
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যারা সুদমুক্ত ঋণের টাকায় গাড়ি কেনার সুযোগ নিয়েছেন, তাদের অনেকেই সরকারি গাড়ি অফিসের কাজে ব্যবহার করছেন না। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা সুদবিহীন ঋণ দেওয়া হয়। আর গাড়ির জ্বালানি তেল, ড্রাইভারের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাবদ প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। এসব গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম হওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী, গাড়ি সুবিধার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলতে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সুপারিশক্রমে সরকারের উপসচিব পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে কমপক্ষে তিন বছর অতিক্রম করেছেন এমন কর্মকর্তা, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব/সিনিয়র সচিবকে বোঝানো হয়। ’
সরকারি গাড়ি যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কয়েকবার চিঠি দেয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন থেকেও চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
জনপ্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়, নীতিমালার আওতায় সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। এ সকল কর্মকর্তাদের গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালার আওতায় সুদমুক্ত ঋণের অর্থে কেনা গাড়ি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু কিছু কর্মকর্তার সুদমুক্ত ঋণের গাড়ি ব্যবহার না করে মন্ত্রণালয় বিভাগের অধীন অধিদপ্তর, সংস্থা ও উন্নয়ন প্রকল্পের গাড়ি এমনকি টিওঅ্যান্ডভুক্ত মাইক্রোবাস ব্যবহার করে অফিস যাতায়াতসহ পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে কিছু কিছু কর্মকর্তা সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এ গাড়ি ব্যবহার না করে গাড়ি সেবা নগদায়নের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করছেন। এতে সরকারের জ্বালানি ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়টি রোধে সুদমুক্ত ঋণের অর্থে কেনা গাড়ি যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত এবং সরকারি গাড়ি অপব্যবহার থেকে বিরত রাখতে নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এ নীতিমালা ব্যত্যয়ে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ বলে গণ্য হবে বলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
চিঠিতে চারটি নির্দেশনা রয়েছে
১. নীতিমালা অনুযায়ী শতভাগ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় গ্রহণের ক্ষেত্রে সুদমুক্ত ঋণের অর্থে কেনা গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অধীনস্ত দপ্তর/সংস্থা/উন্নয়ন প্রকল্পের যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।
২. প্রেষণ/মাঠ প্রশাসন/প্রকল্পে কর্মরত কোনো কর্মকর্তার সার্বক্ষণিক সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুবিধা থাকলে সুদমুক্ত ঋণের অর্থে কেনা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ নির্ধারিত অর্থের ৫০ শতাংশ পাবেন।
৩. কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুদমুক্ত ঋণের অর্থে কেনা গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অধীন দপ্তর/সংস্থা/উন্নয়ন প্রকল্পের যানবাহন ব্যবহার করা ‘অসদাচরণ’ বলে গণ্য হবে। এর ব্যত্যয় হলে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
৪. চিঠিতে সুদমুক্ত ঋণের অর্থে কেনা গাড়ি এবং সরকারি যানবাহন ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ যথাযথভাবে নিশ্চিত করাসহ মন্ত্রণালয়/বিভাগের অধীন দপ্তর/অধিদপ্তর/পরিদপ্তর এবং সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে সচিবদের অনুরোধ জানানো হয়।
এফএ/পি




