৩৬ দিনে ১৫ নেতাকর্মী নিহত, টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা

আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:২০ পিএম


৩৬ দিনে ১৫ নেতাকর্মী নিহত, টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ফাইল ছবি

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হত্যার সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

বিজ্ঞাপন

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

ব্যাখায় বলা হয়, টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, নির্বাচনসূচি ঘোষণা হওয়ার ৩৬ দিনের মধ্যে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে, এই সংখ্যাটি সত্যতা যাচাই ছাড়াই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে মাত্র পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক প্রোফাইল বা কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ড, যাকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সরকারের বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয়। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল বিশেষভাবে নির্মম, যেন একটি তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে চুপ করানো এবং সংবেদনশীল রাজনৈতিক মুহূর্তে ভয় সৃষ্টি করা যায়। তবে, সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। দেশের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হিংসার দিকে গড়ায়নি এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বক্তব্যে আরও বলা হয়, টিআইবির প্রতিবেদনে প্রেক্ষাপটের অভাব লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের ‘নকল’ নির্বাচনে ছয়জন নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচনে ২২ জন প্রাণ হারান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অন্তত ১১৫ জনের মৃত্যু ঘটে। এই ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান প্রাক-নির্বাচনি সময়ে নিরাপত্তার চরম অবনতি হয়েছে— এমনটা বলা কঠিন।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, টিআইবির সংখ্যা ও সরকারি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য কোনো তথ্য গোপন করার কারণে নয়। পার্থক্যটি হত্যাকাণ্ডকে গণনার ভিন্ন পদ্ধতির কারণে। টিআইবি যেকোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নিহত ব্যক্তিকে ভোটকালীন হত্যার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যদিও প্রমাণ নেই যে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশে সংঘটিত। সরকারের হিসাব শুধু সেই মৃত্যুকে গণ্য করছে যার সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে।

সরকারি দপ্তর স্বীকার করছে, সাধারণ নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবিত পুলিশিং ও নানা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে জনগণের বিশ্বাস ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সরানো বা বরখাস্ত, বিশেষ ইউনিটের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা, জোরপূর্বক নিখোঁজ ও নির্যাতনের মামলায় আইনগত পদক্ষেপ, এবং সমাবেশ ও নির্বাচনি সময়কালের জন্য নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। ওসমান হাদির এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালিদা জিয়ার শেষকৃত্য, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন- এগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে, এখন পুলিশি সংযম ও পেশাদারত্ব সম্ভব।

অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করছে, কেউ চেষ্টা করলেও সম্পূর্ণ হিংসা রোধ করা সম্ভব নয়। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের সঙ্গে তুলনীয় নয়। নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারিতে রয়েছে, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ সহযোগিতা করছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রয়েছেন। এই শর্তগুলোকে বিবেচনা করলে বিশ্বাসযোগ্য কারণ আছে যে, এই নির্বাচনে পূর্ববর্তী ভয় ও হিংসার চক্র শেষ করতে সক্ষম হবে সরকার।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission