ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সাধারণ উপসর্গ যখন জীবননাশের কারণ, পরীক্ষা করতে হবে ফুড অ্যালার্জি

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
প্রতীকী ছবি

বর্তমান সময়ে শারীরিক নানা সমস্যার মধ্যে ফুড অ্যালার্জি বা খাবারে অ্যালার্জি একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় কেউ দুধ খেলে বমি করছেন, কারও চিংড়ি খেলে ত্বকে ফুসকুড়ি উঠছে, আবার কারও বেগুন বা ইলিশ মাছ খেলে অস্বস্তি হচ্ছে।

সাধারণত আমরা এসব সমস্যাকে হজমের গোলমাল ভেবে এড়িয়ে যাই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এগুলো আসলে শরীরের জটিল রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি প্রতিক্রিয়া। খাবারের প্রতি শরীরের এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া কেবল অস্বস্তিকরই নয়, সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

খাবারে অ্যালার্জির লক্ষণ ও ধরন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। যেমন অনেকের শরীরে দুধ হজমকারী প্রয়োজনীয় ল্যাক্টোজ তৈরি হয় না, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স’ বলা হয়।

আবার অনেকে আটা, ময়দা বা দানাশস্যে থাকা ‘গ্লুটেন’ প্রোটিনের কারণে অ্যালার্জিতে ভোগেন। এমনকি ফল বা বাদাম থেকেও অনেকের শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

ফুড অ্যালার্জির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো ‘অ্যানাফাইল্যাক্সিস’, যেখানে রোগীর শ্বাসকষ্ট হওয়া, গলা ফুলে যাওয়া, রক্তচাপ দ্রুত কমে যাওয়া এবং জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এটি এতটাই তীব্র হতে পারে যে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেলে প্রাণহানির ঝুঁকিও থেকে যায়।

এই ঝুঁকি এড়াতে এবং সুস্থ থাকতে ফুড অ্যালার্জি পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব ঠিক কোন খাবারগুলো আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অনেক সময় মানুষ কেবল সন্দেহের বশে অনেক পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়, যার ফলে শরীরে ভিটামিন ও খনিজের অভাব দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন

পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক অ্যালার্জেন শনাক্ত করা গেলে অপ্রয়োজনীয় ডায়েট কন্ট্রোল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এছাড়া রক্তে কোন কোন অ্যালার্জেন মিশে আছে এবং তা ভবিষ্যতে কী ধরনের ক্ষতি করতে পারে, সে বিষয়ে আগাম নিশ্চিত হওয়া যায়।

দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, এগজিমা, বারবার পেটের সমস্যা বা ঘন ঘন গ্যাস হওয়ার প্রকৃত কারণ অনেক সময় খাবারের অ্যালার্জি হলেও সঠিক পরীক্ষা ছাড়া তা ধরা পড়ে না। ফলে ভুল ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। পরীক্ষা করার মাধ্যমে বিপজ্জনক অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা সহজ হয়।

তাই শরীরের কোনো খাবার নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিলে তা অবহেলা না করে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সচেতনতাই সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী