ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

জিন্নাহকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ, হাদির ইনকিলাব মঞ্চের কাণ্ডে সমালোচনার ঝড়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

১৯৪৮ সালে ঢাকায় পা দিয়ে উর্দুকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ‘একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণা করা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করেছে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। পাকিস্তানের প্রথম এই গভর্নর জেনারেলের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির এমন অবস্থান প্রকাশে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জিন্নাহর একটি সাদাকালো প্রতিকৃতি প্রকাশ করে তাকে স্মরণ করা হয়। পোস্টের ছবিতে তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়—২৫ ডিসেম্বর ১৮৭৬ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮।

সেখানে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বার্তায় লেখা হয়, ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ।’ পাশাপাশি তাকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

পাকিস্তানের সরকারি নথি অনুসারে, জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দেশটির স্বাধীনতার মাত্র এক বছর পর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। নতুন রাষ্ট্রটির প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একই বছরের মার্চে তিনি ঢাকা সফরে আসেন। সে সময় রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সমাবর্তনে দেওয়া ভাষণে তিনি দম্ভভরে ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। উপস্থিত ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিকভাবে ‘নো, নো’ ধ্বনি তুলে তার বক্তব্যের জোরালো প্রতিবাদ জানায়। জিন্নাহর সেই মন্তব্য তৎকালীন পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও ভাষার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা দেয়, যা পরবর্তী সময়ে বায়ান্নর রক্তক্ষয়ী রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি করে।

ফেসবুকে এই পোস্ট প্রকাশের পরপরই তা সাধারণ ব্যবহারকারী, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, যে ব্যক্তির হাত ধরে বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধিকার হরণের সূচনা হয়েছিল, গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণের দাবিদার একটি প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে তার প্রতি এমন ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা’ জানানো চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব।

সমালোচকরা সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরছেন, দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোগতভাবেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার জনগণকে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শোষণ করেছে। সেই শোষণ ও বৈষম্যের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ। ফলে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে জিন্নাহকে মহিমান্বিত করা ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক চেতনার প্রতি সরাসরি অবমাননা ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ দেন না তাশরীফ, অভিযোগ বাবার
দেশে নানা ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিতে প্রায়ই আলোচনায় আসেন ইসলামী বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। বিভিন্ন বিষয়ে ন্যায়-নীতি ও জ্ঞানগর্ভ কথা বললেও নিজের অসুস্থ বাবার খোঁজখবর নেন না এবং ভরণপোষণের জন্য অর্থ দেন না বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ।
অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ দেন না তাশরীফ, অভিযোগ বাবার
জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হবে: রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ক্ষমতায় না গিয়েই যারা ভিন্নমতের মানুষের জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আরও বর্বর হবে। তাই সবার নৈতিক দায়িত্ব জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করা।
জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হবে: রাশেদ খাঁন
‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন প্রখ্যাত নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক সোহেল রানা।
‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’
ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানী
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের বস্তল থেকে গাউসিয়াগামী পথে পাকুন্ডা এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের হামলার মুখে পড়েছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। 
ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানী
‘একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল জামায়াত, আজ তারাই ঠিক করছেন কে মুক্তিযোদ্ধা, কার কবর কোথায় হবে’
একাত্তরে জামায়াত দল হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। অথচ সেই দলের নেতাকর্মীরা আজ ঠিক করে দিতে চাইছেন কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে ভুয়া, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন আর কার কবর কোথায় হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তাসনিম জারা।
‘একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল জামায়াত, আজ তারাই ঠিক করছেন কে মুক্তিযোদ্ধা, কার কবর কোথায় হবে’
আরও পড়ুন
বাবার পাগড়ি ও আবা পরে মসজিদে বিয়ে করেছিলেন ওসমান হাদি, ছবি ভাইরাল
যে গুনাহগুলো থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন নবীজি 
হাবিপ্রবিতে তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’