ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কাঁচা হলুদ দিয়ে ৭ সুস্বাদু খাবার তৈরি করুন, কমবে কোলেস্টেরল ও প্রদাহ

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩০ পিএম
সংগৃহীত ছবি

রান্নাঘরের মশলাপাতির তালিকায় হলুদ ছাড়া বাঙালি রান্না ভাবাই যায় না। তবে অধিকাংশ গৃহিণীই রান্নায় প্যাকেটের গুঁড়ো হলুদ ব্যবহারে অভ্যস্ত।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গুঁড়ো হলুদের চেয়ে কাঁচা হলুদ শরীরে অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষ করে হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ভিটামিন সি বা ই-র চেয়েও কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকদের মতে, কাঁচা হলুদকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে তা কেবল রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, বরং শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখে।

শীতকাল হোক বা সারা বছর, কাঁচা হলুদ দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যায় কয়েকটি খাবার। আসুন জেনে নেই চটজলদি।

কাঁচা হলুদের আচার

টুকরো করা হলুদের সঙ্গে সর্ষের তেল মেশাতে হবে তার পর তাতে কাঁচালঙ্কা, লবণ, রসুন ও আদা— সব দিয়ে চটজলদি বানানো যায় এই আচার। সকালে পরোটার সঙ্গে দারুণ লাগে খেতে।

হলুদের তরকারি

রাজস্থান বা উত্তরপ্রদেশের জনপ্রিয় খাবার এটি। এখন স্বাস্থ্য সচেতনদের পছন্দের তালিকায়ও শীর্ষে এ খাবার। কাঁচা হলুদ, বেসন, আদা ও বিভিন্ন মশলা ব্যবহার করে মাখামাখা এই তরকারি তৈরি করা হয়। গরম গরম রুটি ও ভাতের সঙ্গে খাওয়া যায় এই তরকারি।

কাঁচা হলুদের থোক্কু

দক্ষিণ ভারতের স্বাদ নিতে চাইলে বানিয়ে ফেলতে পারেন তামিলনাড়ুর বিখ্যাত এই থোক্কু। থোক্কু মূলত কাঁচা হলুদ, তেঁতুল, শুকনোলঙ্কা ও তিলের তেল দিয়ে তৈরি ঘন ও ঝাল ঝাল চাটনি। দই-ভাতের সঙ্গে ভাল লাগে।

কাঁচা হলুদের ঘি

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং হলুদের গুনাগুণ একসঙ্গে পেতে ‘কাঁচা হলুদের ঘি’ একটি চমৎকার বিকল্প। কাঁচা হলুদ ধীরে ধীরে দেশি ঘিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হয়। তার পর ছেঁকে নেওয়া হয়। এই মিশ্রণ রুটিতে মাখিয়ে খেলে বা অন্য রান্নায় ব্যবহার করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

কাঁচা হলুদের চাটনি

হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি স্বাদের ‘কাঁচা হলুদের চাটনি’ যা সর্ষে ও লেবুর রস দিয়ে তৈরি হয়, তা যে কোনও বিস্বাদ মুখে রুচি ফেরাতে সক্ষম। পানীয় হিসেবে উত্তর ভারতের জনপ্রিয় ‘হলুদের কাঞ্জি’ বেশ পরিচিত। গোটা সর্ষে, লেবুর রস ও লবণের সঙ্গে কাঁচা হলুদ বেটে তৈরি করা হয় ঝাঁঝালো স্বাদের এই চাটনি।

আরও পড়ুন

হলুদের কাঞ্জি

কাঁচা হলুদের তৈরি এই টক পানীয় হজমে সাহায্য করে। উত্তর ভারতে সকালের নাস্তায় ভিন্নতা আনতে গুজরাতি ‘হলুদের থেপলা’ হতে পারে সেরা পছন্দ। কাঁচা হলুদ, গাজর ও সর্ষেগুঁড়ো মিশিয়ে তৈরি করা হয় টক টক এ পানীয়।

হলুদের থেপলা

শীতকালের জন্য সেরা খাবার গুজরাতি এই পদ। মেথি পাতা, লবণ, জিরা ও গোলমরিচের সঙ্গে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে তৈরি এই পুষ্টিকর খাবারটি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের ডায়েটে এই ছোটখাটো পরিবর্তনই আপনার হার্ট ও সার্বিক স্বাস্থ্যকে রাখতে পারে সুরক্ষিত।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শীতে যেভাবে চিয়া সিড দিয়ে বানাবেন মজাদার ভাপা ও চিতই পিঠা
শীত মানেই পিঠা-পুলির এক বিশেষ উৎসব। তবে সময়ের সাথে সাথে চিরায়ত রেসিপিতেও আসছে আধুনিকতার ছোঁয়া। যারা স্বাস্থ্য সচেতন এবং নিত্যনতুন স্বাদের সন্ধানে থাকেন, তাদের জন্য এবারের শীতে দারুণ এক সংযোজন হতে পারে চিয়া সিড পিঠা। সুপারফুড হিসেবে পরিচিত এই চিয়া সিড দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যায় স্বাস্থ্যকর ও মজাদার পিঠা। ​চিয়া সিড ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, প্রোটিন, এবং বিভিন্ন খনিজে ভরপুর। এটি হজমে সাহায্য করে, শরীরের শক্তি জোগায় এবং শীতকালে শরীরকে উষ্ণ রাখতেও কার্যকরী। চিরায়ত পিঠার রেসিপিতে চিয়া সিড যোগ করে যেমন স্বাদে নতুনত্ব আনা যায়, তেমনি পিঠার স্বাস্থ্যগুণও অনেকখানি বাড়ানো সম্ভব। রেসিপি: চিয়া সিড যুক্ত ভাপা বা চিতই পিঠা। যে কোনো পরিচিত পিঠার রেসিপিতেই চিয়া সিড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ভাপা বা চিতই পিঠার মতো নরম পিঠার সাথে এর জেলির মতো টেক্সচার বেশ মানিয়ে যায়। ​উপকরণ:​চালের গুঁড়ো: ২ কাপ​চিয়া সিড: ২ টেবিল চামচ​গরম জল: পরিমাণমতো​খেজুরের গুড় (স্বাদমতো), নারিকেল কোরা, বা মাংস/ভর্তা (যে কোনো পরিবেশনের জন্য)​প্রস্তুত প্রণালী:​১. চিয়া সিড প্রস্তুত: প্রথমে চিয়া সিডগুলো সামান্য গরম জলে (বা দুধে) ভিজিয়ে রাখুন অন্তত ৩০ মিনিট। চিয়া সিড ফুলে উঠে জেলির মতো হয়ে যাবে।২. পিঠার মিশ্রণ: চালের গুঁড়োর সাথে সামান্য লবণ ও পরিমাণমতো উষ্ণ জল মিশিয়ে ঘন গোলা তৈরি করুন (যেমনটা চিতই বা ভাপা পিঠার জন্য করা হয়)। খেয়াল রাখতে হবে গোলা যেন খুব বেশি পাতলা না হয়।৩. চিয়া সিড যোগ: এবার তৈরি করা গোলার সাথে ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড হালকাভাবে মিশিয়ে দিন।৪. পিঠা তৈরি: এরপর এই মিশ্রণটি দিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভাপা পিঠা অথবা চিতই পিঠা তৈরি করে নিন।৫. পরিবেশন: গরম গরম এই চিয়া সিড পিঠা খেজুরের গুড় ও নারিকেলের সাথে (মিষ্টির জন্য) অথবা নানা প্রকার ভর্তা ও মাংসের ঝোলের সাথে পরিবেশন করুন। ​চিয়া সিড পিঠা একদিকে যেমন শীতের মজাদার স্বাদ বজায় রাখে, তেমনি স্বাস্থ্যকর উপাদানের কারণে এটি পরিবারের সকলের জন্য হতে পারে এক চমৎকার নাস্তার বিকল্প। আরটিভি/এসকে
শীতে যেভাবে চিয়া সিড দিয়ে বানাবেন মজাদার ভাপা ও চিতই পিঠা
নিয়মিত বিটরুট খেলে পাবেন যেসব উপকার
সুপার ফুড হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিটরুট। এই রঙিন সবজি শরীরের নানা উপকারে আসে। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে ত্বক, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিটরুটে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জিংক, আয়োডিন, ভিটামিন এ, বি৬, সি, ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, রিবোফ্লাবিন ও পটাশিয়ামসহ নানা উপকারী উপাদান। নিয়মিত এই সবজি খেলে নিচের উপকারগুলো পাওয়া যায়:  অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর:বিটরুট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দশটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবজির একটি। এটি শরীরকে ক্ষতিকর অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করে। ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক:বিটরুটে থাকা উদ্ভিদ রঙ্গক ‘বেটাসায়ানিন’ শুধু এর উজ্জ্বল লাল রঙের জন্য নয়, বরং মূত্রাশয় ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের বিকাশ রোধেও সহায়তা করে। এতে থাকা ফেরিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ক্যানসার প্রতিরোধী যৌগ শরীরকে সুরক্ষা দেয়। প্রদাহ কমায়:বেটালাইনস নামক উপাদান প্রদাহের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে। হাঁটুর ব্যথা বা জয়েন্টের ফোলাভাব কমাতেও এটি কার্যকর। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে:বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্তনালী শিথিল করে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে এবং রক্তচাপ কমায়। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। শক্তি বৃদ্ধি করে:ব্যায়ামের পর পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিটরুটের নাইট্রেট পেশি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে। হজমে সহায়ক:বিটরুটে থাকা ফাইবার ও বেটাওয়েন অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বাড়ায়, ফলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।  অন্ত্রের সুরক্ষায়:গ্লুটামিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিডের অন্যতম উৎস বিটরুট। এটি অন্ত্রের আস্তরণকে আঘাত বা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়াম ও বিটরুট খাওয়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে মানসিক সতেজতা বজায় রাখে। মেনোপজ পরবর্তী সুস্থতায়:মেনোপজের পর নারীদের রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এই সময় নাইট্রেট সমৃদ্ধ বিটরুট খাদ্যতালিকায় রাখলে তা শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক। রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে:আঙুল ও পায়ে রক্ত সঠিকভাবে না চললে ব্যথা বা অসাড়তা দেখা দেয়। বিটরুটের রস রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। আরও পড়ুন চা স্বাস্থ্যকর করে তুলবেন যেভাবে চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে বিটরুট যুক্ত করলে সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতা, ত্বকের সৌন্দর্য ও মানসিক সতেজতা বাড়ে। আরটিভি/এসকে 
নিয়মিত বিটরুট খেলে পাবেন যেসব উপকার
১০ মিনিটেই বানিয়ে নিন দই
যদি হাতে ১০ মিনিট সময় থাকে, তবে চটজলদি বানিয়ে ফেলুন দই। বাড়িতে ৩টা উপকরণ থাকলেই চলবে। বর্ষাকালে পেটের সমস্যা রুখতে পুষ্টিবিদরা ডায়েটে বেশি করে দই রাখার কথা বলেন। দইয়ের ঘোল, লস্যি, স্যালাড সঙ্গে অবশ্যই দুপুরে খাওয়ার পাতে এক বাটি টক দই। অনেকেই বাড়িতেই দই পেতে নেন। অনেকের কাছে আবার দই বানানো অনেক কঠিন কাজ। কিছুতেই দই বসে না কারও কারও হাতে। সময় বেশি লাগে বলেও অনেকে বাড়িতে দই পাততেও চান না। অথচ হাতে ১০ মিনিট সময় থাকলেই বানিয়ে ফেলতে পারেন দই। বাড়িতে তিনটি উপকরণ থাকলে মাত্র ১০ মিনিটেই দই বানিয়ে ফেলা সম্ভব। কী ভাবে ১০ মিনিটে দই বানাবেন? একটি পাত্রে এক কাপ ফুল ফ্যাট গুঁড়ো দুধ নিয়ে তাতে আধ কাপ গরম পানি ঢেলে খুব করে মিশিয়ে নিন। দেখবেন যেনপানির মধ্যে গুঁড়ো দুধ দলা না পাকিয়ে যায়। এ বার সেই মিশ্রণে ২ টেবিল চামচ ভিনিগার মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি খুব ভাল করে মিশিয়ে নিন ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের জন্য। এ বার মিশ্রণটি ১০ মিনিট পর ঢাকা দিয়ে রাখুন। ঢাকা সরালে দেখবেন, তৈরি হয়ে গেছে জমাট বাঁধা দই। এটি এ বার স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারবেন রান্নায় কিংবা শুধু খাওয়ার জন্য। ফ্রিজে রেখে বেশ কয়েক দিন ধরেই খাওয়া যাবে এই দই।  আরটিভি/এমএ 
১০ মিনিটেই বানিয়ে নিন দই
উৎসব-পার্বণে বিশেষ রেসিপি ‘ইলিশ পোলাও’
বাংলা খাবারের ঐতিহ্যে ইলিশের নাম আসলেই যেন জিভে জল চলে আসে। ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, এটি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও গর্বের প্রতীক। আর এই রুপালী মাছ যখন পোলাওয়ের সুগন্ধি চাল, ঘি ও মসলার সাথে মিশে যায়, তখন তৈরি হয় এক অসাধারণ রাজকীয় খাবার ‘ইলিশ পোলাও।’ এই পদটি বাঙালি রান্নার এক অনন্য সৃষ্টি, যা বিশেষ করে উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা বিশেষ দিনগুলোতে পরিবেশন করা হয়। ইলিশ পোলাও শুধুমাত্র স্বাদেই নয়, গন্ধ ও রঙের দিক থেকেও মনকে আকর্ষণ করে। ইলিশের ঝাঁঝালো স্বাদ আর পোলাওয়ের মিষ্টি ঘ্রাণ একত্রে তৈরি করে অপূর্ব সমন্বয়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিশেষ এই পদটির বন্ধনপ্রণালি— উপকরণপোলাও চাল: ৪ কাপইলিশ মাছ: ১০ টুকরাইলিশের স্টক: ৮ কাপনারকেল দুধ: ১ কাপপেঁয়াজ বেরেস্তা: আধা কাপপেঁয়াজবাটা: সিকি কাপমরিচগুঁড়া: আধা চা-চামচধনেগুঁড়া: আধা চা-চামচকাঁচা মরিচবাটা: ১ টেবিল চামচতেল: আধা কাপকাঁচা মরিচ: ১২টিলবণ স্বাদমতো: আদাবাটা ১ চা-চামচরসুনবাটা: ১ চা-চামচপানি: ১২ কাপ আরও পড়ুন প্রতিদিনের কফি পান: হৃদযন্ত্রে উপকার, তবে থাকতে হবে সতর্ক   প্রথম ধাপশুরুতে একটি পাত্রে ১২ কাপ পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এতে সামান্য পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচবাটা, লবণ দিয়ে অল্প আঁচে এবার ইলিশ মাছের মাথা ও লেজ সেদ্ধ করে নিন। এক ঘণ্টা পর পানিটুকু ছেঁকে নিন। দ্বিতীয় ধাপ এ পর্যায়ে মাছের কাঁটা থেকে যতটা সম্ভব মাছ বেছে নিন। ৮ কাপ ইলিশ স্টক তৈরি। বাকি মাছের টুকরা ধুয়ে পানি ঝরিয়ে ফেলুন। পোলাও চাল ধুয়ে পানি ঝরতে দিন। তৃতীয় ধাপএকটি আলাদা পাত্র চুলায় বসান। এতে তেল গরম করে নিন। বাটা ও গুঁড়ামসলা, লবণ ও সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। তারপর মাছগুলো বিছিয়ে দিন। আধা কাপ নারকেল দুধ, কিছুটা বেরেস্তা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে মাছগুলো রান্না করুন।  চতুর্থ ধাপ৬ থেকে ৭টি কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢেকে দিন। মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট রান্না করুন। মাছ হয়ে গেলে কিছুটা ঝোলসহ মাছ তুলে রাখুন।সব শেষে পাত্রে চাল দিয়ে একটু ভেজে নিন। ইলিশের স্টক দিয়ে দিন। চাল ৭০ ভাগ হয়ে এলে বাকি নারকেল দুধ দিন এবং রান্না করে রাখা মাছগুলো পোলাওয়ের ওপর বিছিয়ে দিতে হবে। শেষ পর্যায়ে দমে রাখুন ৫ থেকে ১০ মিনিট। নামিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন। আরটিভি/টিআই
উৎসব-পার্বণে বিশেষ রেসিপি ‘ইলিশ পোলাও’
ভোগ মানেই মণ্ডামিঠাই: দুর্গাপুজার তিন মিষ্টির রেসিপি 
বাংলার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি এক প্রাচীন পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। একশো বছরের পুরনো পুজা থেকে শুরু করে আড়াইশো বছরের পুজা—সবই বহমান ইতিহাসের সাক্ষী। এসব বাড়ির পুজা শুধুই ঠাকুরদালান বা ঝাঁকজমক নয়, বরং ভোগের থালায় মিষ্টির বৈচিত্রও পর্যবেক্ষণযোগ্য। এবার দেখুন দুর্গাপুজার ভোগের তিনটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির রেসিপি।  ১. নারকেলের তক্তি পুজাতে নারকেলের তক্তি এক বিশেষ আকর্ষণ। উপকরণ: ২ কাপ নারকেল কোরা ১/২ কাপ ক্ষীর ১ কাপ গুড় ১/২ কাপ সাদা তিল ছাঁচ  প্রণালী: ১. তিল শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করে রাখুন।২. কড়াইতে নারকেল কোরা, গুড় ও ক্ষীর মিশিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন।৩. তিলগুঁড়ো মিশিয়ে আরও নাড়াচাড়া করুন।৪. মিশ্রণটি বেটে নিয়ে ছাঁচে ফেলে সন্দেশের আকারে গড়ে নিন।৫. ঠান্ডা করে ভোগে পরিবেশন করুন। ২. মণ্ডামিঠাই (আটার নাড়ু) পুজার ভোগের অন্যতম আকর্ষণ মণ্ডামিঠাই। উপকরণ: ৪ কাপ নারকেল কোরা ১/২ কাপ আটা ২ কাপ আখের গুড় ১/২ কাপ ভেলি গুড় ৫–৬টি বড় এলাচ (থেঁতো করা) ৫–৬ টেবিল চামচ ঘি প্রণালী: ১. একটি ভারী পাত্রে নারিকেল, ঘি এবং আখের গুড় জ্বাল দিতে হবে।২. জ্বাল হয়ে এলে ভেলি গুড়, এলাচ ও আটা মিশিয়ে নিন।৩. রান্না হয়ে এলে আঁচ বন্ধ করে খানিকটা ঠান্ডা হতে দিন।৪. হাতে ঘি মেখে নিয়ে ছোট ছোট নাড়ু গড়ে নিন।৫. ঠান্ডা হয়ে গেলে পরিবেশন করুন ভোগে।  ৩. ক্ষীরমোহনপুজাতে ভোগের থালায় অপরিহার্য মিষ্টি ক্ষীরমোহন। উপকরণ: ৩ লিটার দুধ ৩ কাপ ছানার জল ৪–৫টি ছোট এলাচ ১ কাপ চিনি ১০০ গ্রাম ময়দা ৫০ গ্রাম সুজি প্রণালী: ১. ৩ কাপ পানি ও ৩ কাপ চিনি দিয়ে চিনির শিরা তৈরি করুন।  পরিমাণমতো দুধ ঘন করে, ছানার পানি দিয়ে ছানা তৈরি করুন। ৩. ছানা থেকে জল ঝরিয়ে বড় থালায় ছড়িয়ে দিন। ৪. এতে এলাচ, ময়দা, চিনি ও সুজি মিশিয়ে মাখুন। ৫. হাতে গোল গোল আকার দিয়ে চিনির শিরায় কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। ৬. অন্য পাত্রে দুধ গাঢ় করে ক্ষীর বানান। মিষ্টিগুলো ক্ষীরের মধ্যে ডুবিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। ৭. ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন। পুজাতে ভোগ শুধুমাত্র নৈবেদ্য নয়, এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিবারের গল্পের এক জাদুকরী অংশ। মণ্ডামিঠাই থেকে নারকেলের তক্তি, ক্ষীরমোহন—প্রতিটি মিষ্টি আলাদা কৌশল, স্বাদ ও ইতিহাস বয়ে নিয়ে আসে ভোগের থালায়। আরটিভি/এ/এসআর
ভোগ মানেই মণ্ডামিঠাই: দুর্গাপুজার তিন মিষ্টির রেসিপি 
আরও পড়ুন
যৌন স্বাস্থ্য ও পুরুষত্বের উন্নতিতে কাঁচা হলুদের যাদুকরী উপকারিতা