
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত শেষে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টতার তথ্য মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান।
তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। সরাসরি গুলি চালিয়েছেন ফয়সাল করিম এবং তাকে সহযোগিতা করেছেন আলমগীর হোসেন। এ তিনজন বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন।
ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি মুক্তি মাহমুদ তাদের আশ্রয় ও অস্ত্র সংরক্ষণে সহায়তা করেন। পলাতক আসামিদের সীমান্ত পারাপারে সহযোগিতা করেন ফিলিপ স্নাল। এছাড়া নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ান দিও ও সঞ্জয় চিসিম হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে পালানোর জন্য সহায়তা প্রদান করেছেন।
ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন ও অস্ত্র স্থানান্তরের কাজে জড়িত ছিলেন। তার মা হাসি বেগম ও বোন জেসমিন আক্তার আশ্রয় ও অস্ত্র সংরক্ষণে সহযোগিতা করেছেন। ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া পালিয়ে যাওয়ার খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান। শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সংগ্রহ করে নরসিংদীর এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ফয়সালের বন্ধু মো. কবির মোটরসাইকেল সরবরাহ করেন এবং মারিয়া আক্তার লিমা হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজুও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
ডিবি জানায়, ভবিষ্যতে নতুন তথ্য ও প্রমাণ পেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং সেই কারণে তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
আরটিভি/এসকে


