
ও কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসে? কিংবা একদিন কি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে?—সম্পর্কে থেকেও এমন প্রশ্ন যদি বারবার মনে আসে, তাহলে সম্পর্কের আনন্দের চেয়ে অনিশ্চয়তা বড় হয়ে উঠতে পারে। সঙ্গীর ছোট একটি আচরণও তখন মনে তৈরি করতে পারে নানা প্রশ্ন।
সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ কাজ করছে কি না, তা নিজের কিছু আচরণ খেয়াল করলেই বোঝা যেতে পারে। এমন পাঁচটি আচরণ রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে অনিশ্চয়তার প্রবণতা প্রকাশ করতে পারে।
সঙ্গী নির্দিষ্ট সময়ে মেসেজ না করলে, আগের মতো বার্তা বা ইমোজি ব্যবহার না করলে কিংবা হঠাৎ ব্যবহারে পরিবর্তন এলে দুশ্চিন্তা শুরু হয় কি? ফোনে সঙ্গীর কণ্ঠস্বর একটু অন্য রকম শোনালেও মনে হতে পারে, ও কি আর আগের মতো আমাকে ভালোবাসে না? অথবা আমি কি কোনো ভুল করেছি?
সাধারণভাবে হয়তো ব্যস্ত ভাবার বদলে খুব দ্রুত নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে সেটিও সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার লক্ষণ হতে পারে।
সঙ্গী আপনাকে ভালোবাসেন—এটি জানার পরও বারবার তার কাছে নিশ্চয়তা চান কি? ‘আমাদের মধ্যে সব ঠিক আছে তো?’, ‘তুমি কি এখনো আমাকে ভালোবাস?’, ‘আমার ওপর কি রাগ করেছ?’—এ ধরনের প্রশ্ন বারবার করতে পারেন কেউ কেউ।
সঙ্গীর আশ্বাসে কিছু সময়ের জন্য মন শান্ত হলেও অল্প সময় পর আবার একই প্রশ্ন মনে ঘুরতে থাকে। ফলে যত বেশি নিশ্চয়তা খোঁজা হয়, নিরাপত্তার অনুভূতিও তত দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে।
সঙ্গী মেসেজের উত্তর দিতে একটু দেরি করলেই যদি মনে নানা আশঙ্কা তৈরি হয়, সেটিও খেয়াল করার মতো বিষয়। কখন তিনি শেষবার অনলাইনে ছিলেন, আগের কথোপকথনে অস্বাভাবিক কোনো শব্দ ব্যবহার করেছিলেন কি না কিংবা নিজের পাঠানো বার্তাটি ঠিক ছিল কি না—এসব নিয়ে বারবার ভাবতে পারেন কেউ কেউ।
এমনকি স্বাভাবিক একটি বার্তা পাঠানোর পরও মনে হতে পারে, ‘এটা কি অন্যভাবে নিল?’ অর্থাৎ কথোপকথনের স্বাভাবিক বিরতিকেও তখন প্রত্যাখ্যান বা দূরে সরে যাওয়ার সংকেত মনে হতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকার পরও যদি মনে হয়, ‘একদিন নিশ্চয়ই অন্য কাউকে ভালো লেগে যাবে, আমাকে ছেড়ে দেবে’, তাহলে সেটিও সম্পর্ক নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হতে পারে। বাস্তবে এমন কোনো কারণ না থাকলেও এই আশঙ্কা মনে ঘুরতে পারে।
সঙ্গীর বন্ধু, পুরোনো সম্পর্ক কিংবা নতুন কোনো পরিচিত মানুষকে নিয়েও অকারণে তুলনা শুরু হতে পারে। প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয় এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, পুরো সম্পর্কটিকেই সেই ভয় দিয়ে বিচার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
প্রত্যেক মানুষেরই নিজের মতো কিছু সময় কাটানোর প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সঙ্গী যদি বলেন, ‘আজ একটু একা থাকতে চাই’, তখনই যদি মনে হয় তিনি সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
ঝগড়া হলে সঙ্গীকে কিছুটা সময় দেওয়ার বদলে সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ঠিক করে ফেলতে চান কেউ কেউ। সঙ্গীর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাও তখন অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সহ্য করা কঠিন হয়ে যায় এবং সম্পর্কটি নিরাপদ আছে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা তৈরি হয়।
তবে এসব অনুভূতি থাকা মানেই কেউ ভালোবাসার অযোগ্য—এমন নয়। কিন্তু সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ যদি দৈনন্দিন শান্তি নষ্ট করে বা সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করে, তাহলে পেশাদারের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। নিজের উদ্বেগ বুঝে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ব্যক্তিগত শান্তি যেমন বাড়ে, তেমনি সম্পর্কটিও আরও সুন্দর রাখা সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ

