ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শীতে ত্বকের সুস্থতায় অ্যালোভেরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২২, ০৯:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতিতে এখনও তীব্র শীত পড়েনি। তবে পড়তে আর কতক্ষণ। ভোরের শিশির দেখা যাচ্ছে। কম্বল নামানোও শুরু হয় গেছে। শীতের কাপড়গুলো বের করে ধুলা-ময়লা ঝাড়াও হচ্ছে। প্রকৃতিতে শীতের আয়োজন যে শুরু হয়ে গেছে, তা বোঝা যায় ত্বকের দিকে তাকালেই। ত্বকে টান টান ভাব আর শুষ্কতা জানান দিচ্ছে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে।

এ ক্ষেত্রে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে, ত্বক ভালো রাখতে এর নির্যাস শরবত হিসেবে খাওয়া ও ত্বকে ব্যবহার দুটোই দারুণ উপকারী।

মধু-হলুদ, অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার
এক চিমটি হলুদের গুঁড়া ও ১ চা চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটির সঙ্গে অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। মুখে, গলায় বা হাত-পায়ে পেস্টটি লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে হাল্কা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ বার এই মাস্ক ব্যাবহারে আপনি পেতে পারেন উজ্জ্বল ও ফর্সা ত্বক।

অ্যালোভেরা জেল ও লেবুর রসের ব্যবহার
অ্যালোভেরার দু’পাশের কাঁটাগুলো কেটে ব্লেন্ডারে পিষে নিন। তারপর একটি লেবুর সম্পূর্ণ রস বের করে এর সঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ফ্রিজে ১ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে। মুখে, গলা, হাত বা পায়ের রঙ হালকা ও দাগ দূর করতে প্রতিদিন লাগিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি রোঁদে পোড়াভাবও দূর করে।

মুলতানি মাটি, অ্যালোভেরা, মধু, লেবুর রস ব্যবহার
মুলতানি মাটির সঙ্গে মধু, লেবুর রস ও অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট বানিয়ে নিন। মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার মাস্কটি ব্যাবহারে মুখের তৈলাক্ত সমস্যা দূর হবে।

মসুর ডালের গুঁড়া, অ্যালোভেরা, কাঁচা টমেটো ব্যবহার
একটি কাঁচা টমেটোর মাঝখান থেকে শাঁসটুকু নিবেন। মসুর ডালের পাউডারের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল ও টমেটোর শাঁস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। মুখে, গলায় এবং হাত-পায়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনি খুবই পরিষ্কার ত্বক অনুভূত করবেন।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চুল ভালো রাখার ঘরোয়া উপায়
আধুনিক জীবনযাত্রায় এত দূষণ, স্ট্রেস আর পুষ্টির অভাবের মাঝে চুল যেন তার প্রাণ হারিয়ে ফেলছে। অনেকটা প্রাণ থেকেও নেই এমন অবস্থা। আপনার চুলও যদি এরকম প্রাণহীণ হয়ে যায়, তাহলে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমেই দ্রুত চুলকে ঘন, লম্বা ও প্রাণবন্ত করতে পারবেন—  চাল ধুয়ে পানি নিশ্চয়ই ফেলে দেন। তবে এর উপকারিতা জানলে অবশ্যই আর ফেলবেন না। চাল ধোয়া পানি স্প্রে বোতলে নিয়ে চুলে স্প্রে করুন। চুলের যত্নে দারুণ কার্যকর এ পানি। একটি পাত্রে ডিম ফেটিয়ে তার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে চুলে লাগান। কিছুক্ষণ পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল ঝরঝরে হয়ে যাবে। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে লেবুর রস অথবা নারকেলের তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ঘষুন। ১৫ মিনিট পর সালফেট নেই এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন চুল।  চুল দ্রুত বাড়াতে চাইলে চুলের গোড়ায় নিয়মিত ক্যাস্টর অয়েল ম্যাসাজ করুণ। ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে চুল দ্রুত বাড়বে। একটি পাত্রে মেথি সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন তা বেটে চুলে লাগান।   আপনার খাদ্য তালিকায় প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড ও আয়রন আছে এমন খাবার রাখুন। নিয়মিত চিরুনি ও হেয়ার ব্রাশ ব্যবহার করুন। এতে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। চুল দ্রুত বাড়বে।   সারারাত ভেজানো চালের পানি একটি স্প্রে বোতলে ঢেলে পুরো চুলে ব্যবহার করুন। নিয়মিত এটি ব্যবহারেই আপনি পাবেন ঘন ও লম্বা চুল।
চুল ভালো রাখার ঘরোয়া উপায়
মুখের পরিচর্যায় কাঁচা দুধই সেরা
আমাদের সৌন্দর্যের অনেকখানি নির্ভর করে মুখের ওপর। মুখের ত্বক সুন্দর রাখার জন্য আমাদের নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এর প্রথম ধাপ হলো মুখ পরিষ্কার রাখা এবং সঠিক পরিচর্চা করা। যুগ যুগ ধরে মুখের পরিচর্যার জন্য নানারকম খাবারই ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে কাঁচা দুধের বিকল্প পাওয়া মুশকিল‌‌। ফেসপ্যাক হোক বা স্ক্রাবার, নানাভাবেই এটি ব্যবহার করা যায়। ক্লিনজারের মতোই ফেস স্ক্রাব ত্বকের যত্ন নিতে সাহায্য করে।স্ক্রাবার ত্বক থেকে মৃত কোষ, ব্ল্যাকহেড ও হোয়াইটহেড দূর করতে সাহায্য করে। দুধ দিয়ে স্ক্রাবার বানাতে দুধ, টক দই ও এক চামচ চালের গুঁড়া দিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এবার মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ফেলুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট এভাবে রাখার পর ভালোভাবে স্ক্রাব করুন। এবার কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। কাঁচা দুধ ক্লিনজার হিসেবে দারুন কার্যকর। দুধের ক্লিনজার বানাতে চার চামচ দুধে দুই চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে। এবারে এটি মুখ ও গলায় ভালো করে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। দুধের ক্লিনজারে হাইড্রক্সি ও ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের বার্ধক্য দূর করতে সাহায্য করে। দুধ ফেসপ্যাকের উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বক দরকারি পুষ্টি উপাদানগুলিও পায়। ফেসপ্যাক নিয়মিত লাগালে ব্রণ ও বলিরেখা সহজে দূর হয়‌। ফেসপ্যাক বানাতে অর্ধেক কলা ও কাঁচা দুধের একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিতে হবে। এবারে এটি মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। মুখের পরিচর্যা করতে কাঁচা দুধের বিকল্প উপাদান পাওয়া মুশকিল। কাঁচা দুধে একাধিক পুষ্টিগুণ রয়েছে যা ত্বকের জন্য বেশ‌ উপকারী। ভিটামিন, বায়োটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ল্যাকটিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ এই খাবারটি ত্বককে পুষ্ট করতে সাহায্য করে।
মুখের পরিচর্যায় কাঁচা দুধই সেরা
শীতে ত্বকের সমস্যায় মাখুন ঘি
শীতে ত্বকের যত্নে তো কত কিছুই ব্যবহার করেছেন, কিন্তু ঘি ব্যবহার করেছেন কি? শীতে রুক্ষ নিষ্প্রাণ ত্বককে প্রাণবন্ত করতে ঘি জাদুর মতো কাজ করে।  ত্বকের প্রয়োজনে ঘি কীভাবে ব্যবহার করবেন, কীভাবে ময়েশ্চারাইজার হিসাবেও ঘি ব্যবহার করা যায়? জেনে নিন, সহজ কয়েকটি নিয়ম- ঘি দিয়ে প্রথমে বানাতে হবে একটি ফেসপ্যাক।ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে ১ চা চামচ ঘি, ১ চা চামচ বেসন এবং এক চিমটি হলুদ। এই তিনটি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। প্রথমে গরম পানি দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর মুখ শুকিয়ে মিশ্রণটি ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এ মিশ্রণে শুধুমাত্র শুকনো ত্বকের সমস্যাই নয়, ঘিয়ের এই মিশ্রণ মুখে লাগালে চোখের নিচের কালো দাগও দূর হবে। তা ছাড়া ঠোঁট ফাটার সমস্যাও নিমিষেই দূর করতে বেশ কার্যকর ঘি’র এই প্যাক। 
শীতে ত্বকের সমস্যায় মাখুন ঘি
এবার লবণেই মিলবে খুশকির সমাধান!
শীত এলেই সবার আগে চুলের খুশকির সমস্যায় পড়তে হয়। খুশকি দূর করতে বারবার শ্যাম্পু করার কারণে চুলে রুক্ষতা চলে আসে। তাই চুল হয়ে যায় প্রাণহীন। কিন্তু এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে লবণ। লবণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা আপনার মাথার ত্বককে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করতে পারে। খুশকি দূর করতে লবণের ব্যবহার- লবণ খুশকির জন্য একটি ওষুধ : খুশকির জন্য দায়ী মাথার ত্বকের মৃত কোষ যা মাথায় জমে ফ্লেক্সে পরিণত হয় এবং আর্দ্রতা এবং ময়লার কারণে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকিত পরিণত হয়। এমন পরিস্থিতিতে, অনেক সময় শ্যাম্পুও কাজ করে না এবং এই পরিস্থিতিতে লবণের ব্যবহার আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। লবণ শুধুমাত্র মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল, আর্দ্রতা এবং ময়লা শোষণ করতে সাহায্য করে না বরং চুল ধোয়ার সময় ফ্ল্যাকি খুশকি সহজে দূর করতেও সাহায্য করে। তাই আপনার মাথার ত্বকে কিছু লবণ দিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর পরিষ্কার পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন।  মাথার ত্বকের সংক্রমণ রোধে লবণ : মাথার ত্বকের সংক্রমণের সমস্যা এড়াতে লবণ ব্যবহার করতে পারেন। লবণ মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এটি বিদ্যমান ফ্লেক্স অপসারণ করে ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে। এর ফলে মাথার ত্বকের সংক্রমণ কমতে সাহায্য করে। এর জন্য মাথার ত্বকে এক থেকে দুই চা চামচ লবণ দিয়ে ভেজা আঙ্গুলের সাহায্যে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য আপনার মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। এরপর চুল ধুয়ে কন্ডিশনিং করে নিন। 
এবার লবণেই মিলবে খুশকির সমাধান!
শীতে দাড়ির যত্নে করণীয়
এখনকার বেশিরভাগ ফ্যাশন সচেতন তরুণকেই দাড়ি রাখতে দেখা যায়। দাড়ি রাখলেও দাড়ির সঠিক যত্নের বিষয় হয়তো জানেন না অনেকেই। দাড়ির যত্ন ঠিকঠাক না নিলে দাড়ির গোড়ায় ময়লা জমে নানা ধরনের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিয়মিত আপনার দাড়ির যত্ন নিন। শীতের সময় চুলে যেমন আর্দ্রতা দেখা দেয়, তেমনি রুক্ষতা ভর করে দাড়িতেও। তাই শীতে ত্বক, চুলের পাশাপাশি দাড়ির আলাদা যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। যে ভাবে দাড়ির যত্ন নিবেন-  • কুসুম গরম পানিতে মুখ ধোয়ার অভ্যাস থাকলে আজই বাদ দিন সে অভ্যাস। কারণ গরম পানিতে দাড়ির ক্ষতি হয়, দাড়ি রুক্ষ হয়ে যায়। এতে করে ত্বকে র‍্যাশ হতেও দেখা যায়। তাই মুখ পরিষ্কার করার জন্য অবশ্যই ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন। •দাড়িতে নিয়মিত শ্যাম্পু করতে হবে। শুনতে অবাক লাগলেও দাড়ি পরিষ্কার রাখার জন্য শ্যাম্পু করাটা খুব জরুরী। আপনার ত্বকের জন্য ভালো এমন শ্যাম্পুই নির্বাচন করতে হবে।  • দাড়ির ঘনত্ব ঠিক রাখে বাজারে এরকম নানা ধরনের তেল পাওয়া যায়। দাড়িতে তেল দিলে দাড়ি শুষ্ক হয় না। যদি আপনার ঘাম বেশি হয়, তা হলে সপ্তাহে এক বা দুদিন তেল ব্যবহার করবেন। আর ঘাম কম হলে রোজই ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু দাড়ি চটচটে হয়ে যাচ্ছে, তা হলে তেলের ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে কিন্তু বন্ধ করবেন না।  • দাড়িতে তেল লাগিয়ে ভালো করে আঁচড়ে নিবেন, এতে দাড়ির সর্বত্র তেল ছড়িয়ে পড়বে। নিয়মিত দাড়ি আঁচড়ে পরিপাটি রাখবেন। সুন্দর মুখভর্তি দাড়ি পেতে প্রতিদিনের রুটিনে অবশ্যই দাড়ি আঁচড়ানো রাখবেন।  • বাজারে বিশেষ ক্রিম পাওয়া যায় দাড়ির জন্য, শীতে সেগুলো ব্যবহার করুন। দাড়ি নরম ও উজ্জ্বল রাখতে গোসলের পর দাড়িতে বেয়ার্ড ক্রিম লাগিয়ে নিতে পারেন। • দাড়ি গালের সব জায়গায় সমানভাবে বাড়ে না। দাড়ি এমন ছোট বড়  হলে সেগুলি ছেঁটে ফেলুন। এ ক্ষেত্রে কাঁচি বা ট্রিমার ব্যবহার করতে পারেন।
শীতে দাড়ির যত্নে করণীয়
আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ
শীতে কাঁপছে নওগাঁ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ত্বকে ছোট ছোট র‍্যাশ, ব্রণ নাকি কোনও রোগের লক্ষণ