ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

আজকের দিনটি ব্যর্থদের জন্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ছবি: কাল্পনিক

সব সময়তো শুনেছেন বা পত্রিকায় লেখা পড়েছেন ‘সফলতাকে উৎযাপন’ করার কথা। কিন্তু কখনো কি নিজের ব্যর্থতাকে উদযাপন করেছেন? আজ ১৩ অক্টোবর ব্যর্থতা কে উদযাপনের দিন ‘Day for Failure’। ব্যর্থতায় পিছিয়ে না পড়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্দীপনা খুঁজে পাবার দিন আজ।

ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের সংগঠন Aalto Entrepreneurship Society (Aaltoes) ১৩ অক্টোবর ব্যর্থতা দিবসের সূচনা করে। উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তরুণদের মধ্যে ব্যর্থতা নিয়ে ভয় ও সামাজিক সংকোচ কমানো এটাই ছিলো এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দিনটির প্রচারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং International Day for Failure নামটি ব্যবহার করেন।

বলা হয় ‘বীরভোগ্যা এ বসুধা’ অর্থাৎ পৃথিবী কেবল জয়ীদের জন্য।আমাদের সমাজ কেবল জয়ীদের গল্প শুনতে চায়।জয়ীদের যুদ্ধ জয়ের গল্প ইতিহাসের পাতায় লেখা হলেও হেরে যায় ব্যর্থদের ইতিহাস হারিয়ে যায়।প্রতিটা ব্যর্থতার পিছনেও যে এক পাহাড় সমান চেষ্টা প্রচেষ্টা থাকে তা এ সমাজে স্বীকৃতি পায় না, প্রচারেও আসে না।আমাদের হাজারো প্রচেষ্টার মাঝের যে কিছু ছোট ছোট ভুল আমাদেরকে নিজেদের যুদ্ধেই হারিয়ে দিয়ে ব্যর্থতার মুকুট পড়িয়ে দেয়,আজ সেই ভুল গুলো নিয়ে কথা বলার দিন।নিজের সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন আজ।

একজন মানুষের ছাত্রজীবনে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে এসএসসি, এইচএসসি, ভর্তি যুদ্ধ কিংবা চাকরির লড়াই—প্রতিটি ধাপেই ব্যর্থতা আসতে পারে। আমাদের উচিত ব্যর্থতাকে জীবনের শেষ পরিণতি হিসেবে না দেখে, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

আপনি হয়তো ভর্তি যুদ্ধে হেরে গিয়ে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পাননি। কিন্তু সেই ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে গিয়ে যদি নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে আপনার পরবর্তী জীবনে, এমনকি ক্যারিয়ারেও। একটি ব্যর্থতার হতাশা সামলাতে না পেরে আপনি ডেকে আনতে পারেন আরেকটি ব্যর্থতা।

ব্যর্থতা এভাবেই কখনো কখনো একটি চক্র তৈরি করে। ধরুন, এসএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে না পারার হতাশা আপনাকে এমনভাবে গ্রাস করল যে আপনি এইচএসসিতেও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলেন না। ফলে আগের ব্যর্থতার প্রভাবেই জীবনে যুক্ত হলো আরেকটি ব্যর্থতা। এভাবেই একটি ব্যর্থতা থেকে জন্ম নিতে পারে একের পর এক ব্যর্থতা, যদি না আমরা সময়মতো সেই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।

কেবল ছাত্রজীবনেই নয়, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সাংসারিক জীবন—জীবনের প্রতিটি ধাপেই মানুষকে ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে ব্যর্থ হওয়াই জীবনের শেষ কথা নয়। বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত জীবনের মূল লক্ষ্য।

আর তাই আজকের দিনটি ব্যর্থতার স্মৃতি মনে করে কষ্ট পাওয়ার দিন নয়; বরং সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে আবার সফলতার পথে ফেরা যায়, তার প্রেরণা খুঁজে নেওয়ার দিন। অতীতের ভুলগুলোকে নিজের দুর্বলতা হিসেবে আঁকড়ে না ধরে, সেগুলোকে ভবিষ্যতের পথচলার পাথেয় করে নেওয়ার দিন আজ।

দিনটি উদ্‌যাপনের জন্য আপনি অনেক কিছুই করতে পারেন। ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নিজের ভুলগুলো লিখে রাখতে পারেন, বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা, কিংবা একান্তে বসে ভেবে দেখতে পারেন—কোথায় ভুল ছিল, কী করলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর প্রস্তুতিও নিতে পারেন।

ব্যর্থতার জন্য নিজেকে দোষারোপ করে থেমে থাকা নয়, বরং ব্যর্থতাকে স্বীকার করে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়াই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।

আজ ব্যর্থতার জন্য দুঃখ নয়, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাগ্রহণের উদযাপন হোক।

লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম
শিক্ষার্থী, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
রসায়ন বিভাগ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
আজ বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস