ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

কেন হাসতে হাসতে চোখে পানি আসে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
প্রাণ খুলে হাসলে কারও কারও চোখে জমে যায় পানি। ছবি: কাল্পনিক

প্রাণ খুলে হাসছেন, অথচ হঠাৎ চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। মজার কোনো ঘটনা কিংবা কৌতুক শুনে হাসতে হাসতে অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়। কখনো চোখের কোণে পানি জমে, আবার কখনো গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। অনেকে একে অতিরিক্ত আবেগের প্রকাশ মনে করেন। তবে এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া।

হাসির সময় মুখের বিভিন্ন পেশি সংকুচিত হয়। বিশেষ করে গাল ও চোখের চারপাশের পেশির নড়াচড়ার কারণে চোখের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চোখের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে চোখে অতিরিক্ত পানি জমে এবং তা বাইরে গড়িয়ে পড়ে।

হাসলে চোখে পানি আসে কেন?

চোখের পানি তৈরি হয় চোখের ওপরের বাইরের দিকে থাকা অশ্রুগ্রন্থিতে। চোখকে আর্দ্র রাখা, ধুলাবালি ও জীবাণুর মতো ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং চোখের পৃষ্ঠ পরিষ্কার রাখতে এই পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্বাভাবিক অবস্থায় চোখের পানি চোখের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর চোখের পাতার ভেতরের কোণে থাকা ছোট ছিদ্র দিয়ে অশ্রুনালিতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে নাকের দিকে চলে যায়।

কিন্তু জোরে হাসার সময় মুখের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। গাল ও চোখের চারপাশের পেশি সংকুচিত হওয়ায় অশ্রুগ্রন্থির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চোখের পানি নিষ্কাশনের পথেও সাময়িক প্রভাব পড়ে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি চোখে জমে এবং একসময় বাইরে গড়িয়ে আসে।

এটি কি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া?

হ্যাঁ, হাসতে হাসতে চোখে পানি আসার পেছনে প্রতিবর্তী অশ্রু নিঃসরণের ভূমিকা থাকতে পারে। হাঁচি, কাশি, হাই তোলা কিংবা বমির সময়ও অনেকের চোখে পানি আসে। এসব ক্ষেত্রে মুখের পেশির সংকোচন ও স্নায়ুর প্রতিক্রিয়ার কারণে চোখে পানি জমতে পারে।

একইভাবে খুব জোরে হাসার সময় মুখের পেশির নড়াচড়া এবং চোখের ওপর চাপের কারণে অশ্রু জমে। ফলে হাসির দমক থামার আগেই চোখ ভিজে যায়।

হাসি ও আবেগেরও রয়েছে সম্পর্ক

শুধু পেশির সংকোচন নয়, তীব্র আবেগেরও ভূমিকা থাকতে পারে। অতিরিক্ত আনন্দ, উত্তেজনা কিংবা আবেগঘন মুহূর্তে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় হয়। কখনো হাসি ও কান্নার শারীরিক প্রতিক্রিয়া কাছাকাছি সময়ে দেখা দিতে পারে। এ কারণে আনন্দের মুহূর্তেও চোখে পানি চলে আসতে পারে।

অর্থাৎ, হাসতে হাসতে চোখে পানি আসা সব সময় দুঃখ বা কান্নার লক্ষণ নয়। কখনো এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, আবার কখনো তীব্র আবেগের প্রকাশ।

সবার কি হাসলে চোখে পানি আসে?

না, সবার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না। কেউ জোরে হাসলেও চোখে পানি আসে না, আবার কারও সামান্য হাসিতেই চোখ ভিজে যায়। অশ্রু তৈরির পরিমাণ, চোখের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিভেদে শারীরিক পার্থক্যের কারণে এমন হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

শুধু হাসির সময় চোখে পানি আসা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবে হাসি ছাড়াও নিয়মিত চোখ দিয়ে পানি পড়লে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। চোখের অ্যালার্জি, সংক্রমণ, শুষ্কতা কিংবা অশ্রুনালিতে বাধা তৈরি হলে অতিরিক্ত পানি পড়তে পারে।

চোখ লাল হওয়া, ব্যথা, চুলকানি, দৃষ্টিতে সমস্যা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পানি পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে পানি পড়া শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হতে পারে। তাই প্রাণ খুলে হাসার সময় চোখ ভিজে গেলে সেটিকে সব সময় মন খারাপ বা কান্নার লক্ষণ ভাবার প্রয়োজন নেই।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি আসে কেন
রান্নার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পেঁয়াজ কাটতে হয় প্রায় প্রতিদিনই।
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি আসে কেন
অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
সকালের শুরুতে এক কাপ চা, বিকেলে ক্লান্তি দূর করতে আবারও চায়ের কাপে চুমুক—এমন অভ্যাস অনেকেরই।
অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, অবসর সময়ে সোফায় গা এলিয়ে মুঠোফোন দেখা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম না করা—আধুনিক জীবনে এমন অভ্যাস অনেকেরই।
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
আরও পড়ুন
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি আসে কেন