ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি: দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের প্রতিবেদন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
আরটিভি

আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এটিই প্রথম এমন নির্বাচন এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ব্যালটে থাকছে না আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন যে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন, তা শুধু শাসকই বদল করেনি; বরং দেশের পুরো রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে দিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের মতো সাতটি প্রধান জাতীয় জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের পূর্বাভাস বলছে, অত্যাসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান ও অনিশ্চয়তা অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

জরিপ ও তথ্যের ব্যবধান

হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিচালিত প্রতিটি জরিপেই জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বিএনপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এ ব্যবধানের মাত্রা একেক জরিপে একেক রকম, যেমন ন্যারেটিভ/ আইআইএলডির জরিপে দুই দলের ব্যবধান মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ, আবার ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল স্টাডিতে বিএনপি ২১ দশমিক ৮ পয়েন্টে এগিয়ে।

জরিপের এই ভিন্নতা এলোমেলো কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির ফলাফল। ২৯৫টি আসনের ২২ হাজার ১৭৪ জন উত্তরদাতার ওপর করা ন্যারেটিভ কনসোর্টিয়ামের জরিপটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের চিত্র তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ইনোভিশন আগে সাক্ষাৎকার নেওয়া ৫ হাজার ১৪৭ জনের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে জনমতের প্রকৃত পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে এটি ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য পন্থা।

সিআরএফ/ বিইপিওএস জরিপ অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংকের প্রায় অর্ধেকই বিএনপির দিকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তির এই বিশাল কাঠামোগত স্থানান্তরই বিএনপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারে।
আওয়ামী লীগের বিরাট ভোটব্যাংক

এ নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আওয়ামী লীগের ভোট। দলটি নিয়মিতভাবে মোট ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পেয়ে আসছিল। এখন দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রায় ৪ কোটি ভোটারকে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে। সিআরএফ/ বিইপিওএস জরিপ অনুযায়ী, এই ভোটারের প্রায় অর্ধেকই বিএনপির দিকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তির এই বিশাল কাঠামোগত স্থানান্তরই বিএনপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারে।

আরও পড়ুন

তবে জামায়াতও এ ভোটব্যাংকের দ্বিতীয় সুবিধাভোগী। আওয়ামী লীগকে আগে যাঁরা ভোট দিতেন; তাঁদের প্রায় ৩০ শতাংশ বলছেন, তাঁরা একটি ইসলামপন্থি দলকে ভোট দেবেন। ইসলামপন্থি দলটিকে শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তাঁদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া ও গুম করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান এর দুটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমত, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রতি বিএনপির কঠোর আচরণের কারণে তাঁরা জামায়াতকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, কিছু আওয়ামী ভোটার হয়তো জামায়াতকে বেছে নিচ্ছেন হাসিনার সেই দাবিকে প্রমাণ করতে যে তিনি ছাড়া বাংলাদেশ একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) নির্বাচনি ব্যবস্থা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ভারসাম্যহীন ব্যবস্থা। এখানে ৩০০টি একক নির্বাচনি এলাকায় যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। এ ব্যবস্থা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলকে কঠোরভাবে ‘শাস্তি’ দেয় এবং সুনির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত সমর্থনের চেয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থনকে বেশি পুরস্কৃত করে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য এর প্রভাব হবে অত্যন্ত প্রকট। ন্যারেটিভ জরিপের দাবি অনুযায়ী, যদি জাতীয়ভাবে জামায়াত বিএনপির চেয়ে মাত্র ৩-৫ শতাংশ ভোটে পিছিয়েও থাকে, তবু নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে আসনের ব্যবধান ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে। জামায়াতের ভোট মূলত উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থন সারা দেশে সুষমভাবে ছড়িয়ে আছে; যা এফপিটিপি নির্বাচনী ব্যবস্থায় আসন জয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা।

জামায়াত কখনো সংসদে ১৮টির বেশি আসন পায়নি এবং তাদের ভোটের হার ১২ শতাংশ অতিক্রম করেনি। তাই বর্তমান জরিপগুলোতে তাদের ২৯-৩৪ শতাংশ সমর্থনের যে দাবি করা হচ্ছে, তা এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর অর্থ হলো, হয় বাংলাদেশে কোনো প্রকৃত ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ ঘটছে অথবা কিছু জরিপে জামায়াতের সমর্থনকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।

ফলাফল নির্ধারণ করবে তিন সমীকরণ

১. বিদ্রোহী প্রার্থী

বর্তমানে বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ৯২ জন নেতা ৭৯টি নির্বাচনি এলাকায় স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সাবেক সংসদ সদস্য বা জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা।

অন্তত ৪৬টি আসনে এই বিদ্রোহীদের শক্তিশালী নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। নির্বাচনি পাটিগণিত খুব সহজ— যেখানে লড়াই শুধু বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে; সেখানে বিএনপি অনায়াসে জিতবে। কিন্তু যেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট ভাগ করবেন, সেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সুযোগে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পেলেই জামায়াত জয়ী হতে পারে। গাণিতিক মডেল বলছে, এ বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি ১৫ থেকে ৩০টি আসন হারাতে পারে।

ন্যারেটিভ জরিপের দাবি অনুযায়ী, যদি জাতীয়ভাবে জামায়াত বিএনপির চেয়ে মাত্র ৩-৫ শতাংশ ভোটে পিছিয়েও থাকে, তবু নির্বাচনি ব্যবস্থার কারণে আসনের ব্যবধান ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে।

২. তরুণ ভোটারের উপস্থিতি

জামায়াতের ছাত্রসংগঠন দেশের প্রধান চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। প্রথমবার ভোট দেবেন, এমন তরুণদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশের পছন্দ জামায়াত। বর্তমানে মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশই জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম; সংখ্যায় যা প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ। যদি তরুণদের ভোট দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি হয়, তবে জামায়াতের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আর এই তরুণ ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে না আসেন, তবে দলটির আসনসংখ্যা বড় ব্যবধানে কমে যাবে।

৩. অনিশ্চিত বা দোদুল্যমান ভোটার

প্রতিটি জরিপেই দেখা গেছে, ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কিংবা তাঁদের পছন্দের কথা প্রকাশ করতে রাজি হননি। ন্যারেটিভের জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো দোদুল্যমান। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করেন না। এই ভোটাররাই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। তাঁরা যদি সব দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে যান, তবে বিএনপির বর্তমান লিড বজায় থাকবে। কিন্তু তাঁরা যদি ২:১ অনুপাতে জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে ভোটের লড়াই তীব্র হয়ে উঠবে নাটকীয়ভাবে।


— সংসদের আসন: ৩০০

—একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ১৫১

— বিএনপি ও জোট: ১৫৫–২১৫

—জামায়াত ও এনসিপি: ৫৫–১১০

— জাতীয় পার্টি: ৫–১৮

—ইসলামী আন্দোলন: ২–১০

— অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ১০–৩৫

ভোটের গড় হার, ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট মডেল এবং বিদ্রোহী প্রার্থী ও ভোটার উপস্থিতির প্রভাব সমন্বয় করে এ পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।

সবচেয়ে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা (কেন্দ্রীয় প্রাক্কলন)

— বিএনপি ও জোট: ১৮৫

—জামায়াত ও এনসিপি: ৮০

— জাতীয় পার্টি: ১০

—ইসলামী আন্দোলন: ৫

— অন্যান্য/ স্বতন্ত্র: ২০


১. বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (সম্ভাবনা ৫০%)

এ সমীকরণে বড় জনসমর্থন নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। এখানে মূলত ইনোভিশনের প্যানেল ডেটা বা জরিপের তথ্যের প্রতিফলন ঘটবে। ভোটার উপস্থিতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সৃষ্ট আবেগ দোদুল্যমান ভোটারদের বিএনপির পক্ষে টানবে। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৮৫–২১৫ আসন। জামায়াত ৫৫–৮০ আসন।

২. বিএনপির সামান্য ব্যবধানে জয় (সম্ভাবনা ২০%)

বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াতের শক্তিশালী প্রচারের কারণে ৩০ থেকে ৪০ আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা কমবে। তারা সরকার গঠন করবে ঠিক, তবে হাতে খুব বেশি বাড়তি আসন থাকবে না। ফলে সরকার পরিচালনায় জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৫৫–১৮৫ আসন। জামায়াত ৮০–১০০ আসন।

বর্তমানে মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশই জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম; সংখ্যায় যা প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ। যদি তরুণদের ভোট দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি হয়, তবে জামায়াতের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আর এই তরুণ ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে না আসেন, তবে দলটির আসনসংখ্যা বড় ব্যবধানে কমে যাবে।

৩. ঝুলন্ত সংসদ (সম্ভাবনা ২০%)

যদি ন্যারেটিভ/ আইআইএলডির জরিপ সঠিক হয়, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখানে দলটির সর্বোচ্চ ক্ষতি করবেন এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের জোয়ার বাস্তবে রূপ নেবে। কোনো জোটই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে শুরু হবে জোট গঠনের দর–কষাকষি ও রাজনীতি। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৩০–১৫৫ আসন। জামায়াত ৯০–১১০ আসন।

৪. জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জয় (সম্ভাবনা ১০%)

সবকিছু যদি জামায়াতের অনুকূলে যায়, তবেই এমনটি ঘটা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ব্যাপক বাড়বে, ৫০টির বেশি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপির ভোট ব্যাপকভাবে ভাগ করবেন এবং আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন না; যদিও এটি ঐতিহাসিকভাবে নজিরবিহীন। তবে এবারের নির্বাচন যেকোনো নজিরবিহীন ঘটনার জন্য প্রস্তুত। পূর্বাভাস: বিএনপি<১৩০ আসন। জামায়াত ১৩০+ আসন।


আমাদের (দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়াল কর্তৃপক্ষের) মূল পূর্বাভাস বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে দেশের পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল অর্জন করতে পারে। তাদের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা হতে পারে ৬০ থেকে ১০০টি। এর মাধ্যমে দলটি নিজেকে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে; যা আগামী এক প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে বদলে দেবে।

তবে নির্বাচনের গভীর অনিশ্চয়তা কে জিতবে তা নিয়ে নয়; বরং জয়ের ব্যবধান কতটা হবে, তা নিয়ে। বিএনপির ২১০-এর বেশি আসনের নিরঙ্কুশ সমর্থন আর ১৫৫ আসনের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যবর্তী ব্যবধানটুকুই হলো বিশ্লেষণের প্রকৃত ক্ষেত্র। আর এটি নির্ধারিত হবে মূলত তিন নিয়ামকের ওপর; যা কোনো জরিপেই পুরোপুরি ধরা সম্ভব নয়। এ নিয়ামক হলো—১৭ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, বিএনপির ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব ও জামায়াতের একনিষ্ঠ তরুণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হন কি না, সেই বিষয়।

বাংলাদেশের ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার এমন এক রায় দিতে যাচ্ছেন; যা আগামী এক প্রজন্মের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করবে। তথ্য-উপাত্ত বলছে, পাল্লা বিএনপির দিকেই ভারী। তবে এ তথ্য-উপাত্ত একই সঙ্গে এ-ও বলছে, যেকোনো অভাবনীয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের শিশু-কিশোররাই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশু-কিশোররাই দেশের ভবিষ্যৎ। তারাই আগামী দিনে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এবং দেশ গড়ে তুলতে পারবে। এজন্য শুধু লেখাপড়া করলেই হবে না, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্পকলার সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
আজকের শিশু-কিশোররাই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী
ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা
ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। এখন থেকে সব ধরনের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরম্যাটে ‌‌‘Visa Undertaking Form’ বা ভিসা অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হাইকমিশনের ভিসা সংক্রান্ত পোর্টালে এক জরুরি অ্যাডভাইজরিতে এ তথ্য জানানো হয়। অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য নির্ধারিত ফরম্যাটে ভিসা আন্ডারটেকিং ফর্ম জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের যা করতে হবে: হাইকমিশনের দেওয়া লিংক থেকে নির্ধারিত ফরম্যাটে ‘Visa Undertaking Form’ ডাউনলোড করতে হবে। ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। NIC Visa Application Portal-এ অনলাইন ভিসা আবেদনের সঙ্গে ওই পূরণকৃত ফর্মটি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আবেদনকারীদের শুধুমাত্র নির্ধারিত ফরম্যাটের ফর্মটিই ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনও ফরম্যাটে ফর্ম জমা দিলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভারতীয় ভিসা প্রত্যাশীদের নির্ধারিত লিংক থেকে ফর্ম ডাউনলোড করে দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফর্মে যেসব তথ্য লাগবে প্রকাশিত এক পাতার ‘Visa Undertaking Form’ অনুযায়ী আবেদনকারীকে প্রথমে নিজের নাম লিখে অঙ্গীকার করতে হবে যে, তিনি যে উদ্দেশ্যে ভিসার আবেদন করেছেন শুধুমাত্র সেই উদ্দেশ্যেই ভারত সফর করবেন। একইসঙ্গে ঘোষণা দিতে হবে, আবেদনের তারিখে তিনি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের অধিক্ষেত্রে বসবাস করছেন এবং তার দেওয়া সব তথ্য সঠিক।  এরপর ১ নম্বর অংশে Personal Details- এর ঘরে ৫টি তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে পূরণ করতে হবে। এগুলো হলো— পাসপোর্ট অনুযায়ী নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, জন্ম তারিখ এবং ঢাকার বর্তমান ঠিকানা। ২ নম্বর অংশে ভারত যাওয়ার উদ্দেশ্য (Purpose of Visit) স্পষ্ট করে লিখতে হবে, যেমন- ট্যুরিজম, বিজনেস, মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট, কনফারেন্স ইত্যাদি। ৩ থেকে ৫ নম্বর অংশে মূলত ৩টি অঙ্গীকারনামা রয়েছে। আবেদনকারীকে অঙ্গীকার করতে হবে যে, সফর শেষ হওয়া মাত্রই তিনি নিজ দেশে ফিরে আসবেন এবং কোনও অবস্থাতেই ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে ভারতে অবস্থান করবেন না।  ভারতে অবস্থানকালে ভারতের সব আইন, বিধি-বিধান ও সংস্কৃতি মেনে চলবেন এবং আইনবিরোধী কোনও কাজে জড়াবেন না। কোনও আইন লঙ্ঘন করলে ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও ফর্মে উল্লেখ রয়েছে। সবশেষে আবেদনকারীকে স্বাক্ষর এবং স্থান ও তারিখ দিয়ে ফর্মটি সম্পন্ন করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বাবা-মা উভয়কেই স্বাক্ষর করতে হবে বলে ফর্মে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা
গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই আন্দোলন: এমপি দিপু
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেছেন, তিন বছর পর পর মজুরি বোর্ড হয়। এবারও সময়মতো মজুরি বোর্ড হয়েছে। মজুরি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেয় আমাদের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা সেটা মেনে নেয়। তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা না। আসলে এটা গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য এই সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছে। 
গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই আন্দোলন: এমপি দিপু
‘গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ৫২টি নতুন কূপ খনন করবে সরকার’
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বিগত ২০ বছরে নতুন কূপ খনন না করার কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সরকার ৫২টি নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভোলা, নোয়াখালী ও তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাস প্রাপ্তির সুখবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের করণীয় নিয়ে কথা বলেন। দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিকে প্রযুক্তির্ভর ও টেকসই ব্যবহারে রূপান্তরের প্রত্যয়ে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ০৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই মেলায় স্মার্ট কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রিসিশন এগ্রিকালচারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকদের মেধার মূল্যায়ন ও গবেষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং সমাজের সম্মান বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবারের মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি কৃষি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ৫৩টি স্টলে বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের কৃষিতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং আরডিএ-র মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে ৪০% পানি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সারের সঠিক ব্যবহার, অতিরিক্ত সার প্রয়োগ রোধ এবং জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলে উদ্বৃত্ত আলু থেকে স্টার্চ পাউডার তৈরির কারখানা স্থাপনের ওপর জোর দেন।  তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো সুবিধাযুক্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করে উত্তরাঞ্চলের আলু ও সবজি বিদেশে রপ্তানিতে সরকারের  পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান । এ সময় প্রতিমন্ত্রী দেশের কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রমানিক বলেন,  কৃষির বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকাশ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্প্রসারণের সময় এসেছে। তিনি কৃষি গবেষণা, শিক্ষা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার্স এন্ড এক্সিবিশনস-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের মাধ্যমে মোট ৫৩টি স্টলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং কৃষিজাতীয় বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
‘গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ৫২টি নতুন কূপ খনন করবে সরকার’
পদোন্নতি পেলেন ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক
পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) থেকে এসএসপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ৬৭ জন কর্মকর্তা।
পদোন্নতি পেলেন ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক
আরও পড়ুন
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত, পাস হলো ৬ বিল
বিএনপির মনোনয়ন পাননি বেবি নাজনিন
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের ফরম নিলেন ফারাজানা সিঁথি
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু শুক্রবার