ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
কাল্পনিক ছবি

কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে। অন্যদিকে, পাকা কলায় স্টার্চের একটি অংশ প্রাকৃতিক শর্করায় রূপান্তরিত হওয়ায় তা তুলনামূলক মিষ্টি ও নরম হয়। তাই হজমের স্বাস্থ্য, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কিংবা ওজন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোন কলা বেশি উপকারী, তা জানা জরুরি।

কাঁচা ও পাকা কলার পুষ্টিগত পার্থক্য

কাঁচা কলার খোসা সবুজ এবং শাঁস তুলনামূলক শক্ত। এ অবস্থায় কলার অধিকাংশ শর্করা স্টার্চের আকারে থাকে। এর মধ্যে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চও রয়েছে, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম হয় না।

অন্যদিকে, কলা পাকতে থাকলে স্টার্চের একটি অংশ শর্করায় পরিণত হয়। ফলে কলা নরম ও মিষ্টি হয়ে ওঠে। পাকা কলা সহজে চিবানো যায় এবং অনেকের জন্য খাওয়াও সহজ হয়।

হজমের জন্য কোনটি ভালো?

হজমের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কাঁচা কলার কিছু সুবিধা রয়েছে। এতে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বৃহদান্ত্রে গিয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি খাদ্যআঁশ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে, পাকা কলা নরম হওয়ায় অনেকের জন্য সহজে খাওয়া ও হজম করা সম্ভব। তবে ব্যক্তিভেদে হজমের সহনশীলতা ভিন্ন হতে পারে। তাই সবার জন্য একই ধরনের কলা বেশি উপকারী হবে, এমনটি বলা যায় না।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনটি উপকারী?

কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকায় এর শর্করা তুলনামূলক ধীরে হজম হতে পারে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতিও ধীর হতে পারে।

অন্যদিকে, পাকা কলায় প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় এটি মিষ্টি স্বাদের হয়। তবে রক্তে শর্করার ওপর কলার প্রভাব নির্ভর করে এর পরিমাণ, পাকার মাত্রা, ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য খাবারের ওপরও।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় কলা রাখা যেতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে কোন কলা সহায়ক?

কাঁচা কলায় থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা থাকতে পারে। তবে শুধু কাঁচা কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। মোট ক্যালরি গ্রহণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, পাকা কলার প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে শক্তি জোগায়। শরীরচর্চার আগে বা পরে এটি সহজলভ্য শক্তির উৎস হতে পারে। তবে ওজন বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে শুধু কলার ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কোন কলা কীভাবে খাবেন?

কাঁচা কলা সাধারণত তরকারি, ভর্তা, কাটলেটসহ বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা হয়। রান্নার পদ্ধতি অনুযায়ী এর পুষ্টিগুণে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে, পাকা কলা সরাসরি খাওয়া যায়। এ ছাড়া স্মুদি, শেক ও বিভিন্ন মিষ্টি খাবার তৈরিতেও এটি ব্যবহার করা হয়। সহজে খাওয়া যায় এমন ফল হিসেবে পাকা কলা অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে।

তাহলে কোনটি বেছে নেবেন?

হজমের স্বাস্থ্য, রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশের কথা বিবেচনা করলে কাঁচা কলা উপকারী বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে, নরম ও মিষ্টি ফল হিসেবে পাকা কলা সহজে খাওয়া যায় এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সহায়তা করে।

সব মিলিয়ে, কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলারই নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে। কোনটি বেশি উপকারী, তা নির্ভর করে ব্যক্তির প্রয়োজন, হজমের সহনশীলতা, রক্তে শর্করার অবস্থা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দুই ধরনের কলাই পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
ফলের মধ্যে আপেল বেশ জনপ্রিয়। সুস্বাদু এই ফলটি লাল, সবুজ ও হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি আপেলের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, নানা জাত ও পরিবেশগত গুরুত্ব। এসব বৈচিত্র্য তুলে ধরতে প্রতিবছর ২১ অক্টোবর পালিত হয় অ্যাপল ডে, যা ন্যাশনাল অ্যাপল ডে নামেও পরিচিত। অ্যাপল ডে কী ও কেন পালিত হয়? অ্যাপল ডে শুধু আপেল খাওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপনের দিন নয়। আপেলের বিভিন্ন জাতের পরিচিতি বাড়ানো, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরিও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বাজারে সাধারণত কয়েক ধরনের আপেল বেশি দেখা গেলেও বিশ্বজুড়ে রয়েছে হাজার হাজার জাত। এসব আপেলের রং, আকার, স্বাদ ও গন্ধে রয়েছে ভিন্নতা। দিবসটি মানুষকে আপেলের এই বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করে। এ ছাড়া ফলের বাগান বিভিন্ন পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আপেল দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অ্যাপল দিবসের ইতিহাস অ্যাপল দিবসের সূচনা হয় ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে। পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা কমন গ্রাউন্ড (Common Ground) ওই বছরের ২১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি আয়োজন করে। লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনের পুরোনো অ্যাপল মার্কেটে অনুষ্ঠিত প্রথম আয়োজনে প্রায় ৪০টি স্টলে বিভিন্ন জাতের আপেল, আপেলগাছের চারা, আপেলের রস ও সাইডারসহ নানা পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এতে আপেল নিয়ে কাজ করা লেখক ও চিত্রকররাও অংশ নেন। যুক্তরাজ্যে ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান কমে যাওয়া এবং স্থানীয় আপেলের অনেক জাতের পরিচিতি হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন শহর, গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে অ্যাপল দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের প্রদর্শনী, ফলের স্বাদ গ্রহণ, রান্নার আয়োজন এবং বাগান পরিচর্যা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আপেল সম্পর্কে ৬টি মজার তথ্য ১. বিশ্বে আপেলের হাজার হাজার জাত রয়েছে আপেল বলতে শুধু লাল বা সবুজ ফলকেই বোঝায় না। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বে আপেলের ৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাত রয়েছে। জাতভেদে এসব আপেলের স্বাদ, রং, আকার ও ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়। ২. আপেল পানিতে ভাসে আপেলের ভেতরের প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গা বাতাসে পূর্ণ। এ কারণে আপেলের ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হওয়ায় এটি সাধারণত পানিতে ভেসে থাকে। ৩. আপেল ও গোলাপ একই পরিবারের আপেল ও গোলাপ দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানে এরা একই পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের নাম রোজেসি (Rosaceae)। নাশপাতি, পিচ ও বরইও এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ৪. আপেলের আদি উৎস মধ্য এশিয়া গৃহপালিত আপেলের উৎপত্তির ইতিহাস মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে বর্তমান কাজাখস্তান অঞ্চলে পাওয়া বুনো আপেলকে আধুনিক আপেলের পূর্বপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ৫. আপেল দিয়ে তৈরি হয় নানা খাবার সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি আপেল দিয়ে জুস, জ্যাম, পাই, কেক, সালাদ ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আপেল থেকে সাইডারও তৈরি করা হয়। ৬. আপেল দিবসে থাকে নানা আয়োজন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের জাত চেনা, ফলের রস তৈরি, আপেল দিয়ে রান্না, বাগান পরিচর্যা এবং শিশুদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়। কোথাও কোথাও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন জাতের আপেল শনাক্ত করতেও সহায়তা করেন। আপেলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা আপেল খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আপেল খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে শুধু আপেল খেয়ে শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা প্রয়োজন। আপেল খাওয়ার আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি। প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আপেল দিবসের গুরুত্ব জাতীয় আপেল দিবস একটি ফলকে কেন্দ্র করে পালিত হলেও এর গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। আপেলের বৈচিত্র্য রক্ষা, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেয় এই দিবস। ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ প্রতিবছর ২১ অক্টোবর মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, একটি ফলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে কৃষি, পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সম্পর্ক। আরটিভি/এসকে
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার। যদিও পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম, তবে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধানে কার্যকর ৪ উপায়
সন্তান না হলে অনেক সময় এর দায় নারীর ওপর চাপানো হয়। তবে বন্ধ্যত্ব শুধু নারীর সমস্যা নয়, পুরুষেরও হতে পারে। শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণগত মান বা চলাচলের সক্ষমতায় সমস্যা থাকলে পুরুষের সন্তান জন্মদানে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধানে কার্যকর ৪ উপায়
শরীরে যেসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের সতর্কসংকেত
ক্যানসার এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরের কিছু কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং আশপাশের সুস্থ টিস্যুতে ক্ষতি করতে পারে।
শরীরে যেসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের সতর্কসংকেত
বাথরুমে কেন ঘটে স্ট্রোকের ঘটনা, কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান?
বাথরুমে গোসল করতে গিয়ে কিংবা শৌচকর্মের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কখনও এমন পরিস্থিতিতে স্ট্রোকের খবরও সামনে আসে। এ কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বাথরুমের সঙ্গে স্ট্রোকের কোনো বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে কি না।
বাথরুমে কেন ঘটে স্ট্রোকের ঘটনা, কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান?
আরও পড়ুন
কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা চিনবেন যেভাবে
কাঁচা না পাকা কলা, কোনটি বেশি উপকারী?