ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে: ইসি আনোয়ারুল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ধারণার কথা জানান তিনি।

নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে সাক্ষাৎকারে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই একমাত্র বাকি কাজ।

তিনি বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এত বড় পরিসরে বাহিনী মোতায়েন এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত ভোটকে ঘিরে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা যায়নি। নির্বাচন আয়োজনে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই।

ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে এরপর এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে আমার ধারণা। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন এমন পরিবেশ তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জুলাই সনদের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে একইদিন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১৬টি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি সব আসনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পেপার পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণেই ব্যালট পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং আট দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনী আংশিকভাবে মোতায়েন শুরু হয়েছে।

নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও ব্যাপকভাবে মাঠে নামানো হচ্ছে। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন মোট ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মূলত, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন তারা। পাশাপাশি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও একই সময়সীমায় সাত দিন মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে, জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী সংখ্যা আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে ইসি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানিয়েছে, ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত ইসমাইল জবিউল্লাহ
এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইসিএপিপি) ১৩তম সাধারণ অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে।  বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সম্মেলনে অধিবেশনের ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টি ও বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির যৌথ আয়োজনে দ্য শিলা সিউল হোটেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম প্ল্যানারি সেশনে বক্তব্য রাখেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় তিনি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও আস্থার সংকট মোকাবিলায় গণতন্ত্র, সুশাসন, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটি সামাজিক চুক্তি। এর ভিত্তি হতে হবে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটকে শুধু ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে নয় বরং জনগণের সেবা করার দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংঘাত নয়, সংলাপের মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত করার নীতিতে বিশ্বাসী। ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বিএনপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করে বলেন, ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে মানবজীবনের মর্যাদাকে স্থান দিতে হবে। আন্তর্জাতিক নীতি ও আদর্শ কোনো বৈষম্য ছাড়াই সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আন্তঃমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বিভিন্ন মহাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউরোপের অস্থিরতা থেকে এশিয়া যেমন বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব থেকেও ইউরোপ মুক্ত থাকতে পারে না। বিএনপি এ ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংলাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের এমনভাবে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা উচিত নয়, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়। আন্তঃসীমান্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে আইসিএপিপির একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এআই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করলেও লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। আধুনিক যুদ্ধ ব্যবস্থায় এর ব্যবহারও উদ্বেগজনক। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আইসিএপিপির উদ্যোগে একটি অভিন্ন কৌশলগত নীতিপত্র প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতীয় জিডিপির একটি উপযুক্ত অংশ বরাদ্দ এবং জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই নেতা। তরুণ প্রজন্মের ওপর ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপতথ্যের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী বিষণ্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকটও নীরব চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আইসিএপিপি-কে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কেবল জবরদস্তি কিংবা সম্পদের ওপর নির্ভর করবে না; আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে কতটা সক্ষম, তার ওপরও নির্ভর করবে। তিনি বাংলাদেশ ও বিএনপির পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আস্থা পুনর্গঠনকে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের প্রতি স্থায়ী অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আরটিভি/টিআর
আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত ইসমাইল জবিউল্লাহ
প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানি ছয় মাসে বেড়েছে ২১৭ শতাংশ
এ বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে দেশের গবাদিপশু পণ্যের রপ্তানি ২১৭ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৬৪ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩২.৯৯ লাখ মার্কিন ডলার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাংস ও ডিমের উৎপাদন জাতীয় চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে মাথাপিছু সরবরাহের পরিমাণ এখন ন্যূনতম পুষ্টি চাহিদার চেয়েও বেশি। দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০.৭০ লাখ টন মাংস এবং ২ হাজার ৫০৯.৪১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। এর বিপরীতে বছরে আনুমানিক ৭৮.১৪ লাখ টন মাংস এবং ১ হাজার ৮৫৫.৩৬ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে দুধের উৎপাদন এখনো চাহিদার তুলনায় কম। উৎপাদন বাড়ার কারণে বর্তমানে প্রতিদিন মাংস পাওয়া যাচ্ছে মাথাপিছু ১৩৯.২৯ গ্রাম, যা ন্যূনতম ১২০ গ্রামের চাহিদার চেয়ে বেশি। বর্তমানে বাৎসরিক মাথাপিছু মাংসের প্রাপ্যতা ৫০.৮৪ কেজি, যেখানে ন্যূনতম চাহিদা ৪৩.৮ কেজি। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, বাৎসরিক মাথাপিছু মাংস খরচের পরিমাণ মাত্র ১৪ কেজি। একইভাবে, বাৎসরিক মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ১৪০টি ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ১০৪টি। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এই এক দশকে মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ২৬.৭৮ শতাংশ এবং ৬৮.০৪ শতাংশ বেড়েছে। মাংস উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে ব্রয়লার মুরগি থেকে, যা এখন জাতীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। অন্যদিকে ডিমের উৎপাদনও জাতীয় চাহিদা পূরণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক দশকে দুধের উৎপাদন ৬৯.৭১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৫৭.৫৩ লাখ টনে পৌঁছালেও, তা এখনো বছরে ১৬২.৭৯ লাখ টনের বার্ষিক চাহিদার চেয়ে কম। প্রতিদিন মাথাপিছু দুধের প্রাপ্যতা প্রায় ২৪১ মিলিমিটার, যেখানে আনুমানিক চাহিদা ২৫০ মিলিমিটার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাংসের উৎপাদন পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৮৯.৫৪ লাখ টন থেকে ১.১৬ লাখ টন বেড়ে ৯০.৭০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ডিমের উৎপাদনও ২.৮৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪৪০.৬৫ কোটি থেকে ২ হাজার ৫০৯.৪১ কোটি পিসে পৌঁছেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে সরকারের নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং গরু ও পোল্ট্রির জাত উন্নয়নকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার সব পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও এই খাতের অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে। রপ্তানি পরিস্থিতির বিষয়ে শাহজামান জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গবাদিপশু পণ্য রপ্তানি করে ১৫৪.৪৭ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৯৩.০৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে। যেখানে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ৮২.০৬ লাখ মার্কিন ডলার বা ১০২.৫৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পণ্যের গুণগত মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) প্রয়োজনীয়তা পূরণ, হিমাগার সুবিধার উন্নয়ন এবং রপ্তানি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধারা চলমান রাখতে নতুন নতুন রপ্তানি বাজার খোঁজার কাজও চলছে। এই খাতের উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, দেশের গবাদিপশু উৎপাদন বর্তমান স্তরের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বাড়ানো প্রয়োজন।      তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বছরে গড়ে ১৪০টির মতো ডিম খায়, অথচ উন্নত দেশগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ৪০০। বাংলাদেশে মুরগির মাংস খাওয়ার হারও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম গবাদিপশু পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রধানত অদক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে মাংস, দুধ ও ডিমের দাম প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে বেশি। তিনি তৃণমূল উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে এবং কর্পোরেট গোষ্ঠী যাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা দাম কারসাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পশুপালন, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামারিদের মধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিস্তৃত বিতরণের তাগিদ দেন। এর মধ্যে রয়েছে মিল্কিং মেশিন, ঘাস কাটার যন্ত্র, ট্রাক্টর, খড় কাটার যন্ত্র, মিল্ক ক্যান, ক্রিম সেপারেটর ও পাস্তুরাইজেশন প্ল্যান্ট। ড. আলম বলেন, কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যান্ত্রিকীকরণ এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। প্রতিটি খামারকে আধুনিক উৎপাদন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। বিএলআরআই-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. শহিদুল হক কৃষি খাতের মতো গবাদিপশু খামারিদেরও প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি পশু শনাক্তকরণ ও তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু, প্রাণিসম্পদ নীতি ও আইন আরও শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিমা সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেন।  গবেষণা এবং বিদেশ থেকে উপযুক্ত জাতসহ উচ্চফলনশীল ও সংকর জাত আনার মাধ্যমে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের পরামর্শ দেন তিনি। ড. হক বলেন, খামারি ও ভোক্তা উভয় পক্ষ যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, সেজন্য সরকারের একটি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমানো উচিত। বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং খামারিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে একটি প্রাণিসম্পদ বিপণন বিভাগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বছরে প্রায় এক শতাংশ হারে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে গবাদিপশু উৎপাদন সম্প্রসারণের এখনো যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ পরিবারগুলো ব্রয়লার, লেয়ার, গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন করে এই খাতের প্রসারে অবদান রাখতে পারে। যা মাংস, দুধ ও ডিমের রপ্তানি সম্ভাবনা নতুন খামার গড়ে তুলতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১.৮১ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে এর অবদান ছিল ১৬.৫৬ শতাংশ। দেশের প্রায় ৪৩.৬৪ শতাংশ পরিবার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের সঙ্গে যুক্ত। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় ৫০ শতাংশ পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য সম্মিলিতভাবে ৪৩,৩৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ। আরটিভি/এসআর  
প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানি ছয় মাসে বেড়েছে ২১৭ শতাংশ
ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজার ড. চার্লস রীড। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স এ্যাডভাইজার শাহনাজ করিম ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন, এফওআরবি প্রজেক্টের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটির রুহী নাজ ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায় উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে ড. চার্লস রীড এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজায় বর্তমান সরকার যে সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে, তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রশংসার দাবিদার। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করে।  তারা বলেন, সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সরকারের এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তারা ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারে সংসদীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানান। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে একটি ‘ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস’ গঠনের বিষয়ে তারা ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা সকল ধর্মের মানুষের উৎসব অত্যন্ত সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করি। আমাদের কাছে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন নেই। এ দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ এ দেশের সমান নাগরিক। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা সমুন্নত রাখতে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা বিষয়ে পার্লামেন্টারি ককাস গঠন এক্ষেত্রে একটি চমৎকার উদ্যোগ হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব যা সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, বর্তমান সংসদে সকল সংসদ সদস্যের মতামত ও কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি বর্তমান সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চা, যা অতীতে সেভাবে দেখা যায়নি। সংসদে ভিন্নমত ও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করতে চাই, যেখানে এই দেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারবে; প্রত্যেক মানুষ তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতাদর্শ স্বাধীনভাবে ধারণ ও পালন করতে পারবে এবং সকলের অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে। উভয় পক্ষ ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং সংসদীয় কার্যক্রম, সুশাসন ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। সাক্ষাৎকালে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ
কক্সবাজারে ৫০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের আশা
পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের ১৮টি গ্রাম নিয়ে গড়ে উঠেছে নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লি। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে মহাল (শুঁটকি উৎপাদনের খামার) আছে প্রায় ৬শ’টি। এছাড়াও জেলার টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপেও রয়েছে শুঁটকি উৎপাদনের খামার।
কক্সবাজারে ৫০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের আশা
৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা: বিজিএমইএ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক কারখানাগুলোতেও এ ছুটি কার্যকর হবে। এর আগে গত ২১ অক্টোবর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি পালনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দিনটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্‌যাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় পোশাক কারখানাগুলোতেও সাধারণ ছুটি কার্যকরের ঘোষণা দিল বিজিএমইএ। উল্লেখ্য, চলতি বছর ৭ নভেম্বর শনিবার। ফলে দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই পড়েছে। আরটিভি/টিআর
৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা: বিজিএমইএ
আরও পড়ুন
আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত ইসমাইল জবিউল্লাহ
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে পথ বদলানোর চাপ রিপাবলিকানদের
ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পেল ওমান
দ্রুত সময়ে রাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি ছাত্রনেতাদের