
আধুনিক রান্নাঘরে খাবার সংরক্ষণ বা রান্নার কাজে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মাংস বা সবজি বেক করা কিংবা খাবার দীর্ঘক্ষণ গরম রাখতে এর ব্যবহার ব্যাপক। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ফয়েল পেপার ব্যবহার নিয়ে ইদানীং নানা ধরনের নেতিবাচক তথ্য বা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
অনেকের ধারণা, ফয়েল পেপার ব্যবহারের ফলে শরীরে অ্যালুমিনিয়াম জমে গিয়ে জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আতঙ্ক পুরোপুরি সত্য নয়, আবার এটি যে একেবারে নিঁখাদ নিরাপদ—তাও বলা যাবে না। সঠিক নিয়ম মেনে চললে এর ব্যবহার স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডা. ড্যারিন ডেটওয়াইলারের মতে, সাধারণ রান্নার কাজে বা বেকিংয়ে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ এবং এতে তাৎক্ষণিক বিষক্রিয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ফয়েল থেকে অ্যালুমিনিয়াম খাবারে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে খুব উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে কিংবা অ্যাসিডিক বা টকজাতীয় খাবারের সংস্পর্শে এলে এই ধাতব উপাদানটি খাবারের সাথে মিশে যেতে পারে।
টমেটো, লেবু, ভিনেগার বা টক স্বাদের সসগুলো অ্যালুমিনিয়ামের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়, যা ফয়েলের স্তর ক্ষয় করে খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট করার পাশাপাশি ধাতব স্বাদ যোগ করতে পারে।
গবেষকদের মতে, একজন মানুষ প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে সামান্য পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম গ্রহণ করেন যা শরীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম শরীরে প্রবেশ করলে স্নায়বিক সমস্যা বা কিডনির জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শরীর থেকে অতিরিক্ত এই ধাতু বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী, ২০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় ফয়েল পেপার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় ফয়েলে মুড়িয়ে না রাখাই ভালো।
রান্নায় ঝুঁকি এড়াতে সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, টক ও অ্যাসিডিক খাবার রান্নায় ফয়েল ব্যবহার না করাই শ্রেয়। রান্না শেষে খাবার দীর্ঘক্ষণ ফয়েল পেপারে সংরক্ষণ করাও উচিত নয়। যারা সম্পূর্ণ ঝুঁকিহীন থাকতে চান, তাদের জন্য কাঁচের বা সিরামিকের বেকিং ট্রে একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে, কারণ এগুলো খাবারের সাথে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় না।
পরিশেষে বলা যায়, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল আধুনিক জীবনের এক স্বাচ্ছন্দ্যময় উপকরণ হলেও এর সচেতন ও পরিমিত ব্যবহারই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে।
আরটিভি/এএইচ


