হালকা সতেজ অনুভূতি চান, তাদের জন্য বডি মিস্ট ভালো বিকল্প হতে পারে। গোসলের পর, বাসায় থাকার সময় কিংবা বিকেলে হাঁটতে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে বডি মিস্টের সুবাস সাধারণত পারফিউমের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার ব্যবহার করতে হতে পারে। তাহলে কোনটি আপনার জন্য? ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু পারফিউমের ওপর নির্ভর না করে ডিওডোরেন্ট বা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। আর দীর্ঘ সময় শরীরে সুন্দর সুবাস ধরে রাখতে চাইলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পর পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার ও শুকনো শরীরে এগুলো ব্যবহার করাই ভালো। অন্যদিকে, যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট হতে পারে আদর্শ। অর্থাৎ, তিনটি পণ্যের কাজ তিন রকম। ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ডিওডোরেন্ট, ঘাম কমাতে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, দীর্ঘস্থায়ী সুবাসের জন্য পারফিউম আর হালকা সতেজ অনুভূতির জন্য বডি মিস্ট—ব্যবহারটা হওয়া উচিত প্রয়োজন বুঝে। আরটিভি/এসকে
ঘামের গন্ধ দূর করতে বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম কোনটি সেরা?
ঘামের গন্ধ দূর করতে বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম কোনটি সেরা?
সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শখ করে দামি পারফিউম স্প্রে করলেন। কিন্তু লোকাল বাসের ভিড় ঠেলে কিংবা কিছুটা হেঁটে অফিসে পৌঁছাতেই দেখা গেল, শরীর থেকে উধাও হয়ে গেছে সুগন্ধ। উল্টো ঘামের দুর্গন্ধে নিজেই অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই হয়। অনেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য সুগন্ধির ব্র্যান্ড কিংবা মানকে দায়ী করেন। তবে বাস্তবে সমস্যাটা অনেক সময় সুগন্ধির নয়, বরং ভুল ধরনের পণ্য ব্যবহারের। বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম তিনটিই সুগন্ধি পণ্য হলেও এদের কাজ এক নয়। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা, ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী সুবাস ধরে রাখার জন্য আলাদা ধরনের পণ্য প্রয়োজন। তাই কখন কোনটি ব্যবহার করা উচিত, তা জানা জরুরি। ডিওডোরেন্ট প্রতিদিন বাইরে বের হতে হয়, গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হয় কিংবা দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে থাকতে হয় এমন মানুষের জন্য ডিওডোরেন্ট বেশ কার্যকর। সাধারণভাবে ঘামের নিজস্ব গন্ধ থাকে না। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে ক্রিয়া করে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। ডিওডোরেন্টের মূল কাজ হলো সেই দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা। এতে সুগন্ধি উপাদানের পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক উপাদান থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সব ডিওডোরেন্ট ঘাম বন্ধ করে না। ঘাম কমানোর জন্য ব্যবহৃত পণ্যকে সাধারণত ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ বলা হয়। এতে ঘামগ্রন্থির কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমাতে অ্যালুমিনিয়াম-ভিত্তিক উপাদান থাকতে পারে। তাই ঘামের গন্ধ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলে ডিওডোরেন্ট উপকারী, আর অতিরিক্ত ঘাম কমাতে চাইলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট বেছে নেওয়া যেতে পারে। পারফিউম বিয়ে, পার্টি, করপোরেট মিটিং কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় সুবাসের জন্য পারফিউমের জুড়ি নেই। পারফিউমে সুগন্ধি তেলের ঘনত্ব সাধারণত বডি মিস্টের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এর সুবাস তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে পারফিউমের মূল কাজ ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা নয়; এটি মূলত শরীর বা পোশাকে কাঙ্ক্ষিত সুবাস যোগ করে। তাই প্রচণ্ড ঘামে ভেজা শরীরে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বরং ঘামের গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের তীব্র সুবাস মিশে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি করতে পারে। বডি মিস্ট বডি মিস্ট হলো তুলনামূলকভাবে হালকা ধরনের সুগন্ধি। এতে সুগন্ধি উপাদানের ঘনত্ব পারফিউমের চেয়ে কম থাকায় এর সুবাসও সাধারণত কোমল ও স্নিগ্ধ হয়। যারা তীব্র সুগন্ধি পছন্দ করেন না কিংবা হালকা সতেজ অনুভূতি চান, তাদের জন্য বডি মিস্ট ভালো বিকল্প হতে পারে। গোসলের পর, বাসায় থাকার সময় কিংবা বিকেলে হাঁটতে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে বডি মিস্টের সুবাস সাধারণত পারফিউমের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার ব্যবহার করতে হতে পারে। তাহলে কোনটি আপনার জন্য? ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু পারফিউমের ওপর নির্ভর না করে ডিওডোরেন্ট বা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। আর দীর্ঘ সময় শরীরে সুন্দর সুবাস ধরে রাখতে চাইলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পর পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার ও শুকনো শরীরে এগুলো ব্যবহার করাই ভালো। অন্যদিকে, যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট হতে পারে আদর্শ। অর্থাৎ, তিনটি পণ্যের কাজ তিন রকম। ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ডিওডোরেন্ট, ঘাম কমাতে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, দীর্ঘস্থায়ী সুবাসের জন্য পারফিউম আর হালকা সতেজ অনুভূতির জন্য বডি মিস্ট—ব্যবহারটা হওয়া উচিত প্রয়োজন বুঝে। আরটিভি/এসকে
ঘামের গন্ধ দূর করতে বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম কোনটি সেরা?
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নকল’ বা ‘প্লাস্টিকের ডিম’ নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, অনেকেই এই ডিম বাজার থেকে কিনে এনে ঠকছেন। শরীরেরও বারোটা বাজছে। তবে ডিমের মান যাচাইয়ে প্রচলিত কিছু ঘরোয়া পরীক্ষার বদলে খোসার অবস্থা, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ-চেহারা পরীক্ষা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নকল ডিম তৈরি হয় রাসায়নিক দিয়ে। সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে দেশের অনেক বাজারে। তবে আসল ডিমের সঙ্গে এই ডিমের তফাত বোঝা খুব একটা কঠিন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিম কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা। খুচরা বিক্রির জন্য ডিম কেনার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ডিম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেভাবে বুঝবেন ‘আসল ডিম’ নাকি ‘প্লাস্টিকের’ ১. প্রথমেই নজর রাখতে হবে ডিমের খোলসের দিকে। আসল ডিমের খোলস হয় একটু এবড়ো-খেবড়ো। কিন্তু প্লাস্টিক ডিমের খোলস হবে একদম মসৃণ। তবে কেবল উপরিভাগ দেখে ডিমকে নকল বলে নির্ধারণ করা যায় না। ২. ডিম পরীক্ষা করার জন্য একে কানের কাছে ধরে আলতো করে ঝাঁকান। তাজা ডিমে সাধারণত শব্দ হয় না বা ভেতরে নড়াচড়া অনুভূত হয় না। পুরোনো ডিমে ভেতরের পরিবর্তনের কারণে হালকা শব্দ হতে পারে বা তরল পদার্থ নড়তে পারে। ৩. আসল ডিম আর নকলের মধ্যে ওজনের তফাত হবে। আসল ডিম হবে তার আকারের থেকে একটু ভারী। কিন্তু প্লাস্টিক ডিম ওজনে হালকা। ৪. আসল আর নকল ডিমের মধ্যে সব থেকে সহজ তফাত বুঝিয়ে দেয় আরেকটি পরীক্ষা। একটি গ্লাসে পানি নিয়ে ডিম তাতে ফেলে দিন। আসল নকল হলে তা ডুবে যাবে। ৫. গন্ধ দ্বারা শনাক্ত করুন। একটি নষ্ট ডিমে অপ্রীতিকর বা তীব্র গন্ধ থাকতে পারে। কখনো কখনো, ডিম ভাঙার আগেও এর খারাপ হওয়ার লক্ষণ বোঝা যায়। যদি কোনও ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে, তবে সেটি না খাওয়াই ভালো। বিশেষজ্ঞ নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিম ভালোভাবে রান্না করাও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউএসডিএ-এর পরামর্শ হলো ডিম এমনভাবে রান্না করা, যাতে কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে জমে যায়। ডিমযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রেও নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বাজার থেকে ডিম কেনার সময় শুধু ‘আসল না নকল’ নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে খোসা অক্ষত কি না, ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না এবং ব্যবহারের আগে এর গন্ধ ও চেহারা স্বাভাবিক কি না- এসব বিষয়ই আগে দেখুন। আরটিভি/টিআর
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
আজ পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন
পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সাধারণত কোনো অভিযোগ, সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিকে ঘিরেই হয়।
আজ পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন
আরও পড়ুন
এখন প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র!
ডাক্তার নেই, নদী পেরিয়ে সদরে যাওয়ার আগেই মরে ‘আদরের পশু’
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৬
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি