ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

অবিবাহিত বন্ধুদের যে ৬ কথা না বলাই ভালো

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ এএম
অবিবাহিত বন্ধুকে বিয়ে নিয়ে অযাচিত প্রশ্ন বা মন্তব্য না করে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান। ছবি: সংগৃহীত

বয়স বিশের কোটা পেরোতেই বন্ধুমহলে একে একে বিয়ের আয়োজন শুরু হয়। কেউ নতুন সংসার গড়েন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেন যুগল ছবি। এর মধ্যে কেউ কেউ অবিবাহিত থেকে গেলে আড্ডায় কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

অনেক সময় নিছক কৌতূহল বা মজার ছলে বলা কথাও অবিবাহিত বন্ধুকে বিব্রত করতে পারে। এমনকি এসব মন্তব্য থেকে বন্ধুত্বে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তাই বন্ধুর মানসিক স্বস্তি ও সম্পর্কের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে কিছু কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

১. ‘তোমার বিয়ের বয়স তো পার হয়ে যাচ্ছে’

প্রত্যেক মানুষের জীবনযাপনের ধরন ও অগ্রাধিকার আলাদা। কেউ আগে নিজের কর্মজীবন গুছিয়ে নিতে চান, কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। আবার কেউ হয়তো নিজের পছন্দের মানুষটিকে এখনো খুঁজে পাননি।

তাই বয়সের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্তকে মিলিয়ে কাউকে চাপ দেওয়া ঠিক নয়। এমন মন্তব্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অস্বস্তিতে পড়তে পারেন এবং বিয়ে নিয়ে বাড়তি মানসিক চাপে ভুগতে পারেন।

২. ‘আর কত বাছবিচার করবে?’

জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দ ও চাহিদা থাকে। সারা জীবন একসঙ্গে কাটানোর জন্য উপযুক্ত মানুষ খুঁজতে সময় নেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু কেউ পছন্দের মানুষ খুঁজতে সময় নিলেই তাকে অতিরিক্ত বাছবিচার করছেন বলে মন্তব্য করা উচিত নয়। এমন কথা তার সিদ্ধান্ত ও আত্মবিশ্বাসকে আঘাত করতে পারে।

৩. ‘বিয়ে না করলে একা হয়ে যাবে’

বিয়ে না করলেই মানুষ একাকী হয়ে পড়বেন, এমন ধারণা ঠিক নয়। অনেকেই অবিবাহিত থেকেও পরিবার, বন্ধু ও নিজের পছন্দের কাজ নিয়ে পরিপূর্ণ জীবন কাটান।

আবার বিয়ে করলেই যে একাকিত্ব থাকবে না, তারও নিশ্চয়তা নেই। তাই বন্ধুর ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য না করে তার বর্তমান জীবন ও সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই ভালো।

৪. ‘বিয়ে করলে জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে’

বিবাহিত জীবনে ভালো লাগা ও আনন্দের পাশাপাশি দায়িত্ব এবং নানা চ্যালেঞ্জও থাকে। বিয়ে করলেই জীবনের সব সমস্যা দূর হয়ে যায় না।

কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকলে কিংবা উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে না পেলে শুধু অন্যের কথায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই বিয়ের ভালো দিক তুলে ধরতে গিয়ে এর দায়িত্ব ও বাস্তবতাগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়।

৫. ‘তোমার কি কোনো সমস্যা আছে?’

নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে না করলে অনেক সময় মানুষকে নিয়ে নানা ধরনের অনুমান শুরু হয়। এমনকি বন্ধুরাও কখনো কখনো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন করে বসেন।

কিন্তু কেউ অবিবাহিত কেন, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়। এমন প্রশ্নে তিনি বিব্রত বা অপমানিত বোধ করতে পারেন। তাই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অযাচিত মন্তব্য না করাই ভালো।

৬. ‘তোমার তো কোনো দায়িত্বই নেই’

অবিবাহিত মানুষের জীবনে দায়িত্ব বা মানসিক চাপ নেই, এমন ধারণাও ভুল। পরিবার, কর্মক্ষেত্র, আর্থিক অবস্থা কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদেরও নানা চিন্তা ও দায়িত্ব থাকতে পারে।

বিয়ে না করার কারণে কারও জীবনকে সহজ বা দায়িত্বহীন বলে ধরে নেওয়া তার ব্যক্তিগত সংগ্রামকে ছোট করে দেখার শামিল। তাই অন্যের পরিস্থিতি না জেনে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

বিয়ের সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত

বিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। কখন বিয়ে করবেন, কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন কিংবা আদৌ বিয়ে করবেন কি না—এটি প্রত্যেকের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

বন্ধুত্বের অর্থ শুধু একসঙ্গে আনন্দ করা নয়, বরং একে অপরের পছন্দ, সিদ্ধান্ত ও অনুভূতির প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা। তাই অবিবাহিত বন্ধুকে বারবার বিয়ের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার বদলে তার পাশে থাকা, কথা শোনা এবং সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয়।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
আজ চকলেট দিবস
শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—চকলেট পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
আজ চকলেট দিবস
ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন, যা বলছে গবেষণা
বছরের পর বছর ধরে অনেকেই লক্ষ্য করেন যে তাদের ঠোঁট কালো হয়ে যাচ্ছে। ধূমপায়ীরা একথা শুনে থাকেন যে এর জন্য সিগারেটই দায়ী। 
ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন, যা বলছে গবেষণা
আজ কালো বিড়াল দিবস 
কালো বিড়াল রাস্তা পার হলে দুর্ভাগ্য আসে—এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে।
আজ কালো বিড়াল দিবস