ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মানসিক সুস্থতার জন্য বেশি সন্তান নিন, পরামর্শ গবেষকদের

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দুটি সন্তান থাকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের সুচাউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যুক্তরাজ্যের ৫৫ হাজারের বেশি নারীর ওপর দীর্ঘমেয়াদী তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, যেসব নারীর সন্তান রয়েছে, তাদের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার এবং বিষণ্নতার মতো গুরুতর মানসিক রোগের ঝুঁকি সন্তানহীন নারীদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, সন্তানের সংখ্যা শূন্য থেকে দুই পর্যন্ত বাড়লে মানসিক রোগের ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।

তবে দুইয়ের অধিক সন্তানের ক্ষেত্রে এই সুফলের হার আর খুব একটা বাড়ে না, বরং স্থিতিশীল হয়ে যায়।

গবেষকদের মতে, প্রজনন হার কমে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে মানসিক ব্যাধির হার বাড়তে থাকার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই অনুসন্ধান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা এই সুরক্ষা বলয়ের পেছনে জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক উভয় কারণকে চিহ্নিত করেছেন। গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই হরমোনজনিত পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে মুড ডিসঅর্ডারের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন

পাশাপাশি, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মা ও শিশুর নিবিড় বন্ধন এবং নবজাতকের যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম’কে উদ্দীপ্ত করে, যা মাকে গভীর মানসিক তৃপ্তি প্রদান করে এবং বিষাদ থেকে দূরে রাখে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দ্বিতীয় সন্তানের সময় মায়েরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকেন এবং প্রথম সন্তানের তুলনায় মানসিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা তাদের জন্য সহজ হয়। দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমে আসে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই গবেষণার তথ্যমতে, ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের বড় একটি অংশ যেখানে মাঝারি থেকে মারাত্মক বিষণ্নতায় ভোগেন, সেখানে দুটি জীবিত সন্তানের মা হওয়া তাদের মানসিক সুস্থতার জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হতে পারে।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অঙ্কুরিত আলু, পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়া নিরাপদ?
রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময়ই দেখা যায় সংরক্ষিত আলু, পেঁয়াজ বা রসুনে অঙ্কুরোদগম হয়েছে। এমন অবস্থায় এগুলো খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই সংশয় জাগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঙ্কুরিত সবজি খাওয়ার বিষয়টি সব ক্ষেত্রে সমান নয় এবং বিশেষ করে আলুর ক্ষেত্রে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আলু যখন অঙ্কুরিত হতে শুরু করে, তখন এতে গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড নামক এক ধরণের প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়, যার মধ্যে সোলানাইন অন্যতম। এই উপাদানটি মূলত উদ্ভিদকে ছত্রাক ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করলেও মানুষের শরীরের জন্য এটি ক্ষতিকর। শেষ করে আলুর রঙ যদি সবুজ হয়ে যায়, তবে তা সরাসরি বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। অঙ্কুরিত আলুর ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা জানান, গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড আলুর স্বাদকে তিক্ত করে তোলে এবং এটি গ্রহণের ফলে বমিভাব, ডায়রিয়া ও পেটে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি আলুর অঙ্কুর খুব ছোট হয় এবং আলুটির গঠন শক্ত থাকে, তবে অঙ্কুরিত অংশটি গভীরভাবে কেটে ফেলে দিয়ে বাকি অংশ খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু যদি আলু নরম হয়ে যায়, কুঁচকে যায় অথবা অঙ্কুর এক ইঞ্চির বেশি লম্বা হয়, তবে তা ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া সবুজ হয়ে যাওয়া আলু কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়, কারণ সবুজ অংশটি উচ্চমাত্রার বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিত নির্দেশ করে। সোলানাইন বিষক্রিয়া বিরল হলেও এটি গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, দুর্বলতা এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, অঙ্কুরিত পেঁয়াজ ও রসুনের বিষয়টি আলুর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তুলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ। এগুলোতে আলুর মতো বিষাক্ত উপাদানের ঝুঁকি থাকে না। পেঁয়াজ ও রসুনের অঙ্কুর মূলত এতে জমা থাকা পুষ্টি থেকেই জন্মায়। তবে অঙ্কুরিত হওয়ার ফলে এগুলোর স্বাদ কিছুটা তিতকুটে হতে পারে এবং গঠন নরম হয়ে যেতে পারে। তবে যদি এগুলোতে পচন ধরে, ছত্রাক দেখা দেয় বা দুর্গন্ধ বের হয়, তবে অবশ্যই তা বর্জন করা উচিত। আরও পড়ুন নিদ্রাহীনতায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে অঙ্কুরিত বা সন্দেহজনক সবজি এড়িয়ে চলাই ভালো। সবজি দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। আলু সবসময় ঠান্ডা, শুষ্ক ও অন্ধকার স্থানে রাখা উচিত, যেখানে তাপমাত্রা তিন থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। আলু সংরক্ষণের আগে ধোয়া উচিত নয়, কারণ পানি পচন ত্বরান্বিত করে। এছাড়া আলু ও পেঁয়াজ কখনো একসাথে রাখা ঠিক নয়; কারণ এই দুটি সবজি থেকে নির্গত আর্দ্রতা ও গ্যাস একে অপরের অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে তোলে। পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার না করে বায়ু চলাচল করতে পারে এমন জাল বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। নিয়ম মেনে সবজি সংরক্ষণ করলে অপচয় যেমন কমে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হয়। আরটিভি/এএইচ
অঙ্কুরিত আলু, পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়া নিরাপদ?
পাঙাশ মাছ, শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় পাঙাশ মাছ অনেকের প্রিয় হলেও এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন এতে চর্বির মাত্রা বেশি, আবার কেউ মনে করেন এতে পুষ্টিগুণ কম। তাই পাঙাশ মাছ খাওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। এই বিষয়ে পুষ্টিবিদ জানান, সঠিক উৎস থেকে নেওয়া এবং নিরাপদভাবে রান্না করা হলে পাঙাশ মাছ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। পাঙাশ মাছের পুষ্টিগুণ পাঙাশ মাছের মধ্যে রয়েছে: .উচ্চমানের প্রোটিন .প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড .আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (ভালো চর্বি) .ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড .ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস .এই পুষ্টিগুণগুলো শরীর গঠন, হাড় মজবুত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাঙাশ মাছের উপকারিতা হার্টের জন্য ভালো: ওমেগা-৩ ও ভালো চর্বি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। পেশি গঠনে সহায়ক: উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে ভূমিকা রাখে। হাড় ও দাঁত মজবুত: ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের গঠন শক্তিশালী করে। গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী: ওমেগা-৩ ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় রাখে। কখন পাঙাশ মাছ ক্ষতিকর হতে পারে? মাহিনুর ফেরদৌসের মতে, অনেক পুকুরে পাঙাশ মাছ কৃত্রিম খাদ্য, ওষুধ ও কখনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে চাষ করা হয়। এছাড়া সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন বা অন্যান্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হলে তা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণ ও অপর্যাপ্ত রান্নাও ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং পাঙাশ মাছ খাবেন কীভাবে? .নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ উৎস থেকে কিনুন। .সম্ভব হলে নদীর পাঙাশ বা প্রাকৃতিকভাবে চাষকৃত মাছ বেছে নিন। আরও পড়ুন শীতে চুলের যত্নে করণীয় .ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করুন। .খাদ্যতালিকায় মাছের বৈচিত্র্য বজায় রাখুন। .সচেতনতা অবলম্বন করলে পাঙাশ মাছ হতে পারে সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর একটি খাবার। আরটিভি/এসকে
পাঙাশ মাছ, শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
দেশে এখন শীতকাল চলছে। শীতকাল মানেই প্রকৃতি শুষ্ক হয়ে ওঠা। শীতের হিমেল হাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হওয়ার পাশাপাশি চুলেও দেখা দেয় নানা সমস্যা। খুশকি, চুল পড়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে ফেটে যাওয়া এই সময়ের সাধারণ ঘটনা। আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চুলে সিল্কি ভাব ধরে রাখতে সহজ কিছু যত্ন ও ঘরোয়া উপায়ে শীতকালে চুল ঠিক রাখা যায়।  ​শীতে চুলের জেল্লা বজায় রাখতে কার্যকরী কিছু টিপস। শীতের রুক্ষতা থেকে চুলকে বাঁচাতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। ঘরোয়া কিছু অভ্যাস আর সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার চুলকে ঝলমলে রাখতে। শীতে চুলের যত্নে করণীয় কী জানুন-​নিয়মিত তেল মালিশ​শীতকালে মাথার ত্বক দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কুসুম গরম নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল চুলে মালিশ করুন। এটি চুলে পুষ্টি জোগায় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।​অতিরিক্ত গরম পানি পরিহার​ঠাণ্ডার ভয়ে চুলে সরাসরি খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নিয়ে চুলকে আরও রুক্ষ করে দেয়। সবসময় কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার অভ্যাস করুন। কন্ডিশনারের সঠিক ব্যবহার​শীতে চুল নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তাই শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। তবে খেয়াল রাখবেন, কন্ডিশনার যেন মাথার ত্বকে না লাগে; এটি শুধুমাত্র চুলের মাঝখান থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত লাগাবেন।​খুশকি থেকে মুক্তি​শীতের প্রধান শত্রু হলো খুশকি। খুশকি দূর করতে লেবুর রস বা আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ভালো মানের অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। হেয়ার মাস্কের ব্যবহার​সপ্তাহে একদিন প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।​প্যাক: ১টি ডিম, ১ চামচ মধু এবং টক দই মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।​ভেজা চুলে বাইরে না যাওয়া​ভেজা চুলে বাইরে বের হলে বাতাসে থাকা ধুলোবালি সহজেই চুলে আটকে যায় এবং চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ভেজা চুলে ঠাণ্ডা লাগার ভয়ও থাকে। তাই চুল ভালো করে শুকিয়ে তবেই বাইরে বের হন।​খাদ্যতালিকায় নজর দিন​বাইরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টি প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, বাদাম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। অ্যালোভেরা জেলশীতে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন অ্যালোভেরা জেল। এটি ত্বকের জ্বালা কমায় এবং মাথার ত্বক আর্দ্র রাখে। যাদের অনেক বেশি খুশকি হয়, তারা অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। কেননা শীতকালে চুল সহজেই রুক্ষ হয়ে যায়।  শীতকালে ত্বকের ও চুলের যত্নে কিন্তু আপনাকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে। শীতের শাকসবজি ও ফল সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজন। শিম, বরবটি, নানারকম শাক, মটরশুঁটি, ফুলকপি ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। হাতের নাগালের সব ফলই প্রতিদিন খাবেন। যেমন-আপেল, আমলকী কিংবা আমড়া সে যা-ই হোক না কেন। শীতে ত্বক-চুলের পরিচর্যা করতে এই সহজ কিছু পদ্ধতি অনুসরন করলেই ত্বক এবং চুল উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখা যায়। তাই টিপসগুলো মেনে এই শীতে পান উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক ও চুল।​মনে রাখবেন: শীতকালে বারবার চুল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আরটিভি/এসকে
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
নিদ্রাহীনতায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
আধুনিক নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা আর প্রযুক্তির অতি ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বিঘ্নিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তি নয়, বরং শরীর ও মনে দীর্ঘমেয়াদি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।  সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদের মতে, ঘুমের নির্দিষ্ট স্তরগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘুমের এই চক্র বা স্তরগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা রাতের শিফটে কাজ করেন এবং দিনের বেলা ঘুমান, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও স্থূলতা বা মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। বয়স ভেদে এই চাহিদার ভিন্নতা রয়েছে; যেমন নবজাতকদের ১৮ ঘণ্টা এবং কিশোর-কিশোরীদের অন্তত ১০ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। ঘুমের সময় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং মস্তিষ্কের বর্জ্য নিষ্কাশিত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে মনোযোগের ঘাটতি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, বিষণ্ণতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিবিভ্রমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি অনিদ্রার কারণে মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং যৌন উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলার মতো গুরুতর মানসিক ও শারীরিক সংকটও তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন নিঃশব্দে সম্পর্ক ভেঙে দেয় যে ৩ অভ্যাস নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, মেনোপজ এবং সন্তান জন্মের পরবর্তী সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘুমের মান ও পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবসাদ ও উদ্বেগের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া ঘুমের অভাবে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে পেটের সমস্যা ও গ্যাসের সমস্যা স্থায়ী রূপ নেয়। মাদক, ক্যাফেইন কিংবা সিগারেটের আসক্তিও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে মানসিক অসুস্থতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের শরীর দ্রুত রোগাক্রান্ত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সুস্থ থাকতে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সময়মতো ও পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। আরটিভি/এএইচ
নিদ্রাহীনতায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
সিসা থেকে কীভাবে শিশুদের মুক্ত রাখবেন
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলো আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় সিসার উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রোটিন পাউডার, দারুচিনি, আপেল এমনকি ডার্ক চকলেটের মতো নিয়মিত ব্যবহৃত পণ্যগুলোতেও ক্ষতিকর এই উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। সিসা মূলত মাটি ও পরিবেশে বিদ্যমান একটি মৌলিক উপাদান হওয়ায় গাছপালা ও প্রাণিজ খাদ্যে এর সামান্য উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। তবে এই সামান্য মাত্রার ঝুঁকি এবং জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্কের মধ্যে একটি বড় ব্যবধান রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা মোকাবিলায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সিসার সংস্পর্শে আসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। সামান্য পরিমাণ সিসাও শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে, যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। বাংলাদেশে সিসা দূষণের চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার শিশুদের রক্তে সিসার গড় ঘনত্ব প্রতি লিটারে ৬৭ মাইক্রোগ্রাম, যা মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের প্রায় দ্বিগুণ। এই নীরব বিষ শিশুদের আইকিউ কমিয়ে দিচ্ছে এবং নানা ধরনের আচরণগত সমস্যা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঝুঁকির মাত্রা পরিমাপের ক্ষেত্রে ‘ডোজ’ বা পরিমাণের গুরুত্ব অপরিসীম। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সিসা গ্রহণের যে সর্বোচ্চ দৈনিক সীমা নির্ধারণ করেছে, তা যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করা হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আরও পড়ুন শিশুর সর্দি-কাশি নিউমোনিয়া নয় তো সিসা দূষণ এড়ানোর অন্যতম প্রধান উপায় হলো খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা। কোনো নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত বা অতিরিক্ত পরিমাণে না খেয়ে সব ধরনের খাবার পরিমিতভাবে গ্রহণ করলে সিসাসহ অন্যান্য পরিবেশগত দূষণকারীর সংস্পর্শ কমে যায়। পাশাপাশি সিসাযুক্ত মসলা, খেলনা বা প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের মাটি বা পুরোনো রং করা দেয়ালের কাছে খেলতে না দেওয়া এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, সিসার প্রধান উৎসগুলো যেমন—পুরোনো রং, দূষিত পানি এবং ব্যাটারি কারখানার বর্জ্যের ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দূষণের হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত মাটি পরিষ্কার করা, সিসাযুক্ত পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিসা নিয়ে অহেতুক ভয় না পেয়ে বৈচিত্র্যময় ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও সিসামুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব। সূত্র: ওয়েব এমডি, জার্নাল অব হেলথ অ্যান্ড পলিউশন আরটিভি/এএইচ
সিসা থেকে কীভাবে শিশুদের মুক্ত রাখবেন
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যের অবস্থা জানালেন ডা. জাহিদ
ঋতুস্রাবের সময় শ্যাম্পু করলে কি চুল পড়বে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
নারীদের জরায়ুতে সিস্ট: কারণ, লক্ষণ ও করণীয়
বিবেক জাগান