ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথপরিক্রমা

বাসস

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি সংগৃহীত

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির রাত। টেলিভিশনের পর্দায় লাখ লাখ মানুষের চোখ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জানতে উন্মুখ দেশের মানুষ। সারাদেশের বিভিন্ন আসনের ফলাফল একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে, আর মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়ছে। পছন্দের প্রার্থী জয়ী হলে এক পক্ষের উল্লাস, আরেক পক্ষের হতাশা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি উজ্জ্বল হয়ে উঠে, তা হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ এবার অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিল। অবশেষে এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো এবং তারা সত্যিকারের নির্বাচিত সরকার পেলেন। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে ২১১ আসনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষক দলসহ বিশ্বব্যাপী এ নির্বাচন স্বীকৃতি পেয়েছে। ইইউ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের জালিয়াতি বা ভোট কারচুপির ঘটনা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরপর তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে দেশের মানুষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল।

২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে তাদের পতনের পর এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এসেছে।

মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে তাঁর রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। নির্বাসনে থেকেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে তিনি বিরামহীন সংগ্রাম করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং সম্প্রতি দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তিনি এমন এক পারিবারিক পরিবেশে বড় হয়েছেন, যেখানে সর্বোচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা করা হত, যা এখনো তাঁর দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হয়।

তিনি ১৯৮৮ সালে গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন। গাবতলী উপজেলা হলো তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক জন্মস্থান, যা উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলায় অবস্থিত।

তারেক রহমান ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তাঁর দলের পক্ষে জনমত গঠনের সুযোগ পান। বেগম খালেদা জিয়া যে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, দলের ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজি কমিটি’র সদস্য হিসেবে তারেক রহমান সেসব আসনের নির্বাচনী প্রচারণা সমন্বয় করেন। ওই পাঁচ আসনে তাঁর মায়ের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে, তিনি একজন দক্ষ সংগঠক এবং ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বে আসার যোগ্য।

আরও পড়ুন

তারেক রহমান তাঁর শৈশব থেকেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে রাজনীতি শিখেছেন। তিনি কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া মানুষের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কত উদার ছিলেন এবং স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য তিনি কীভাবে সংগ্রাম করেছেন। তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আদর্শ রাজনৈতিক মূল্যবোধ অর্জন করেছেন।

তারেক রহমান ২০০১ সালের নির্বাচনেও প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আবারও তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের প্রমাণ দেন। সারা দেশে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে তাঁর কৌশল সফল হয়। বিএনপি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে। বিজয়ের পর ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করেন।

রাজনীতিতে তারেক রহমান যখন বিকশিত হচ্ছিলেন, তখন তাঁকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এরপর আসে কুখ্যাত সেনা-সমর্থিত অবৈধ ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আওয়ামী লীগ এবং তাদের দেশি-বিদেশি দোসরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন তারেক রহমান। ১/১১ সরকার নিষ্ঠুর, কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

রাজনীতি থেকে তারেক রহমানকে নিবৃত্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং দেশের আইনকে উপেক্ষা করে মাসের পর মাস অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

নির্মম নির্যাতনে মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান এবং বাধ্য হয়ে নির্বাসনে থাকার পথ বেছে নেন। কিন্তু তাঁর অদম্য মনোবল এবং জনগণের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি তাঁকে থামতে দেয়নি; বরং তিনি যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

তারেক রহমান তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের মনোবল চাঙা রেখেছেন এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনকালে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তাঁর অনুপস্থিতিতে ১৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল- তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।

তিনি ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এমনকি শেখ হাসিনার সরকার জিয়া পরিবারকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের সেনানিবাসের বাড়ি ভেঙে ফেলে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অপপ্রচারের পরও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।

তারেক রহমান জনগণের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক ময়দানে অবিচল ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার উত্তরাধিকারীর প্রকৃত দাবিদার। তিনি তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে জনসমর্থনের মাধ্যমে দলের তৃণমূলভিত্তি ক্রমাগত বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হয়েছে।

২০১৮ সালে যখন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে বন্দী হন, তখন তাঁকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের উৎকর্ষতার কারণে এ পদে তাঁকে মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

নির্বাসনে থাকলেও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তারেক রহমান থেমে থাকেননি। তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও আহ্বান অবশেষে জাতিকে জাগিয়ে তোলে। জনগণ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ শাসনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাদের প্রায় ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন দিনের সূচনা করে।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার পথ সুগম হয়। এরপর আসে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক দিন, যেদিন তিনি বীরের বেশে দেশের মাটিতে পা রাখেন, খালি পায়ে হেঁটে দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখেন এবং হৃদয়ের গভীরে বাংলাদেশকে অনুভব করেন। এরপর বিশাল জনসমুদ্রে তাঁর প্রাণবন্ত কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অ্যান্ড ফর দ্য কান্ট্রি।’

প্রায় ১৭ বছর পর তাঁকে ফিরে পেয়ে পুরো জাতি যখন বিজয়ের আনন্দে ভাসছিল, তখন বাংলাদেশ আরেকটি দুঃসংবাদ পেল- দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর তাঁর মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হন, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে তাঁর অনিবার্য উত্থান।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান উত্তরাধিকার সূত্রে হয়নি, বরং তিনি তাঁর নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অন্তর্দৃষ্টি, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার কারণে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষে ওঠে এসেছেন। কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা ও ধৈর্যের সমন্বয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতিকে অপশাসন, অরাজকতা, নিপীড়ন, জোর-জবরদস্তি ও দমন-পীড়নের অচলাবস্থা থেকে বের করে আনবেন। তিনি জনগণকে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেবেন, যা তারা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বঞ্চিত হয়েছে। তাঁর প্রতিশ্রুতি মানুষের হৃদয় জয় করেছে এবং এর ফলেই জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিশাল জয় পেয়েছে।

বাংলাদেশ আজ আবারো একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং তারেক রহমানের হাত ধরে পুনরায় গণতান্ত্রিক পথচলা শুরু হয়েছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, কঠোর নজরদারি ও চালকদের প্রশিক্ষণই কমাবে সড়ক দুর্ঘটনা
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনের নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষায় কঠোরতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। পাশাপাশি গতি নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি এবং চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত, মামলা দায়ের এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করছে। ট্রাফিক বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সমন্বিত পদক্ষেপে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। যানবাহন নিবন্ধন, লাইসেন্স প্রদান, ফিটনেস পরীক্ষা এবং আইন প্রয়োগে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে বিআরটিএ। সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, গাড়ির বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত স্পিড ক্যামেরা ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন, নিয়মিত নজরদারি এবং অদক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন , প্রধানত চালকদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া গতি, ড্রাইভিংকালে ফোনে কথা বলা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, পথচারীদের অসচেতনতা এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ তুলে ধরে ড. শামসুল হক আরও বলেন, আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, ফুটপাত ও সড়কের মান উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত আলো, ট্রাফিক সিগন্যাল, জেব্রা ক্রসিং ও সড়কচিহ্ন স্থাপন করা জরুরি। এছাড়া হেলমেট ও সিটবেল্ট পরা বাধ্যতামূলক করা এবং মাদকাসক্ত বা ক্লান্ত-ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। সড়কের বিশৃঙ্খলাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সড়কে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, টেম্পো ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মতো ছোট গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব ছোট গাড়ি দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়, যা দুর্ঘটনা বাড়ায়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তিনি বলেন, প্রধান সড়কের পাশে ফুটপাত দখল ও মার্কেট গড়ে ওঠায় মানুষের যাতায়াত বাড়ছে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে চালকদের পেশাদার প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো (ব্ল্যাক স্পট) চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর তাগিদ দেন এই প্রকৌশলী। লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোফিজুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে কিছু চালকেরা ট্রাফিক আইন অমান্য করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তাই চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এছাড়া মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে ছোট গাড়ির আনাগোনা কমানো না গেলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কেবল জীবনই কেড়ে নেয় না, বরং পুরো পরিবার ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। নিহত বা পঙ্গু হওয়া ব্যক্তির কর্মক্ষমতা হারানোয় আয় কমে যাওয়া ও চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলো মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। মোটরসাইকেল আরোহী, সাধারণ পথচারী, শিশু, সাইকেল ও তিন চাকার যাত্রী এবং সড়কের পাশে বসবাসকারী মানুষই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং ও উল্টো পথে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং যানবাহন পরিদর্শনের দুর্বলতাও এর জন্য বড় দায়ী। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলেও যেন প্রাণহানি না ঘটে- এমন নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য পথচারী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা, মিডিয়ান ব্যারিয়ার, উপযুক্ত বাসস্টপ, পর্যাপ্ত আলো, স্পষ্ট রোড মার্কিং এবং স্কুল ও বাজার এলাকায় গতিসীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সারাদেশে ৪ হাজার ২৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ২৪৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৫৪৪ জন আহত হয়েছেন। সড়কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সাধারণ পথচারী মো. সাফিউর রহমান বলেন, পথচারীদের যত্রতত্র রাস্তা পার না হয়ে সচেতনভাবে চলাচল করা উচিত। দ্রুত রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার বড় কারণ। তবে অনেক চালক অস্বাভাবিক বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিয়ম না মেনে গাড়ি চালায়। চালক ও পথচারী- উভয়ের সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে। সূত্র: বাসস আরটিভি/এসকে
গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, কঠোর নজরদারি ও চালকদের প্রশিক্ষণই কমাবে সড়ক দুর্ঘটনা
বিশ্বের সেরা স্থাপত্যের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের কারখানা
সবুজে ঘেরা উঠান, পুকুরপাড়ের পথ আর গাছপালায় ঢাকা দেয়াল—এমন নান্দনিক নকশার জন্য বিশ্বের সেরা নতুন স্থাপনার স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের একটি কারখানা।
বিশ্বের সেরা স্থাপত্যের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের কারখানা
মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন শর্ত, না মানলে কঠোর ব্যবস্থা
আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকদেরকে এ নিয়ম পালনে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশ না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন শর্ত, না মানলে কঠোর ব্যবস্থা
জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৪৭ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। 
জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৪৭ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা
এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন তথ্য সংশোধন করতে কী কী কাগজপত্র জমা দিতে হবে, তা নির্ভর করে সংশোধনের ধরন ও ভুলের মাত্রার ওপর।
এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র
আরও পড়ুন
একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
সংসদ ভবন এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সাবেক এমপি আব্দুল হাইয়ের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী
বিএনপি নেতা আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক