ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ এএম
কাল্পনিক ছবি

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা। এসব লক্ষণ কখনো কখনো শরীরের জৈবিক বয়স বা ‘বায়োলজিক্যাল এজ’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

জন্মতারিখ অনুযায়ী বয়সকে বলা হয় কালানুক্রমিক বয়স। অন্যদিকে, শরীরের কোষ, টিস্যু ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা বিবেচনায় যে বয়সের ধারণা পাওয়া যায়, তা হলো জৈবিক বয়স। জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা ও পরিবেশের প্রভাব এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু শারীরিক পরিবর্তন খেয়াল করলে বয়সজনিত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া সম্ভব। বয়সের তুলনায় শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে এমন আটটি লক্ষণ জেনে নেওয়া যাক।

১. বোতল বা বয়ামের ঢাকনা খুলতে কষ্ট হওয়া

আগের মতো সহজে শক্ত ঢাকনা খুলতে পারছেন না কিংবা ভারী ব্যাগ বহন করতে কষ্ট হচ্ছে? হাতের মুঠোর শক্তি বা ‘হ্যান্ড গ্রিপ স্ট্রেন্থ’ কমে যাওয়ার কারণে এমন হতে পারে। হাতের মুঠোর শক্তি শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থভাবে বয়স বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নিয়মিত ব্যায়াম এবং পেশির শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

২. সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া

সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় আগের চেয়ে বেশি হাঁপিয়ে যাওয়া বা পায়ে শক্তি না পাওয়া শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। সিঁড়ি ভাঙতে পেশির শক্তি, ভারসাম্য ও হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়সের সঙ্গে পেশির ভর ও শক্তি কমে যাওয়ার সমস্যাকে বলা হয় ‘সারকোপেনিয়া’।

৩. হাঁটার গতি কমে যাওয়া

আগের তুলনায় হাঁটার গতি কমে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। হাঁটার গতি পায়ের পেশি, স্নায়ু এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। বয়স বাড়ার সঙ্গে হাঁটার গতি কমতে পারে। তবে হঠাৎ বা অস্বাভাবিকভাবে গতি কমে গেলে এর পেছনে অন্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।

৪. ভারসাম্য রাখতে হাতল ধরতে হওয়া

হাঁটার সময় কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় ভারসাম্য ধরে রাখতে রেলিং বা অন্য কিছুর ওপর বেশি নির্ভর করতে হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পেশির দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কিংবা স্নায়ু ও পেশির সমন্বয়ে ঘাটতির কারণে এমন হতে পারে। ভারসাম্য কমে গেলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

৫. রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া

বয়স বাড়ার সঙ্গে ঘুমের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় জেগে থাকা ঘুমের মান খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা প্রায় ১২ হাজার মানুষের ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘুমের ধরন ও জৈবিক বয়সের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তবে ঘুমের সমস্যা মানেই দ্রুত বার্ধক্য নয়; মানসিক চাপ, ওষুধ কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

ঘুমের মান উন্নত করতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা এবং ঘুমের আগে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।

৬. প্রিয় পোশাকের ফিট বদলে যাওয়া

ওজন খুব বেশি না বাড়লেও কোমরের কাছে পোশাক আঁটসাঁট হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের অন্য অংশে ঢিলেঢালা মনে হওয়া শরীরের গঠনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির ভর কমে এবং পেটের আশপাশে চর্বি জমতে পারে। পেটের অতিরিক্ত চর্বি হৃদ্‌রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

৭. শরীরে অকারণে কালশিটে পড়া

সামান্য আঘাতেই কালশিটে পড়লে ত্বকের অবস্থা ও অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খেয়াল করা জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বক পাতলা হতে পারে এবং রক্তনালি সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শেও ত্বকের ক্ষতি হয়। তবে অকারণে ঘন ঘন কালশিটে পড়া, বড় কালশিটে তৈরি হওয়া কিংবা রক্তপাতের মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৮. ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ পড়া

ত্বকে বলিরেখা, কুঁচকে যাওয়া ও কালচে দাগ বয়স বাড়ার স্বাভাবিক অংশ। তবে এসব পরিবর্তন প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত দেখা দিলে জীবনযাপন ও পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ, ধূমপান, বায়ুদূষণ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে পারে।

ত্বক সুরক্ষায় নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা সহায়ক।

বয়সের ছাপ কমাতে কী করবেন?

সুস্থভাবে বয়স বাড়ার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা, পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ওজন, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও প্রয়োজন।

মনে রাখতে হবে, এই আটটি লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলেই যে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। এগুলো জৈবিক বয়স নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা নয়; বরং শারীরিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য সংকেত। কোনো লক্ষণ হঠাৎ দেখা দিলে, ক্রমাগত বাড়তে থাকলে বা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: দ্য হেলদি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
ফলের মধ্যে আপেল বেশ জনপ্রিয়। সুস্বাদু এই ফলটি লাল, সবুজ ও হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি আপেলের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, নানা জাত ও পরিবেশগত গুরুত্ব। এসব বৈচিত্র্য তুলে ধরতে প্রতিবছর ২১ অক্টোবর পালিত হয় অ্যাপল ডে, যা ন্যাশনাল অ্যাপল ডে নামেও পরিচিত। অ্যাপল ডে কী ও কেন পালিত হয়? অ্যাপল ডে শুধু আপেল খাওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপনের দিন নয়। আপেলের বিভিন্ন জাতের পরিচিতি বাড়ানো, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরিও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বাজারে সাধারণত কয়েক ধরনের আপেল বেশি দেখা গেলেও বিশ্বজুড়ে রয়েছে হাজার হাজার জাত। এসব আপেলের রং, আকার, স্বাদ ও গন্ধে রয়েছে ভিন্নতা। দিবসটি মানুষকে আপেলের এই বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করে। এ ছাড়া ফলের বাগান বিভিন্ন পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আপেল দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অ্যাপল দিবসের ইতিহাস অ্যাপল দিবসের সূচনা হয় ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে। পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা কমন গ্রাউন্ড (Common Ground) ওই বছরের ২১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি আয়োজন করে। লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনের পুরোনো অ্যাপল মার্কেটে অনুষ্ঠিত প্রথম আয়োজনে প্রায় ৪০টি স্টলে বিভিন্ন জাতের আপেল, আপেলগাছের চারা, আপেলের রস ও সাইডারসহ নানা পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এতে আপেল নিয়ে কাজ করা লেখক ও চিত্রকররাও অংশ নেন। যুক্তরাজ্যে ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান কমে যাওয়া এবং স্থানীয় আপেলের অনেক জাতের পরিচিতি হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন শহর, গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে অ্যাপল দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের প্রদর্শনী, ফলের স্বাদ গ্রহণ, রান্নার আয়োজন এবং বাগান পরিচর্যা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আপেল সম্পর্কে ৬টি মজার তথ্য ১. বিশ্বে আপেলের হাজার হাজার জাত রয়েছে আপেল বলতে শুধু লাল বা সবুজ ফলকেই বোঝায় না। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বে আপেলের ৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাত রয়েছে। জাতভেদে এসব আপেলের স্বাদ, রং, আকার ও ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়। ২. আপেল পানিতে ভাসে আপেলের ভেতরের প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গা বাতাসে পূর্ণ। এ কারণে আপেলের ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হওয়ায় এটি সাধারণত পানিতে ভেসে থাকে। ৩. আপেল ও গোলাপ একই পরিবারের আপেল ও গোলাপ দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানে এরা একই পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের নাম রোজেসি (Rosaceae)। নাশপাতি, পিচ ও বরইও এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ৪. আপেলের আদি উৎস মধ্য এশিয়া গৃহপালিত আপেলের উৎপত্তির ইতিহাস মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে বর্তমান কাজাখস্তান অঞ্চলে পাওয়া বুনো আপেলকে আধুনিক আপেলের পূর্বপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ৫. আপেল দিয়ে তৈরি হয় নানা খাবার সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি আপেল দিয়ে জুস, জ্যাম, পাই, কেক, সালাদ ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আপেল থেকে সাইডারও তৈরি করা হয়। ৬. আপেল দিবসে থাকে নানা আয়োজন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের জাত চেনা, ফলের রস তৈরি, আপেল দিয়ে রান্না, বাগান পরিচর্যা এবং শিশুদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়। কোথাও কোথাও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন জাতের আপেল শনাক্ত করতেও সহায়তা করেন। আপেলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা আপেল খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আপেল খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে শুধু আপেল খেয়ে শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা প্রয়োজন। আপেল খাওয়ার আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি। প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আপেল দিবসের গুরুত্ব জাতীয় আপেল দিবস একটি ফলকে কেন্দ্র করে পালিত হলেও এর গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। আপেলের বৈচিত্র্য রক্ষা, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেয় এই দিবস। ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ প্রতিবছর ২১ অক্টোবর মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, একটি ফলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে কৃষি, পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সম্পর্ক। আরটিভি/এসকে
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার। যদিও পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম, তবে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধানে কার্যকর ৪ উপায়
সন্তান না হলে অনেক সময় এর দায় নারীর ওপর চাপানো হয়। তবে বন্ধ্যত্ব শুধু নারীর সমস্যা নয়, পুরুষেরও হতে পারে। শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণগত মান বা চলাচলের সক্ষমতায় সমস্যা থাকলে পুরুষের সন্তান জন্মদানে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধানে কার্যকর ৪ উপায়