ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাক্তার নেই, নদী পেরিয়ে সদরে যাওয়ার আগেই মরে ‘আদরের পশু’

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
ছবি : আরটিভি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি চর—মাঝের চর। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনঘেঁষা বলেশ্বর নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা এ চরটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাঝের চর’ নামে পরিচিত। চল্লিশের দশকে জেগে ওঠা চরটির আয়তন প্রায় ৮৪০ একর।

এই চরাঞ্চলে শত শত পরিবার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে। অনেকের কাছে পশুই পরিবারের সঞ্চয়, আবার কারও কাছে স্বাবলম্বী হওয়ার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু পর্যাপ্ত সরকারি প্রাণিচিকিৎসা না থাকায় সেই স্বপ্ন এখন ঝুঁকির মুখে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাঝের চরে প্রায় ২২০টি পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের রয়েছে কয়েক হাজার গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি। কিন্তু চরটিতে স্থায়ী কোনো ভেটেরিনারি সার্জন বা প্রাণিচিকিৎসক না থাকায় পশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এ সংকটকে আরও তীব্র করেছে। কোনো পশু অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য খামারিদের ছুটতে হয় মাইলের পর মাইল নদীপথ পেরিয়ে উপজেলা সদরে। বর্ষায় উত্তাল বলেশ্বর নদী পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাতের বেলায় নৌযান না থাকায় জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও থাকে না। অনেক সময় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ট্রলারের ওপর অসুস্থ পশুর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু জরুরি চিকিৎসাই নয়, নিয়মিত টিকাদান, কৃমিনাশক প্রয়োগ ও রোগ প্রতিরোধের মৌলিক সেবা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে স্থানীয় অনভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। এতে ভুল চিকিৎসায় পশুর মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে।

চরবাসীর কাছে গরু-মহিষ-ছাগল শুধু গৃহপালিত প্রাণী নয়। এগুলো তাদের বছরের পর বছর ধরে জমানো সম্পদ। একটি গরু মারা গেলে অনেক পরিবারের ঘরে নেমে আসে আর্থিক সংকট। অথচ জরুরি মুহূর্তে কয়েক কিলোমিটার নদীপথই হয়ে দাঁড়ায় চিকিৎসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় বাধা।

মাঝের চরের বাসিন্দাদের দাবি, চরাঞ্চলে নিয়মিত প্রাণিচিকিৎসা কার্যক্রম চালু করার পাশাপাশি একজন স্থায়ী প্রাণিচিকিৎসক বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হলে তাদের পশুসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুর আলম সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। মাঝের চর একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় সেখানে যেতে অনেক সময় সমস্যা হয়। মাঝে মাঝে ট্রলারে করে পশু নিয়ে এসে নদীর পাড়ে বসেই চিকিৎসা দিতে হয়। অনেক সময় ফোনের মাধ্যমেও চিকিৎসা-পরামর্শ দেওয়া হয়। আবার প্রয়োজন হলে চরাঞ্চলের মানুষ পশু হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন। প্রয়োজনীয় পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা কখনো বাংলাদেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না মন্তব্য করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তার অপরাধকে চিরতরে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা কখনো বাংলাদেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
মুসল্লিদের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম
জামালপুরের মেলান্দহে সোনার হার দেওয়ার কথা বলে এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে মুসল্লিদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইমামের বিরুদ্ধে। মসজিদের ইমাম হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই ঘটনায় ঐতিহ্যবাহী মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের (৩০) বাদী হয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ঢাকার ৩১২ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির ফরিদাবাদ এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগীরা জানান সূত্রে জানা গেছে, মুফতি মিজানুর রহমান তিন মাস আগে ৪০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানির শর্তে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি মসজিদের নির্দিষ্ট আবাসনে সপরিবারে অবস্থান করছিলেন। হংকং থেকে তার এক আত্মীয়র পাঠানো সোনা এয়ারপোর্ট থেকে ছাড়িয়ে আনতে টাকার প্রয়োজনের কথা বলে গত মঙ্গলবার তিনি ১৪ থেকে ১৫ জন বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। পরে সেদিন রাতেই সপরিবারে তিনি নিরুদ্দেশ হন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টাসহ নানা মাধ্যমে তার খোঁজ না পেয়ে থানায় অভিযোগের সিদ্ধান্ত নেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের পক্ষে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এতে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মেলান্দহ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম হক বলেন, মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার অভিযোগে করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
মুসল্লিদের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সরকারি কর্মকর্তার কাছে নারী, অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাচ্ছেন মফিজুর রহমান।
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সরকারি কর্মকর্তার কাছে নারী, অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া নারী পরিচয়ে প্রথমে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। এরপর তা ধীরে ধীরে গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। প্রায় চার মাস আগে মোবাইল ফোনে ‘বিয়ে’ করে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখতে থাকেন ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তি ও ‘সুমাইয়া আক্তার’। এরই মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩ লাখেরও বেশি টাকা।  বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফাঁস হয় প্রতারণার পুরো রহস্য। ‘সুমাইয়া’ আসলে কোনো নারী নন, তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শান্ত আলী (২০) নামের এক তরুণ। ভুক্তভোগী ৪৮ বছর বয়সি প্রবাসী ঢাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে এক নারী পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামের ওই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চার মাস আগে শান্ত আলী ওই প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ের একটি ভুয়া সম্পর্ক তৈরি করেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর কথিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে থাকে শান্তর প্রতারণা। সম্পর্কের সুযোগে বিভিন্ন অজুহাতে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখেরও বেশি টাকা নেন শান্ত। প্রতারণার বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে শান্ত তার বাবাকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে ‘শ্বশুর’ পরিচয়ে কথা বলাতেন বলে জানা গেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে গন্ডবিল গ্রামে শান্ত আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় শান্তর মোবাইলে হঠাৎ ফোন করেন ওই ইতালি প্রবাসী। তখন পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, এতদিন যার সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন, সেই ‘সুমাইয়া আক্তার’ আসলে একজন পুরুষ। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, গ্রেপ্তার শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারের পর ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি জানা যায়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আরটিভি/টিআর
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ
বাংলাদেশে এটাই প্রথম সফর, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়: জার্মান পর্যটক
বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন কিরিল। তখন নিজের জিনিসপত্র বিশ্বাস করে একজনের কাছে রেখে যান তিনি।
বাংলাদেশে এটাই প্রথম সফর, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়: জার্মান পর্যটক
আরও পড়ুন
পাঠাগারে ‘জ্ঞানের আলো’, তরুণদের কাছে মোবাইলই ভালো!
সোয়া হাতের জুতার গল্প, ২০০ বছরের কুঠিবাড়িতে যত রহস্য
ট্যাক্সের হিসাব আছে, ডাস্টবিনের ময়লা সরানোর হিসাব নেই
বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা