ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

অসুস্থ হয়েও ছুটি না নিয়ে অফিসে যান? কারণ জানাল গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
অসুস্থ শরীর নিয়েও কাজে যোগ দেওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত মানসিকতার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ছবি : সংগৃহীত

সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরটা ভালো লাগছে না। জ্বর, দুর্বলতা কিংবা অন্য কোনো অসুস্থতা রয়েছে। তবু সামনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, অফিসে যেতে হবে। তখন অনেকেই ছুটি নেওয়ার বদলে কাজে চলে যান। কেউ কেউ আবার অসুস্থ শরীর নিয়েই বাড়ি থেকে কাজ করেন।

অসুস্থ থাকার পরও কাজে যোগ দেওয়ার এই প্রবণতাকে বিশেষজ্ঞরা ‘অসুস্থ অবস্থায় কাজ করা’ হিসেবে দেখেন। গবেষণা বলছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক মানুষ অসুস্থ থাকলেও কাজ করেন। এর পেছনে ব্যক্তির মানসিকতা যেমন কাজ করে, তেমনি কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও বড় ভূমিকা রাখে।

কম বয়সীরা অসুস্থতার ছুটি কম নেন

অনেকে মনে করেন, তরুণ প্রজন্ম সামান্য অসুস্থ হলেই ছুটি নিয়ে নেয়। তবে গবেষণার তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা গড়ে ২ দশমিক ৪ দিন অসুস্থতার কারণে কাজে অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল গড়ে ৬ দশমিক ২ দিন। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হারও বেড়েছে।

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক স্যার ক্যারি কুপারের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।

তরুণরা অনেক সময় এমন চাকরিতে কাজ করেন, যেখানে চাকরির নিরাপত্তা তুলনামূলক কম। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা ও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে বেশি দেখা যায়, সেগুলোও তরুণদের মধ্যে তুলনামূলক কম।

তবে তরুণদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সুস্থতা নিয়ে প্রত্যাশাও বেশি বলে মনে করেন তিনি। আগের প্রজন্ম হয়তো অনেক কিছু সহ্য করে কাজ চালিয়ে যেত। কিন্তু সেটিই যে স্বাস্থ্যকর আচরণ, তা নয়।

বিশেষ করে মানসিক সুস্থতাকেও নিজের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা তরুণদের মধ্যে বেশি। তাই অসুস্থ হলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বদলে বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তারা তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেন।

অসুস্থ হয়েও কাজে যাওয়ার পেছনে কী থাকে?

একজন মানুষ অসুস্থ অবস্থায়ও কাজে যাচ্ছেন কি না, তার পেছনে ব্যক্তিগত মানসিকতারও বড় ভূমিকা রয়েছে।

কিছু মানুষের কাছে কাজ শুধু জীবিকা নয়, তাদের পরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কর্মমনোবিজ্ঞানে একে কাজের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখা হয়। এ ধরনের মানুষের কাছে কাজ থেকে একদিন দূরে থাকাও মনে হতে পারে, যেন নিজের পরিচয়ের একটি অংশ থেকে সাময়িকভাবে দূরে সরে যাওয়া।

মনোবিজ্ঞানী অড্রে ট্যাংয়ের মতে, এ ধরনের মানুষের কাজে উপস্থিত থাকার প্রবল ইচ্ছা থাকে। চিকিৎসা, নার্সিং ও শিক্ষকতার মতো সেবামূলক পেশায় এই প্রবণতা বিশেষভাবে দেখা যায়।

কেউ কেউ এমনও মনে করেন, অসুস্থতার কারণে ছুটি নেওয়ার চেয়ে কোনো দুর্ঘটনা বা শারীরিক সমস্যার কারণে কাজে যেতে না পারার একটি স্পষ্ট কারণ থাকা যেন বেশি গ্রহণযোগ্য।

অলস ভাবার ভয়েও ছুটি নেন না অনেকে

অসুস্থ হয়েও কাজে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো, অন্যরা কী ভাববে—এই ভয়।

অনেকে মনে করেন, অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিলে সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতনরা তাকে দুর্বল, অলস কিংবা দায়িত্বজ্ঞানহীন মনে করতে পারেন। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের মধ্যে এই ভয় আরও বেশি কাজ করতে পারে।

নতুন কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হোক, তা চান না। ফলে শরীর খারাপ হলেও দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও দায়ী

শুধু ব্যক্তির মানসিকতাই নয়, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও অসুস্থ অবস্থায় কাজে যাওয়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী তারা কুইন-সিরিলোর মতে, কোনো কর্মস্থলে কর্মীর সংখ্যা কম থাকলে কিংবা অসুস্থ কর্মীর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে একজন কর্মী ছুটি নিতে অপরাধবোধে ভুগতে পারেন।

কারণ তিনি জানেন, তার অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত কাজ সহকর্মীদের ওপর গিয়ে পড়বে।

কর্মক্ষেত্রে যদি স্বাস্থ্য ও সুস্থতার চেয়ে শুধু কাজের পরিমাণ ও উৎপাদনশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে কর্মীদের মধ্যে অপরাধবোধ ও লজ্জাবোধ তৈরি হতে পারে। এমন পরিবেশে অসুস্থ হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

অসুস্থ হলেও কাজ করাকে যদি পুরস্কৃত করা হয়

কোনো কর্মী অসুস্থ অবস্থায়ও অফিসে এলে যদি তাকে প্রশংসা করা হয়, তাহলে অন্য কর্মীরাও সেই আচরণ অনুসরণ করতে শুরু করতে পারেন।

ধীরে ধীরে কর্মীদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়—অসুস্থ হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

ফলে বিশ্রামের প্রয়োজন থাকলেও অনেকে কাজে উপস্থিত থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কর্মপরিবেশে অসুস্থ অবস্থায় কাজ করার প্রবণতা দ্রুত স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হতে পারে।

অর্থাৎ, অসুস্থ হয়ে ছুটি নেওয়ার জন্য শুধু একজন কর্মীর ব্যক্তিগত মানসিকতাই দায়ী নয়। তিনি যে কর্মপরিবেশে কাজ করেন, সেখানকার সংস্কৃতি, সহকর্মীদের ওপর কাজের চাপ এবং কর্তৃপক্ষের আচরণও তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

সূত্র: বিবিসি


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্কুলজীবনের স্মৃতি কেন সারাজীবন তাড়া করে
স্কুলজীবন শেষ হয়ে যায়, মানুষ বড় হয়, বদলে যায় চারপাশ। তবু কৈশোরের কিছু ঘটনা যেন মন থেকে মুছে যায় না।
স্কুলজীবনের স্মৃতি কেন সারাজীবন তাড়া করে
ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চা খাওয়া যাবে? জেনে নিন
সকালের শুরুটা এক কাপ চা দিয়ে না হলে অনেকেরই যেন দিন জমে না।
ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চা খাওয়া যাবে? জেনে নিন
গুজরাটের নাকি পদ্মার ইলিশ চিনবেন যে ৪ উপায়ে 
বাজারে এখন রুপালি ইলিশের ছড়াছড়ি। কিন্তু সব ইলিশই যে পদ্মার, তা নয়। ভারত কিংবা মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশও অনেক সময় পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রি করা হচ্ছে।
গুজরাটের নাকি পদ্মার ইলিশ চিনবেন যে ৪ উপায়ে 
একজন চান বিয়ে, অন্যজন ক্যারিয়ার—সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?
একজন চান দ্রুত বিয়ে করে সংসার শুরু করতে। অন্যজন চান আগে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে।
একজন চান বিয়ে, অন্যজন ক্যারিয়ার—সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?
আজ জলদস্যুর মতো কথা বলার দিবস
আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে মজার এক দিবস—জলদস্যুর মতো কথা বলার দিবস (টক লাইক এ পাইরেট ডে অথবা Talk Like a Pirate Day)।
আজ জলদস্যুর মতো কথা বলার দিবস
আরও পড়ুন
ক্লাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ২৫ শিক্ষার্থী
নোয়াখালীর সেই স্কুলে এক সপ্তাহে ৪৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ
হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধে ফের অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী
হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা, জমির দলিল নিয়ে হাজির মেয়ে