ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

নবীর (সা.) অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। ছবি: সংগৃহীত

হযরত মুহাম্মদকে (সা.) কটূক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। একই সঙ্গে যারা হযরত মুহাম্মদকে (সা.) শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করতে সংসদ থেকে আইন করার দাবি তুলেছেন তিনি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হানজালা এসব কথা বলেন।

বক্তৃতার শুরুতে হানজালা তার নির্বাচনি এলাকা শিবচরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সেই আওয়াজগুলোকে জাতির সামনে তুলে ধরে’ তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুজন নির্বাচিত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হক এবং বর্তমান প্রধান মামুনুল হকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। পরে নিজের নির্বাচনি এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে হাজী শরীয়তুল্লাহর প্রসঙ্গ তোলেন।

হানজালা বলেন, আমরা একটি বিশাল কমিউনিটি থেকে বিলং করি। আমরা দেশ ও জাতির কণ্ঠ হয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সংসদে এসে দাঁড়িয়েছি।

বিরোধী দলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল মানেই শুধু বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা হবে, আর ভুল হলে তার প্রতিবাদও করা হবে। সরকারি দল যদি ভালো কাজ করবে, বিরোধী দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের প্রশংসা করতে আমরা বিন্দু পরিমাণ দ্বিধা করব না।

এ সময় সংসদ কক্ষে আরবিতে কালেমা ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখা দেখলে তাদের ভালো লাগে বলেও জানান।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলার ৩০ থেকে ৪০ লাখ ওলামায়ে কেরাম আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তাদের কণ্ঠ, তাদের সে আওয়াজগুলো আমরা যেন জাতীয় সংসদ থেকে দিতে পারি।

এরপর মহানবীর (সা.) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি আমার শেষ নবী, যেটা কোরআন ঘোষণা দিয়েছে। নবী বলেছেন, আমি শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী আসবে না।

পরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি পার্ট রয়েছে, যে অংশ মানুষ তারা নবীকে অস্বীকার করে, তারা মুসলমান দাবি করে।

এই অবস্থার আইনি নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আপনি বাংলাদেশের একটি ইতিহাস রচনা করে যাবেন। আপনার মাধ্যমে যদি এটা স্বীকৃতি পায়, যারা নবীকে অস্বীকার করে তারা কোনো দিন মুসলমান থাকতে পারে না, এটা আইনের মাধ্যমে এ দেশের পার্লামেন্ট থেকে ঘোষণা হবে, সেটা আমরা চাই।

নবীকে (সা.) অবমাননার অভিযোগে শাস্তির প্রসঙ্গে হানজালা বলেন, আমরা আমাদের নবীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। এ দেশের মানুষ নামাজ না পড়লেও যদি কেউ নবীকে কটূক্তি করে, তার কলিজা ছিঁড়ে যায়, সে রাজপথে নেমে যায়।

এরপর তিনি সরাসরি আইন করার দাবি জানিয়ে বলেন, আমি বলব যারা নবীকে (সা.) কটূক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, এদের মৃত্যুদণ্ড, এই আইনটাও যেন বাংলাদেশের এই সংসদ থেকে পাস করা হয়।

বক্তৃতায় ‘হাদি হত্যার’ বিচার দাবি করে হানজালা বলেন, যে সন্তানটা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিল, ইনসাফের আওয়াজ দিয়েছিল, আমাদের মতই যুবক…তার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিচার যদি না হয়, তাহলে আমাদের মতো আন্দোলনদের নিরাপত্তাও রাস্তায় কেউ দিতে পারবে না।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান খেলাফত মজলিসের এই সংসদ সদস্য।

নিজের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়েও তিনি সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হানজালা বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে ‘যথেষ্ট সহযোগিতা’ পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, যখন প্রশাসনের কাছে ইয়াবাসহ গাঁজাসহ দেওয়া হয়, তখন তারা কোর্টে চালান করে দেয়। তিন দিন থেকে চার দিনের মাথায় জামিন নিয়ে এলাকায় এসে আবার মাদক ব্যবসা করছে।

আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, ইয়াবা ও গাঁজার মতো মাদকের বিরুদ্ধে আইন আরও শক্ত করতে হবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারত থেকে ১৮টি নতুন রেলকোচ পৌঁছাল বাংলাদেশে
ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি নতুন ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট স্টেশন থেকে ছেড়ে গেদে চেকপোস্টের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোচগুলো দর্শনায় পৌঁছায়। কোচগুলো নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে। গত ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা এলাকা থেকে কোচগুলোর যাত্রা শুরু হয়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২০ মে বাংলাদেশ সরকার একটি প্রকল্পের আওতায় ব্রডগেজ রেলকোচ কেনার জন্য ভারতের রাইটস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে। পরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর চুক্তিটি সংশোধন করা হয়। শুক্রবার দর্শনা স্টেশনে পৌঁছানোর পর কোচগুলোর প্রাথমিক পরিদর্শন, শুল্কসংক্রান্ত ছাড়পত্র (কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স) এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোচগুলো নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে। সেখানে প্রাথমিক সংযোগ স্থাপন, কার্যক্ষমতা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর কোচগুলো যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে নতুন কোচ যুক্ত করার অংশ হিসেবে ভারতের রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে এসব কোচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহ চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে চার ধরনের ১৮টি কোচ এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, দুটি এসি স্লিপার কোচ এবং দুটি এসি পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা এবং যাত্রীদের মালামাল বহনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভারত থেকে আরও ১৮২টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ দেশে আসার কথা রয়েছে। আরটিভি/টিআর
ভারত থেকে ১৮টি নতুন রেলকোচ পৌঁছাল বাংলাদেশে
তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, আজকের তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ।
তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার
সাইবার নিরাপত্তায় বড় উদ্বেগ, ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য
ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশের ১৮ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য পাওয়া গেছে। ব্রেইন স্টেশন–২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশনের এক রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সরকার, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি ছাড়াও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাইবারস্টেশন ১৫টি খাতের মোট ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে প্রায় সবকটির ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে। এতে বলা হয়, ফাঁস হওয়া নাগরিক তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের।  অন্যদিকে, তথ্য ফাঁসের হার সবচেয়ে বেশি ছিল প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে।  প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব পরিসংখ্যান ন্যূনতম হিসাব; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।  সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, ‘যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা প্রতিকারও করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্যগুলো ফাঁস হয়েছে এবং অপরাধীরা এসব তথ্যের অপব্যবহার করার আগেই যেন ব্যবস্থা নিতে পারে।’ ব্রেন স্টেশন ২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা সচেতনতা বাড়ানো এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক কৌশল তৈরির ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানের একটি প্যানেল আলোচনায় ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রোধে অনুষ্ঠানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকেরা। আরটিভি/ এসকেডি
সাইবার নিরাপত্তায় বড় উদ্বেগ, ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য
শনিবার সরকারি অফিস-ব্যাংক-শেয়ারবাজার খোলা
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
শনিবার সরকারি অফিস-ব্যাংক-শেয়ারবাজার খোলা
বাংলাদেশি দুই পুলিশকে বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যা বলছে বিজিবি
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।
বাংলাদেশি দুই পুলিশকে বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যা বলছে বিজিবি
আরও পড়ুন
মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
মদিনায় পৌঁছে নগরবাসীকে মহানবী (সা.)-এর প্রথম বার্তা
রাসূলের শিক্ষায় পরিচালিত হলে পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
শত্রুকেও ক্ষমা করতেন রাসুল (সা.)