
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে। অন্যদিকে, পাকা কলায় স্টার্চের একটি অংশ প্রাকৃতিক শর্করায় রূপান্তরিত হওয়ায় তা তুলনামূলক মিষ্টি ও নরম হয়। তাই হজমের স্বাস্থ্য, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কিংবা ওজন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোন কলা বেশি উপকারী, তা জানা জরুরি।
কাঁচা ও পাকা কলার পুষ্টিগত পার্থক্য
কাঁচা কলার খোসা সবুজ এবং শাঁস তুলনামূলক শক্ত। এ অবস্থায় কলার অধিকাংশ শর্করা স্টার্চের আকারে থাকে। এর মধ্যে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চও রয়েছে, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম হয় না।
অন্যদিকে, কলা পাকতে থাকলে স্টার্চের একটি অংশ শর্করায় পরিণত হয়। ফলে কলা নরম ও মিষ্টি হয়ে ওঠে। পাকা কলা সহজে চিবানো যায় এবং অনেকের জন্য খাওয়াও সহজ হয়।
হজমের জন্য কোনটি ভালো?
হজমের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কাঁচা কলার কিছু সুবিধা রয়েছে। এতে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বৃহদান্ত্রে গিয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি খাদ্যআঁশ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে, পাকা কলা নরম হওয়ায় অনেকের জন্য সহজে খাওয়া ও হজম করা সম্ভব। তবে ব্যক্তিভেদে হজমের সহনশীলতা ভিন্ন হতে পারে। তাই সবার জন্য একই ধরনের কলা বেশি উপকারী হবে, এমনটি বলা যায় না।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনটি উপকারী?
কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকায় এর শর্করা তুলনামূলক ধীরে হজম হতে পারে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতিও ধীর হতে পারে।
অন্যদিকে, পাকা কলায় প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় এটি মিষ্টি স্বাদের হয়। তবে রক্তে শর্করার ওপর কলার প্রভাব নির্ভর করে এর পরিমাণ, পাকার মাত্রা, ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য খাবারের ওপরও।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় কলা রাখা যেতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে কোন কলা সহায়ক?
কাঁচা কলায় থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা থাকতে পারে। তবে শুধু কাঁচা কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। মোট ক্যালরি গ্রহণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, পাকা কলার প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে শক্তি জোগায়। শরীরচর্চার আগে বা পরে এটি সহজলভ্য শক্তির উৎস হতে পারে। তবে ওজন বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে শুধু কলার ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
কোন কলা কীভাবে খাবেন?
কাঁচা কলা সাধারণত তরকারি, ভর্তা, কাটলেটসহ বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা হয়। রান্নার পদ্ধতি অনুযায়ী এর পুষ্টিগুণে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
অন্যদিকে, পাকা কলা সরাসরি খাওয়া যায়। এ ছাড়া স্মুদি, শেক ও বিভিন্ন মিষ্টি খাবার তৈরিতেও এটি ব্যবহার করা হয়। সহজে খাওয়া যায় এমন ফল হিসেবে পাকা কলা অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে।
তাহলে কোনটি বেছে নেবেন?
হজমের স্বাস্থ্য, রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশের কথা বিবেচনা করলে কাঁচা কলা উপকারী বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে, নরম ও মিষ্টি ফল হিসেবে পাকা কলা সহজে খাওয়া যায় এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সহায়তা করে।
সব মিলিয়ে, কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলারই নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে। কোনটি বেশি উপকারী, তা নির্ভর করে ব্যক্তির প্রয়োজন, হজমের সহনশীলতা, রক্তে শর্করার অবস্থা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দুই ধরনের কলাই পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
আরটিভি/এসকে


