
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে। তবে শুধু ঘুমের অভাব নয়, বংশগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকের পুরুত্ব, রোদে থাকা ও শরীরে পানির ঘাটতির কারণেও চোখের নিচে কালচে দাগ দেখা দিতে পারে।
চোখের চারপাশের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাতলা ও সংবেদনশীল। ফলে ঘুমের অভাব, বয়সের পরিবর্তন ও অন্যান্য বাহ্যিক প্রভাব এই অংশে সহজেই দৃশ্যমান হয়। তাই এক রাত ভালোভাবে ঘুমালেই চোখের নিচের কালচে দাগ বা ফোলা ভাব পুরোপুরি দূর হবে, এমনটা সব সময় নয়।
ঘুমের অভাবে চোখের নিচে ফোলা ভাব হয় কেন?
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের নিচের রক্তনালিগুলো আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি চোখের চারপাশের টিস্যুতে তরল জমে সাময়িকভাবে ফোলা ভাব তৈরি হতে পারে। এতে চোখের নিচে থলির মতো অংশ দেখা যায়, যা সাধারণত ‘আই ব্যাগ’ নামে পরিচিত।
তবে চোখের নিচে ফোলা ভাবের পেছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং চোখের চারপাশের চর্বির বণ্টনে পরিবর্তন আসে। বংশগত কারণেও কারও কারও চোখের নিচে ফোলা ভাব বেশি দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচের ফোলা ভাব কমানোর উপায়
রাত জাগার পর সকালে চোখের নিচে ফোলা ভাব দেখা দিলে কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে।
প্রথমত, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিষ্কার কাপড়ে মোড়ানো ঠান্ডা সেঁক চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট ধরে রাখা যেতে পারে। এতে সাময়িকভাবে ফোলা ভাব কমতে পারে। তবে সরাসরি বরফ চোখের ত্বকে লাগানো উচিত নয়।
এ ছাড়া খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে। বেশি লবণ শরীরে পানি ধরে রাখতে পারে, যার প্রভাব চোখের নিচে ফোলা ভাব হিসেবে দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে চোখের নিচে ফোলা ভাব থাকলে, তা বাড়তে থাকলে কিংবা হঠাৎ করে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ক্লান্ত থাকলে চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে কেন?
ঘুমের অভাবে চোখের নিচের কালচে দাগ বা ডার্ক সার্কেল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। চোখের নিচের ত্বক পাতলা হওয়ায় এর নিচে থাকা রক্তনালির নীলচে বা বেগুনি আভা বাইরে থেকে দৃশ্যমান হয়। আবার ত্বকে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলেও কালচে দাগ দেখা দিতে পারে।
বংশগত বৈশিষ্ট্য ডার্ক সার্কেলের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া অতিরিক্ত রোদে থাকা, শরীরে পানির ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে আয়রনের অভাবও চোখের নিচের কালচে দাগকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে।
ঘুমের অভাবে চোখের নিচে ফোলা ভাব তৈরি হলে সেখানে ছায়া পড়েও কালচে দেখাতে পারে। আবার ক্লান্তির কারণে মুখের ত্বক ফ্যাকাশে দেখালে চোখের নিচের রক্তনালিগুলো আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, চোখের নিচে কালচে দাগ দেখা দেওয়ার পেছনে ত্বকের রঙের পরিবর্তনের পাশাপাশি আলো-ছায়ার প্রভাবও থাকতে পারে।
ডার্ক সার্কেল কমানোর উপায় কী?
চোখের নিচে কালচে দাগ কমাতে প্রথমেই পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের সাধারণত প্রতিদিন রাতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পাশাপাশি রোদে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করা এবং চোখের চারপাশের ত্বকের উপযোগী সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া ভালো।
পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার সমাধান করতে হবে।
চোখের চারপাশের ত্বকের জন্য তৈরি কিছু প্রসাধনী কালচে দাগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে সব পণ্য সবার জন্য উপযোগী নয়। চোখের আশপাশে কোনো প্রসাধনী ব্যবহারে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হলে তা ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
চোখের নিচে কালচে দাগ বা ফোলা ভাব মানেই কোনো রোগ হয়েছে, এমন নয়। তবে হঠাৎ করে দাগ বা ফোলা বেড়ে গেলে, এক চোখের নিচে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে কিংবা এর সঙ্গে ব্যথা বা অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের নিচের কালচে দাগ ও ফোলা ভাব কমাতে নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ত্বকের যথাযথ যত্ন গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমস্যার কারণ ভেদে এর সমাধানও আলাদা হতে পারে। তাই শুধু ঘুমের অভাবকে দায়ী না করে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।
আরটিভি/এসকে


