
ভোট কেন্দ্রেই ভোট গণনা করে বিবরণী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট গণনা, ভোট গণনার বিবরণী প্রস্তুত ও প্রেরণ, ফলাফল একত্রীকরণ ও ঘোষণা, প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ এবং ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত এক পরিপত্রে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক পরিপত্র জারি করা হয়।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে ফলাফল একত্রীকরণ ও ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আইন অনুযায়ী ভোট গণনা সম্পন্ন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে অন্য কোথাও ভোট গণনা করা যাবে না। ভোট গণনা শেষে বিবরণী ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড, দেয়াল বা বেড়ায় টানিয়ে প্রকাশ করতে হবে।
ভোট গণনার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই প্রিজাইডিং অফিসারকে ব্যবহৃত ব্যালটের সিলমোহরকৃত বিভিন্ন প্যাকেট, ভোট গণনার বিবরণী ও ব্যালট পেপারের হিসাব বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার ফলাফল একত্রীকরণ করবেন রিটার্নিং অফিসার। এ কাজের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের লিখিত নোটিশের মাধ্যমে ফলাফল একত্রীকরণের স্থান ও সময় জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে ও দিনে উপস্থিত প্রার্থী ও এজেন্টদের সামনে আইন ও বিধি অনুযায়ী ফলাফল একত্রীকরণ করা হবে।
সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বিবরণী (ফরম-১৬) ও পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল বিবরণী (ফরম-১৬ক) একত্রে যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করতে হবে। ভোট গ্রহণের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি ‘নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে।
একইভাবে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়েও অনুরূপ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। ভোট গ্রহণের দিন সকাল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ফলাফল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছানো পর্যন্ত এ সব কেন্দ্র খোলা থাকবে। এর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতির প্রতিবেদনও সংগ্রহ করে কমিশনকে জানাতে হবে।
বেসরকারি ফলাফল প্রচারকালে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রেস ক্লাব ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বা তাদের প্রতিনিধিদের লিখিতভাবে আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/আইএম


