
বর্ষাকালে কাদা ও জমা পানির কারণে পায়ের নখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে শুরু করে নখের চারপাশে চুলকানি, লালচে ভাব, র্যাশ এবং বারবার নখ ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পা ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় থাকলে নখ ও আশপাশের ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। ঘরোয়া কিছু উপায়েও নখের পরিচর্যা করা যায়। তবে সংক্রমণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
বর্ষায় নখে যে সমস্যাগুলো হয়
কাদা ও জমা পানিতে পা দেওয়ার পর ভালোভাবে পরিষ্কার ও শুকনো না রাখলে নখে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে নখের চারপাশে চুলকানি, র্যাশ ও লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। নখ দুর্বল হয়ে বারবার ভেঙেও যেতে পারে।
তাই বাইরে থেকে ফিরে পা ও নখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকনো রাখা জরুরি।
নারকেল তেলের সঙ্গে টি ট্রি অয়েল
টি ট্রি অয়েলে জীবাণুরোধী উপাদান রয়েছে। এটি ছত্রাকের সংক্রমণে সহায়তা করতে পারে বলে ব্যবহার করা হয়। তবে এই তেল সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়।
এক চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ২ থেকে ৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নখ ও তার চারপাশে লাগানো যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালা বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা হলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
ভিনিগারে ভিজিয়ে রাখুন আঙুল
আপেল থেকে তৈরি ভিনিগারও ছত্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ঘরোয়া উপায়। নখের শুষ্কতা কমাতেও এটি ব্যবহার করা হয়।
সমপরিমাণ পানি ও ভিনিগার মিশিয়ে তাতে আঙুল ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। তবে ত্বকে জ্বালা, ক্ষত বা ফাটল থাকলে এ পদ্ধতি এড়িয়ে চলা ভালো।
মধু ও জলপাই তেলে মিলবে আর্দ্রতা
নখের চারপাশের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে মধু ও জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।
নখের চারপাশে মধু ও জলপাই তেল লাগিয়ে রাখা যায়। বেশি চটচটে মনে হলে কুসুম গরম পানিতে এক চামচ জলপাই তেল ও মধু মিশিয়ে তাতে আঙুল ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে।
এতে হাতের শুষ্কতা কমানোর পাশাপাশি নখের চারপাশের কিউটিকল শক্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ভঙ্গুর নখে রসুন ও জলপাই তেল
নখ খুব সহজে ভেঙে গেলে রসুন ও অলিভ অয়েল বা জলপাই তেলের মিশ্রণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুই কোয়া রসুন থেঁতো করে তাতে জলপাই তেল মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর মিশ্রণটি হালকা গরম করে নখ ও আশপাশের ত্বকে মালিশ করা যায়।
তবে রসুন সরাসরি ত্বকে লাগালে কারও কারও জ্বালা বা ত্বকের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে।
শুধু ঘরোয়া যত্নেই সব সংক্রমণ সারবে না
নখের সমস্যা বারবার হলে, ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে, পুঁজ হলে কিংবা নখের রং ও গঠন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেলে শুধু ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বর্ষায় নখ ভালো রাখতে সবচেয়ে জরুরি হলো পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, ভেজা জুতা-মোজা দীর্ঘ সময় না পরা এবং কাদা বা জমা পানিতে পা দেওয়ার পর দ্রুত পরিষ্কার করে নেওয়া।
আরটিভি/জেএমএ


