
হ্যাঁ ভোট দিলে ইমান চলে যাবে, এটি মিথ্যা ফতোয়া বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে গণভোটের কার্যক্রম বিষয়ে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত তিনটি নির্বাচনের নামে প্রহসন করেছে। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এই প্রথম দেশে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা অতীতে দেখেছি ভোটকেন্দ্রে মাঠে ছাগল চড়ে বেরিয়েছে। এবার ভোটকেন্দ্রের মাঠে ছাগল চড়ে বেড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ এবার নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। এমনকি আমরা মনে করি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তবে এর উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবেন। নির্বাচন কমিশন বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট ও গণভোট একইসঙ্গে হবে। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। এমনকি গণভোট বা রেফারেন্ডামের মাধ্যমে দেশের চেহারা বদলে যায়, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে এবং গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে দেশের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দেশবাসী সর্বগ্রাসী ফ্যাসিজম থেকে মুক্তি পাবে। দেশে আর কোনো স্বৈরশাসকের জন্ম হবে না।’
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘সংবিধানে ইসলাম ও বিসমিল্লাহ আছে, গণভোটে পাস হলে জুলাই সনদ সংবিধানের একটি অংশ হিসেবে যুক্ত হবে। তাই আলাদা করে যুক্ত করার প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ ভোট দিলে ইমান চলে যাবে, এটি মিথ্যা ফতোয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর শপথের সাথে সাথে আমাদের গাড়ির পতাকা নামবে। আমরা আশা রাখি আগামী পাঁচ বছর সোনালি দিন আসবে। তবে আরও খারাপ কিছু মোকাবিলা করার জন্যেও আমরা প্রস্তুত থাকব৷ প্রয়োজনে আবার বিপ্লব হবে৷’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন, এ সময় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএইচজে/এসআর


