
শীতে অনেকেরই হাত-পা বা সারা শরীরে চুলকানি হয়। এটি শীতকালের খুবই সাধারণ একটি সমস্যা হলেও সঠিক কারণ ও প্রতিকার না জানায় অনেকেই দীর্ঘসময় কষ্টে ভোগেন।
মূলত শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় চারপাশের শুষ্ক বাতাস আমাদের ত্বক থেকে দ্রুত পানি শুষে নেয়। এর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং সুরক্ষার স্তরটি দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই অতিরিক্ত শুষ্কতা থেকেই মূলত ত্বক ফাটা বা চুলকানির মতো সমস্যার সূত্রপাত ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে চুলকানি বাড়ার পেছনে আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসও দায়ী। যেমন—কনকনে ঠান্ডায় গরম পানিতে গোসল করা সাময়িকভাবে আরামদায়ক মনে হলেও, এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে ত্বককে আরও রুক্ষ করে তোলে।
এছাড়া উলের বা সিনথেটিক পোশাকের রুক্ষ তন্তু সংবেদনশীল ত্বকে ঘর্ষণ তৈরি করে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। শীতকালীন এই শুষ্কতার সুযোগে একজিমা, সোরিয়াসিস বা খোসপাঁচড়ার মতো চর্মরোগের প্রকোপও এই সময়ে অনেক বেড়ে যায়।
এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখতে শীতকালেও প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার পান করতে হবে। গোসলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম পানির বদলে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা এবং সময় ৫-১০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ভালো।
সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুগন্ধিমুক্ত ও মৃদু সাবান বেছে নেওয়া জরুরি। গোসলের পর ত্বক পুরোপুরি শুকানোর আগেই যখন সামান্য ভেজা থাকে, তখনই ঘন ও তেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা উচিত যা ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম।
পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সরাসরি উলের পোশাক না পরে তার নিচে সুতির নরম কাপড় পরা ত্বকের জন্য নিরাপদ। এছাড়া রোদে বের হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত যাতে ত্বক রুক্ষ না হয়।
খুব বেশি চুলকানি হলে আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা ভেজা তোয়ালে বা বরফের প্যাক ব্যবহার করে সাময়িক উপশম পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘরোয়া উপায়ে সমস্যার সমাধান না হলে বা সংক্রমণ বেশি মনে হলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আরটিভি/এএইচ


