ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর বঙ্গভবনে যেমন ছিল রাষ্ট্রপতির জীবন 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি

প্রায় দেড় বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্বে এখন নির্বাচিত সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মাধ্যমে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। আর এর মধ্য দিয়েই বিদায় ঘটে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের। এই দেড় বছরে সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও অনেকটা আড়ালে ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ে যেন এখন মুক্তির স্বস্তিবোধ করছেন তিনি। দেড় বছরে কেমন গুমোট এক বন্দিদশায় ছিলেন রাষ্ট্রপতি, তা উঠে এসেছে তার অতি সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে।

গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তার একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বেসরকারি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন। সেখানে দেড় বছরের রুদ্ধকালের ঘটনাপঞ্জি প্রাণখুলে তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আরটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো—

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর বঙ্গভবনে কেমন কেটেছে?— শুরুতেই এমন প্রশ্নে কিছুক্ষণ নীরব থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। তারপর তিনি বলেন, ওই দেড় বছর আমি কোনো আলোচনায় নেই অথচ আমাকে নিয়ে চলে নানা চক্রান্ত। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। সেই কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। বিশেষ করে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেড় বছর বঙ্গভবনে আমার অভিজ্ঞতা যে ভালো, তা বলা যাবে না। আমার ওপর দিয়ে যে ঝড় গেছে, এ রকম ঝড় সহ্য করার মতো ক্ষমতা অন্য কারো ছিল কি না, আমি জানি না।

তিনি বলেন, আমাকে কতভাবে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে! কোনো পরিস্থিতিতেই আমি ভেঙে পড়িনি। আমি বলেছি, আমার রক্ত ঝরে যাবে বঙ্গভবনে। রক্ত ঝরে ঝরুক। আরেক ইতিহাসে আমি যোগ হব। কিন্তু আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব—আমি এই সিদ্ধান্তেই অবিচল ছিলাম। আল্লাহর ইচ্ছা আর আমার দৃঢ়তা।

রাষ্ট্রপতি অপসারণের আন্দোলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাও হলো। অমুকের দল, তমুকের দল, মঞ্চ, ঐক্য—কত কী! রাতারাতি সৃষ্টি! এগুলো একই টাইপের লোকজন সব বিভিন্ন ফোরামে, বিভিন্ন নামে। কোথায় তারা এত টাকা পেল?

তিনি বলেন, এখানে (বঙ্গভবন) যখন ঘেরাও করল, সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন থেকে ফোর্স এসে তিন স্তরে নিরাপত্তা দিল। তারপর ওই যে মেয়েটা, লাফ দিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপরে উঠে ঝাঁপ দেয়। কী আশ্চর্যের ব্যাপার! এগুলো ভাড়াটিয়া। তারপর যখন সাউন্ড গ্রেনেড মারা হলো, লাফ দিয়ে পড়ল। পড়ার পর সে পড়েই থাকবে, ছবি তোলা হবে। সে ডাকছে ক্যামেরাম্যানকে যে ছবি তোলো, ছবি তোলো। মানে এটা দিয়ে সে ব্ল্যাকমেইল করবে। তারপর তাকে মহিলা পুলিশ দিয়ে আর মহিলা আর্মি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে তুলে আর্মির জিপে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আন্দোলনের সেই রাতের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই রাতটা আমার জন্য ছিল বিভীষিকাময়। এই যে ফ্লাইওভার, এই ফ্লাইওভার দিয়ে ওই পেছনে, ওদিকে খালি ঠেলাগাড়ি, ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান দিয়ে চারদিকে ছিন্নমূল লোকজন আসে। গণভবনের মতো বঙ্গভবনও লুট করতে চেয়েছিল। আমরা তো ঘরেই ছিলাম। আমাদের তো আর কিছু নেই, এখান থেকে তো আমি পালাব না, তাই না? সেই অবস্থা যদি হতো, তখন একটা কথা ছিল। তিন স্তরের নিরাপত্তা দিয়ে কভার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী খুব দৃঢ়তার সঙ্গে, আবার এপিসি দিয়ে ঠেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

তিনি বলেন, রাত ১২টার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তখনকার তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ফোন করল, ‘এ রকম একটা খবর পাওয়া গেছে, ওরা আমাদের লোক না। আমি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। এগুলো সব আমরা ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি।’ তারপর দেখি, হ্যাঁ, কিছু স্থানীয় লোক এসে ওদের নিয়ে যায়। কিন্তু কিছু লোক আবার থেকে যায়। তাদের সরাতে রাত ২টা বেজেছে। রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত আমরা তো জেগে আছি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তারা মিটিং করছে- রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই, রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই। রাজু ভাস্কর্যের ওখানে, তারপর বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন ছোট ছোট গ্রুপ করে তারা এটা চায়।

আরও পড়ুন

সেই দুঃসময়ে বিএনপির তার পাশে ছিলো জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তারা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।

এরপর মো. সাহাবুদ্দিনকে প্রশ্ন করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে রাষ্ট্রপতি অপসারণের উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়েছিল, আর কারা এর ইন্ধন জুগিয়েছিল বলে মনে করেন? জবাবে তিনি বলেন, মূলত গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে আমাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও একটা সিদ্ধান্তে এসেছিল। সেটা হলো, যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় আমি অপসারিত হই, তাহলেই শুধু আমি অপসারিত হতে পারি; নচেৎ নয়। পরে দেখা গেল যে এই ইস্যুতে দুটি গ্রুপ হয়ে গেল। গ্রুপে গ্রুপে মিটিং হলো, আলোচনা হলো। তারা বিভিন্ন দল ও জোটের কাছে গেল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, তখন এ রকম একটা অবস্থা ছিল—যেকোনো মুহূর্তে মেজরিটি হয়ে গেলেই আমি অপসারিত হয়ে যাবো বা আমার মনস্তাত্ত্বিক দিক ভেঙে যাবে। তখন তারা আমাকে অনুরোধ করবে পদত্যাগের জন্য। কিন্তু বিএনপি থেকে উচ্চপদে আসীন নেতা আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে, ‘আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে আমরা নই।’

মো. সাহাবুদ্দিন বলতে থাকেন, বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটা গ্রুপ হয়ে যায়। আর আরেকটা গ্রুপ হয়ে যায়, তাদের আপনারা সবাই চেনেন। তবে, তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোগটা ব্যর্থ হলো বিএনপি ও তাদের জোটের কারণে। একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক দল যে স্ট্যান্ডটা নিয়েছে, সেটাকে সরকার তখন সমর্থন করতে বাধ্য হলো।

তিনি বলেন, ওটা সবচেয়ে বড় মুভ ছিল আমাকে অপসারণ করার। মানে, তারা এত বেশি চ্যালেঞ্জিং ভাবনার মধ্যে ছিল যে একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বে। যার ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসা, কথা বলা—এসব সযত্নে তারা করেছে। এই আলাপটাকে তারা ইতিবাচক দিকে নিয়ে যেতে পারবে—সেই বিশ্বাসটা তাদের মধ্যে ছিল। যার ফলে তারা বিভিন্নভাবে প্রতিদিন টাইম দিয়ে, সময় করে বিভিন্ন দলের কাছে যাওয়া, তাদের সঙ্গে কথা বলা, বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের ফেস করা; এই সব কাজই কিন্তু হয়ে গেছে এর মধ্যে। আমিও অত্যন্ত উদ্বিগ্নভাবে লক্ষ করছি—দেখা যাক না, কী হয়! একসময় দেখা গেল যে আপনা-আপনিই এটা নীরব হয়ে গেল; আর এগোতে পারল না। তাতে বোঝা গেল যে এটা হবে না।

রাষ্ট্রপতিকে প্রশ্ন করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এরপর নতুন করে তার বিষয়ে আর কোনো উদ্যোগ ছিল কিনা। জবাবে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বলতে গেলে শেষ সময় পর্যন্ত তারা চেষ্টা করে গেছে—কিভাবে আমাকে উপড়ে ফেলা যায়। রাজনৈতিক পর্যায় থেকে ওই উদ্যোগটা ব্যর্থ হলে খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেই নতুন করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আজকে বলতে দ্বিধা নেই যে একটা অসাংবিধানিক উপায়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এসে আমার জায়গায় বসানোর চক্রান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই মুভটা হয়েছে। আমি বিষয়টি জেনেছি। সরকারের পক্ষ থেকে একজন উপদেষ্টা ওই বিচারপতির শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তারা ঘণ্টাব্যাপী মিটিং করেন। তবে, ওই বিচারপতি রাজি হননি। উনি সাফ বলে দিয়েছিলেন, ‘উনি রাষ্ট্রপতি, উনি সবার ঊর্ধ্বে সাংবিধানিকভাবে, সবকিছুর ওপরে। ওই জায়গায় আমি অসাংবিধানিকভাবে বসতে পারি না।’ ওই বিচারপতির দৃঢ়তার কারণে শেষ পর্যন্ত সরকারের ওই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সত্যি বলতে, একা আমার পক্ষে মনোবল ঠিক রাখা কঠিন হতো, যদি না অনেকের আশ্বাস বা অভয় বাণী না পেতাম। বিশেষ করে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিল যে আমি যেন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবিচল থাকি। কোনো অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি অপসারণের পক্ষে তারা নয়। এছাড়া তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছে। তারা শুধু একটা কথাই বলেছে, ‘মহামান্য, আপনি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। আপনি পরাজিত হওয়া মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীই পরাজিত হওয়া। এটা আমরা যেকোনো মূল্যে রোধ করব।’ শেষ পর্যন্ত তারা এটা করেছে। তারা বিভিন্ন সময় আমার কাছে এসে আমাকে মনোবল দিয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে আরেকবার আমাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে শুনেছি। তখনও তিন বাহিনীর প্রধানরা আমার পক্ষে অবস্থান নেন। তারা তাদের এই অভিমত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকেও গিয়ে জানান যে কোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড তারা হতে দেবেন না। বঙ্গভবনের সামনে যখন মব সৃষ্টি করা হয়, তখনো সশস্ত্র বাহিনী ওই অবস্থান নিয়েছিল।

ষড়যন্ত্রের ওই দুঃসময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান কী ছিল, সেই প্রসঙ্গে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ওই পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের কাছ থেকে কোনো ফোন পাইনি। আমার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থানেই তিনি ছিলেন না। অবশ্য উনাকেও আমি সাহায্য চেয়ে কোনো আবদার করিনি। আমার মনোভাব ছিলো, যা হচ্ছে হতে থাকুক, দেখা যাক কতদূর গড়ায়। তবে, আমি এটুকু বলতে পারি যে, কূটনৈতিক মহল থেকেও আমাকে অপসারণ করার বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান ছিল। আমি এভাবে অসাংবিধানিক ও বেআইনিভাবে অপসারিত হই, সেটা তারাও চায়নি। এটাও বড় শক্তি ছিল। তবে, আমি সব সময় স্বীকার করি যে বিএনপি এবং তার জোট অন্যের প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়নি। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অবগত ছিলেন কি না বা তাকে জানানো হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তখন যতগুলো অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সেগুলো হয়তো তৎকালীন সময়ের প্রয়োজনীয়তার জন্যই হয়েছে। তারপরও আমার দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, অনেক অধ্যাদেশ করার কোনো কারণ ছিল না। প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনো বিধান মেনে চলেননি। সংবিধানে বলা আছে, উনি যখনই বিদেশ সফরে যাবেন, সেখান থেকে ফিরে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং আমাকে ওই আউটপুটটা জানাবেন। কী আলোচনা হলো, কী হলো, কোনো চুক্তি হলো কি না, কী ধরনের কথাবার্তা হলো, এটা আমাকে লিখিতভাবে অবহিত করার কথা। তো, উনি তো বোধহয় ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেছেন। একবারও আমাকে জানান নাই। একবারও আমার কাছে আসেননি।

এমনকি নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বশেষ যে চুক্তিটি হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোনো কিছুই আমি জানি না। এ রকম রাষ্ট্রীয় একটা চুক্তি অবশ্যই আমাকে জানানো দরকার ছিল। এটা ছোটখাটো হোক আর বড় কিছু হোক, অবশ্যই পূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন। আর এটি হলো সাংবিধানিক একটা বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তিনি তো তা করেননি। মৌখিকভাবেও জানাননি, লিখিতভাবেও জানাননি। আসেনওনি। আর এমনিতেই তো উনার আসার কথা!

ড. মোহাম্মদ ইউনূসের ব্যাপারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, উনি যে প্রধান উপদেষ্টা হলেন, সেই প্রক্রিয়ার উৎসই ছিলাম আমি। অর্থাৎ, আমার উদ্যোগেই এই সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা পরবর্তী সময়ে আমার সঙ্গে সেভাবে সমন্বয় করেননি। এটি আসলে বোঝানোর কোনো উপায়ও নেই। কেননা তিনি একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাকে সম্পূর্ণভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করে গেছেন ড. ইউনূস। আমার দুইবার বিদেশ সফর উনি আটকে দিয়েছেন। একটা ছিল কসোভো। গত ডিসেম্বরের ঘটনা। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতিকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল কি-নোট পেপার ওখানে একটা অ্যাসেম্বলিতে পড়ার জন্য। কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি। তারপর কাতারের আমির আমাকে দাওয়াত করল ওখানে একটা সামিটে অংশগ্রহণের জন্য। রাষ্ট্রপতি অ্যাড্রেস করবেন। সেই সেমিনারে রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর কেউ থাকবে না। তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে একটি চিঠি দেওয়া হলো। চিঠিটি বানিয়ে দেওয়া হলো, তারাই ড্রাফট করল। ড্রাফট করে আমার কাছে পাঠায়। আর ওই দাওয়াতপত্রটাও পাঠায়। চিঠিটার মধ্যে ছিল যে, আমি রাষ্ট্রীয় কাজে ভীষণ ব্যস্ত। সুতরাং এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি দুঃখিত। ওই চিঠিতে আমি যেন সই করে দিই।

এই চিঠিটা লেখার সময় তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, আমাকে জানানোও হয়নি। চিঠিটা দেওয়ার পর আমরা জানলাম যে, এ রকম একটা দাওয়াত এসেছিল। যাই হোক, পরে আমি ওই চিঠিতে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে পাল্টা একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। তাতে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অপরাধ না করা হয়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চিঠি দিই। ওই চিঠির জবাবে তারা নিরুত্তর ছিল। তবে, এরপর আর কোনো দেশ থেকে আমন্ত্রণ এসেছিল কি না, সে বিষয়ে জানার সুযোগও হয়নি আমার।

এ সময় রাষ্ট্রপতিকে প্রশ্ন করা হয়, কেন আপনাকে বিদেশ সফরে যেতে দেওয়া হয়নি বলে মনে করেন? জবাবে তিনি বলেন, মূলত অন্তর্বর্তী সরকার সরকার চায়নি, কোথাও আমার নাম আসুক। আমাকে একদম অন্ধকারে ফেলে রাখার চেষ্টা করেছে। তারা চায়নি জনগণ আমাকে চিনুক, জানুক। এটি আমাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে। শুধু বিদেশে নয়, দেশের কোনো অনুষ্ঠানেও আমাকে যেতে দেয়নি। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির যাওয়ার কথা। সেটিও তারা আটকে দেয়।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তারপর দেখেন, আরেকটি ঘটনা আমাকে অপমান করার জন্য। একদিন হঠাৎ করে কোনো একজন উপদেষ্টা বিদেশ ভ্রমণে গেছেন। সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আমার ছবিটা লাগানো আছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের কনস্যুলেট থেকে শুরু করে হাইকমিশন—সব জায়গায় রাষ্ট্রপতির ছবি থাকে। কারণ স্টেটকে রিপ্রেজেন্ট করে রাষ্ট্রপতি। এটা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। কোনো একজন উপদেষ্টা তিনি বিদেশে গিয়ে আমার ছবিটা দেখেছেন। দেখে ওখানেই কনস্যুলেটের প্রধানকে গালিগালাজ করেছেন, এই ছবি এভাবে থাকবে কেন? তারপর এক রাতের মধ্যে সারা পৃথিবীর সব হাইকমিশন থেকে আমার ছবি নামিয়ে দেওয়া হলো। দীর্ঘদিনের একটা রেওয়াজ রাতারাতি শেষ করে দেওয়া হলো। ওই ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে আমি জানতে পারি। তখন আমার মনে হয়েছে যে এটি বোধহয় আমাকে অপসারণের প্রথম ধাপ। সুতরাং পরবর্তী ধাপে হয়তো আমাকে সরিয়ে দেবে। এ জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ছাড়া জনগণের মধ্যেও তো একটা বিরূপ বার্তা যায় যে উনাকে রাখা হচ্ছে না। এ ধরনের কাজও হয়েছে। তা-ও তো সহ্য করে, দৃঢ়তার সঙ্গে আমি থেকেছি, শুধু সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য।

অপমানজনক আরেকটি ঘটনার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে জেতার পর পুরো কমিটির সদস্যরা আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলেন। আমি সাংবাদিকবান্ধব মানুষ হিসেবে তাদের সঙ্গে দেখা করি। খুবই সাধারণ একটা সাক্ষাৎ ছিল। আমাদের মধ্যে সামান্য কথাবার্তা হয়েছিল, তারপর ফটোসেশন হয়। ওই ঘটনা পরদিন কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশ হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং তা স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। জোর করে উনারা খুঁজতে থাকল যে বঙ্গভবনের প্রেস উইংয়ের কে এই কাজটা করেছে। আসলে প্রেস উইংয়ের কেউ তো এই কাজ করেনি। আমি নিজেই সাংবাদিকদের চিঠি পেয়ে তাদের আসতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে তিনটা মানুষকে এখান থেকে অপসারণ করে নিয়ে গেল। প্রেস সেক্রেটারি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারি—তিনজনকেই নিয়ে গেল। পুরো উইংটাই প্রত্যাহার করে নিয়ে গেল।

ওই ঘটনার পর থেকে এখন নিজের কোনো প্রেস উইং নেই উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এমনকি দুজন ফটোগ্রাফার ছিল, যারা ৩০ বছর এখানে কাজ করছিল ফটোগ্রাফার হিসেবে, তাদেরও প্রত্যাহার করে নিয়ে গেল। প্রেস উইং একদম শূন্য করে দিল। আমরা এখান থেকে কোনো প্রেস রিলিজ দিতে পারি না। বাংলাদেশের ক্রিকেট টিম কোথাও জিতলে অভিনন্দন জানিয়ে যে একটা প্রেস রিলিজ দেব, সেটাও পারি না। একদম প্রতিবন্ধী করে দিল। আমি রাষ্ট্রপতি হয়ে নিজে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে বারবার ফোন করেছি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে ফোন করেছি, এস্টাবলিশমেন্ট সেক্রেটারিকে ফোন করেছি। কেউই পাত্তা দেয়নি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব করা হয়েছে বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমার এক্সপোজারটা বন্ধ করার জন্য। এই যে দেশের বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়, সেখানে রাষ্ট্রপতির ছবি ও বাণী দেওয়া বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ক্রোড়পত্র ঠিকই প্রকাশিত হয়। তাতে আমার বাণী দেয় না। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন, গত দেড় বছরে আমার কোনো বাণী গেছে কি না। আগামীকালই (শনিবার) ইনশাআল্লাহ একুশে ফেব্রুয়ারিতে হয়তো আমার বাণী আসবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দুর্গাপূজায় প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস, প্রস্তুত ২০০ বাস
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
দুর্গাপূজায় প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস, প্রস্তুত ২০০ বাস
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা বাংলাদেশের
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার হলো মালয়েশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে জনবল নেওয়া বন্ধ রাখলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর পুনরায় শ্রমবাজার চালু করেছে দেশটি। এবার মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।  মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।  মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিপুলসংখ্যক কর্মী সেখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তাই আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় কার্যকর করা এবং একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।  আজ পুরো বিষয়টি আপনাদের সামনে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো। আগে কী ব্যবস্থা ছিল, বর্তমান সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের কী সমঝোতা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা অতিরিক্ত কী সুযোগ নিশ্চিত করেছি এবং সামনে এই নিয়োগ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে। আগে যে ব্যবস্থা ছিল ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেই সমঝোতা অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে।  এ ধরনের যোগ্যতার মানদণ্ড শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। মালয়েশিয়া যেসব উৎস দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে, তাদের ক্ষেত্রেও দেশটির নিজস্ব নীতিমালা ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আলোচনার একপর্যায়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কিছু শর্তে নমনীয়তা দেখায়, কারণ প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত কয়েকটি শর্ত আমাদের অনেক রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে পূরণ করা কঠিন ছিল। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ও সহায়ক দলিলসহ ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। এই অবস্থায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কী করেছে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু এবং সম্প্রসারণের বিষয়টিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়াকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।  মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের গুরুত্ব বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেন। সেই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন।  আমাদের লক্ষ্য শুধু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা নয়। আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক বৈধ ও যোগ্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করার সুযোগ পাবে এবং একইসঙ্গে আমাদের কর্মীদের স্বার্থ ও অভিবাসন ব্যয় সুরক্ষিত থাকবে। এই নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যায়। একদিকে আমরা মালয়েশিয়ার আইন, তাদের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড এবং বিদ্যমান সমঝোতার প্রতি সম্মান রেখেছি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ যতটা সম্ভব বিস্তৃত করার বিষয়টি আমরা প্রতিটি আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছি। মালয়েশিয়া কী বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং বাংলাদেশ কী অতিরিক্ত সুযোগ নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়া তাদের নিজস্ব যোগ্যতার ভিত্তিতে যে এজেন্সিগুলো তালিকাভুক্ত করবে, আমরা সেটিকে সম্মান জানাই। একই সঙ্গে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিও যেন এই শ্রমবাজারে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজন্সি এবং আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি অর্থাৎ মোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।  এটি মালয়েশিয়ার নিজস্ব নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজেদের উদ্যোগে নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে; নিজেদের জব ওর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে; বাংলাদেশে নিজেদের কর্মী নির্বাচন করতে পারবে; এবং নিয়ম অনুযায়ী সেই কর্মীদের নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া একটি বড় মাইলফলক হলো, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (জিরো কস্ট) নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। আমরা মনে করি, এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কারণ এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে একটি আরও উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। পুরো নিয়োগ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে প্রথম ধাপ: জব ওর্ডার সংগ্রহ মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে Job Order বা Demand সংগ্রহ করতে পারবে। দ্বিতীয় ধাপ: কর্মী নির্বাচন যে এজেন্সি জব ওর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজের কাছেই থাকবে। তৃতীয় ধাপ: মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-সহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসিসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। চতুর্থ ধাপ: বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। অর্থাৎ, জব ওর্ডার যে এজেন্সি সংগ্রহ করবে এবং কর্মী যে এজেন্সি নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই তার কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটি-এর ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে। কর্মীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের কর্মীদের স্বার্থ। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের জন্য একজন কর্মীকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে দেওয়া যাবে না। আমরা চাই একজন কর্মী যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিও আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা ব্যবসা করবেন, নতুন জব ওর্ডার  সংগ্রহ করবেন এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন; কিন্তু সবকিছু করতে হবে দেশের আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিদ্যমান এমওইউ অনুযায়ী, মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ দায়িত্ব। শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তকরণের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে, সেহেতু এই প্রক্রিয়ায় সময়ের প্রয়োজন।  তাই মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদ ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতর্কিত মেডিক্যাল সেন্টার বাদ দিয়ে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত অবশিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।  মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং সেগুলোকে স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করবে। আমরা নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়াও যথাসময়ে এই তালিকায় আরও কিছু নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হবে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং আমাদের মন্ত্রণালয়ও সবার জন্য সেই তালিকা ঘোষণা করবে। আমরা পর্যায়ক্রমে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর তালিকা নিশ্চিত করবো। আমাদের লক্ষ্য শুধু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বৈধ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং সর্বোপরি আমাদের কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। এটি শুধু একটি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নয়। আমরা এটিকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রম সহযোগিতার একটি নতুন এবং আরও অংশগ্রহণমূলক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখতে চাই। নিয়োগের জন্য ঘোষণা মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ভাই-বোনদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।  এ ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা চাই, কর্মীরা যেন সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনও ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান। এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, একইসঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের সহযোগিতা ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন সবার দায়িত্ব সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কর্মী একসঙ্গে এই সুযোগকে সফল করা এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সুশৃঙ্খল ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলা। আরটিভি/এসআর
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা বাংলাদেশের
দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী
পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী
ই-পার্লামেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি, নেতৃত্বে ডেপুটি স্পিকার
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সার্বিক নির্দেশনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ই-পার্লামেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি, নেতৃত্বে ডেপুটি স্পিকার
নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের এক কমিটি গঠন করেছে সরকার।
নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আরও পড়ুন
কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক