ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে: সেনাপ্রধান

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫, ০৪:০৪ এএম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ফাইল ছবি

বাঙালি জাতি সর্বদাই শান্তিপ্রিয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অদ্যাবধি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অগ্রদূত হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম প্রধান শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’টি আমাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষীদের মহান আত্মত্যাগ ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৯ মে বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস’ উদযাপন হয়ে আসছে। বাঙালি জাতি সর্বদাই শান্তিপ্রিয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অদ্যাবধি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অগ্রদূত হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮৮ সালে শান্তিরক্ষা মিশনে যাত্রা শুরুর পর হতে সুদীর্ঘ তিন যুগের বেশী সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জনের বেশি শান্তিরক্ষী মোট ৪০টি স্থানে ৫৬টি শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের সর্বমোট ৬০৯২ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টি শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত আছেন। যার মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৫ হাজার সদস্য বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন রয়েছে।

অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই গৌরবময় অর্জন সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, অভিযানিক দায়িত্ব পালনে উন্নত পেশাগত গুণাবলি প্রদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালনে সর্বদাই নিরপেক্ষ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ কারণেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা সকলের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত ও স্বীকৃত-যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৩১ জন শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে জীবন উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪১ জন সেনাসদস্য বিভিন্ন অভিযানে আহত হয়েছেন। আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেই সকল বীর শান্তিরক্ষীদের-যারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি সকল জীবন উৎসর্গকারী সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। তাদের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ বিশ্ব দরবারে সুনামের সুউচ্চ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মতো ডিআর কঙ্গোতে তিনটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি নতুন মাইলফলক। গত ৪ মার্চ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক-এ চলমান শান্তিরক্ষা মিশনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নির্মিত ‌‘তোয়াদেরা কমিউনিটি ক্লিনিক’ এর উদ্বোধন করা হয়-যা বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের জন্য পেরুর সশস্ত্র বাহিনীকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী যান দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরাও এখন আগের তুলনায় অধিকহারে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সার্বিকভাবে সুপ্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সেনাসদস্য, উন্নত সরঞ্জাম, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং উন্নত মূল্যবোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিশন এলাকায় জনসাধারণ ও জাতিসংঘের আস্থা অর্জনে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

আগামী প্রজন্মের কাছে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব উপহার দিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মন্তব্য করে সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের সকল শান্তিরক্ষীদের জন্য রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা, দোয়া ও শুভ কামনা। আমি আশা করব, সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা বিশ্ব শান্তি রক্ষায় মানবতার পক্ষে পেশাগত দক্ষতার সাথে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। একইসাথে আমি জাতিসংঘের সকল সদস্যের সম্মিলিত অংশগ্রহণে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবার সহায় হোন।

আরটিভি/কেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির গুলশান কার্যালয়ে খোলা শোকবইয়ে সই করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শোকবইয়ে সই করেন তারা।  বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। আরও পড়ুন বিদায় আপসহীন নেত্রী  এখন পর্যন্ত শোকবইয়ে যারা সই করেছেন- তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার, ডেনমার্ক ও জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ সৌদি আরব, রাশিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিসহ ১৫ দেশের কূটনীতিক। শোকবইয়ে সই কার্যক্রম রাত ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
আগামী ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজস্বখাতভুক্ত ১৬ ক্যাটাগরির ১৮৮টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার সে প্রেক্ষিতে আগামী ২ জানুয়ারি তারিখ সকাল ১০টা থেকে লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, নোটিশ বোর্ড এবং প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র : বাসস আরটিভি/এমএ
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন।  মাত্র কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেল ৫টায় ঢাকা ত্যাগ করেছেন। খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে আজ দুপুরেই তিনি ঢাকায় আসেন। সফরকালে জয়শঙ্কর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেন। ভারত সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকেও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক ও কুশল বিনিময় সংক্ষিপ্ত এই সফরে জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসা পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস জয়শঙ্করই প্রথম ভারতীয় মন্ত্রী, যিনি ঢাকা সফরে এলেন। আরটিভি/এমএ
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়ে তার শোকাহত জ্যেষ্ঠ পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শুরুর আগে এই দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। জানাজার স্থানে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি তারেক রহমানের কাছে যান। তিনি শোকসন্তপ্ত তারেক রহমানের হাত ধরে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে গভীর সমবেদনা জানান।  এদিকে, জানাজার আগে তারেক রহমান তার মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এরপর বিকেল তিনটায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।  এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। আরটিভি/আরএ
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতকে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমাদের মুরুব্বিরা সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।  আরও পড়ুন একযোগে এনবিআরের ১৭ কমিশনারকে বদলি হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশ নিতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  ‘যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।’ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান হাবিবুল্লাহ রায়হান। আরটিভি/এসআর
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আরও পড়ুন
পূর্ণাঙ্গ আক্রমণে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না সুইজারল্যান্ড: সেনাপ্রধান
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধান নিহত
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনা হত্যার কূটচাল
আবারও ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তান সেনাপ্রধানের