জাল ভোট দিলেই যে শাস্তি

আরটিভি নিউজ  

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৫৭ পিএম


জাল ভোট দিলেই যে শাস্তি
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে জাল ভোটকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত করা হয়। তবে প্রতি নির্বাচনেই অসংখ্য অভিযোগ ওঠে জাল ভোটের। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ অভিযোগ থেকে বেড়িয়ে আসতে নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। তাই সবার জানা উচিত যেসব শাস্তি হতে পারে জাল ভোট দিলে।

বিজ্ঞাপন

জাল ভোট দেওয়া, অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়া, ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা এ ধরনের কাজে সহায়তা করা সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডই হতে পারে। নির্বাচনি অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফলে জাল ভোট কেবল অনৈতিক কাজ নয়- এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারেন।

আরও পড়ুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও জাল ভোটের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, জাল ভোট প্রতিরোধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে তারা। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক মামলা, গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন স্পষ্ট করেছে।

বিজ্ঞাপন

যেসব কাজ জাল ভোট হিসেবে গণ্য হয়

> গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।

বিজ্ঞাপন

> ভোট দেওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

> একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

> একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

> ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।

> জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান।

জাল ভোট দেওয়ার শাস্তি

নির্বাচনি আইনে জাল ভোটকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদে- ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ ও অপরাধের জন্য নির্বাচনি আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ভোটের মাঠে দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম অপরাধ বিবেচনা করে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করবেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission