
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি চর—মাঝের চর। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনঘেঁষা বলেশ্বর নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা এ চরটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাঝের চর’ নামে পরিচিত। চল্লিশের দশকে জেগে ওঠা চরটির আয়তন প্রায় ৮৪০ একর।
এই চরাঞ্চলে শত শত পরিবার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে। অনেকের কাছে পশুই পরিবারের সঞ্চয়, আবার কারও কাছে স্বাবলম্বী হওয়ার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু পর্যাপ্ত সরকারি প্রাণিচিকিৎসা না থাকায় সেই স্বপ্ন এখন ঝুঁকির মুখে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাঝের চরে প্রায় ২২০টি পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের রয়েছে কয়েক হাজার গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি। কিন্তু চরটিতে স্থায়ী কোনো ভেটেরিনারি সার্জন বা প্রাণিচিকিৎসক না থাকায় পশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এ সংকটকে আরও তীব্র করেছে। কোনো পশু অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য খামারিদের ছুটতে হয় মাইলের পর মাইল নদীপথ পেরিয়ে উপজেলা সদরে। বর্ষায় উত্তাল বলেশ্বর নদী পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাতের বেলায় নৌযান না থাকায় জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও থাকে না। অনেক সময় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ট্রলারের ওপর অসুস্থ পশুর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু জরুরি চিকিৎসাই নয়, নিয়মিত টিকাদান, কৃমিনাশক প্রয়োগ ও রোগ প্রতিরোধের মৌলিক সেবা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে স্থানীয় অনভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। এতে ভুল চিকিৎসায় পশুর মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে।
চরবাসীর কাছে গরু-মহিষ-ছাগল শুধু গৃহপালিত প্রাণী নয়। এগুলো তাদের বছরের পর বছর ধরে জমানো সম্পদ। একটি গরু মারা গেলে অনেক পরিবারের ঘরে নেমে আসে আর্থিক সংকট। অথচ জরুরি মুহূর্তে কয়েক কিলোমিটার নদীপথই হয়ে দাঁড়ায় চিকিৎসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় বাধা।
মাঝের চরের বাসিন্দাদের দাবি, চরাঞ্চলে নিয়মিত প্রাণিচিকিৎসা কার্যক্রম চালু করার পাশাপাশি একজন স্থায়ী প্রাণিচিকিৎসক বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হলে তাদের পশুসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুর আলম সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। মাঝের চর একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় সেখানে যেতে অনেক সময় সমস্যা হয়। মাঝে মাঝে ট্রলারে করে পশু নিয়ে এসে নদীর পাড়ে বসেই চিকিৎসা দিতে হয়। অনেক সময় ফোনের মাধ্যমেও চিকিৎসা-পরামর্শ দেওয়া হয়। আবার প্রয়োজন হলে চরাঞ্চলের মানুষ পশু হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন। প্রয়োজনীয় পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।
আরটিভি/এমএম



