ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নবীর (সা.) অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। ছবি: সংগৃহীত

হযরত মুহাম্মদকে (সা.) কটূক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। একই সঙ্গে যারা হযরত মুহাম্মদকে (সা.) শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করতে সংসদ থেকে আইন করার দাবি তুলেছেন তিনি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হানজালা এসব কথা বলেন।

বক্তৃতার শুরুতে হানজালা তার নির্বাচনি এলাকা শিবচরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সেই আওয়াজগুলোকে জাতির সামনে তুলে ধরে’ তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুজন নির্বাচিত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হক এবং বর্তমান প্রধান মামুনুল হকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। পরে নিজের নির্বাচনি এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে হাজী শরীয়তুল্লাহর প্রসঙ্গ তোলেন।

হানজালা বলেন, আমরা একটি বিশাল কমিউনিটি থেকে বিলং করি। আমরা দেশ ও জাতির কণ্ঠ হয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সংসদে এসে দাঁড়িয়েছি।

বিরোধী দলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল মানেই শুধু বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা হবে, আর ভুল হলে তার প্রতিবাদও করা হবে। সরকারি দল যদি ভালো কাজ করবে, বিরোধী দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের প্রশংসা করতে আমরা বিন্দু পরিমাণ দ্বিধা করব না।

এ সময় সংসদ কক্ষে আরবিতে কালেমা ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখা দেখলে তাদের ভালো লাগে বলেও জানান।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলার ৩০ থেকে ৪০ লাখ ওলামায়ে কেরাম আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তাদের কণ্ঠ, তাদের সে আওয়াজগুলো আমরা যেন জাতীয় সংসদ থেকে দিতে পারি।

এরপর মহানবীর (সা.) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি আমার শেষ নবী, যেটা কোরআন ঘোষণা দিয়েছে। নবী বলেছেন, আমি শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী আসবে না।

পরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি পার্ট রয়েছে, যে অংশ মানুষ তারা নবীকে অস্বীকার করে, তারা মুসলমান দাবি করে।

এই অবস্থার আইনি নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আপনি বাংলাদেশের একটি ইতিহাস রচনা করে যাবেন। আপনার মাধ্যমে যদি এটা স্বীকৃতি পায়, যারা নবীকে অস্বীকার করে তারা কোনো দিন মুসলমান থাকতে পারে না, এটা আইনের মাধ্যমে এ দেশের পার্লামেন্ট থেকে ঘোষণা হবে, সেটা আমরা চাই।

নবীকে (সা.) অবমাননার অভিযোগে শাস্তির প্রসঙ্গে হানজালা বলেন, আমরা আমাদের নবীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। এ দেশের মানুষ নামাজ না পড়লেও যদি কেউ নবীকে কটূক্তি করে, তার কলিজা ছিঁড়ে যায়, সে রাজপথে নেমে যায়।

এরপর তিনি সরাসরি আইন করার দাবি জানিয়ে বলেন, আমি বলব যারা নবীকে (সা.) কটূক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, এদের মৃত্যুদণ্ড, এই আইনটাও যেন বাংলাদেশের এই সংসদ থেকে পাস করা হয়।

বক্তৃতায় ‘হাদি হত্যার’ বিচার দাবি করে হানজালা বলেন, যে সন্তানটা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিল, ইনসাফের আওয়াজ দিয়েছিল, আমাদের মতই যুবক…তার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিচার যদি না হয়, তাহলে আমাদের মতো আন্দোলনদের নিরাপত্তাও রাস্তায় কেউ দিতে পারবে না।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান খেলাফত মজলিসের এই সংসদ সদস্য।

নিজের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়েও তিনি সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হানজালা বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে ‘যথেষ্ট সহযোগিতা’ পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, যখন প্রশাসনের কাছে ইয়াবাসহ গাঁজাসহ দেওয়া হয়, তখন তারা কোর্টে চালান করে দেয়। তিন দিন থেকে চার দিনের মাথায় জামিন নিয়ে এলাকায় এসে আবার মাদক ব্যবসা করছে।

আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, ইয়াবা ও গাঁজার মতো মাদকের বিরুদ্ধে আইন আরও শক্ত করতে হবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার দূরদর্শী প্রতিফলন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার এক তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন। 
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার দূরদর্শী প্রতিফলন
জাতিসংঘে ভাষণের মাধ্যমে শান্তির দিশারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলিষ্ঠ, তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর ব্যঞ্জনাময় যে ভাষণ দিয়েছেন তা’ আমার বিবেচনায় বিরলপ্রজ।
জাতিসংঘে ভাষণের মাধ্যমে শান্তির দিশারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান
‘আ.লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে’
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে।
‘আ.লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে’
‘জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণই বর্তমান সংকটের মূল কারণ’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের দায় আগের সরকারের। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের আয়োজনে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। আব্দুল বারী বলেন, দেশে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি কোথা থেকে আসবে, তার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়নি। তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতের এসব অপরিকল্পিত প্রকল্প ছিল আগের সরকারের অর্থ লুটপাটের পরিকল্পনার অংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারও দায়িত্ব পালনকালে যথাযথভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবেও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রুনাই ও মালয়েশিয়াসহ নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধানে বাপেক্সকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকার দ্রুত সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় উত্তরবঙ্গের আমশিল্পের উন্নয়ন, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পরে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আরটিভি/এসএস
‘জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণই বর্তমান সংকটের মূল কারণ’
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর
নবম জাতীয় বেতনকাঠামোর (পে স্কেল) প্রজ্ঞাপনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরও একটি সুখবর দিয়েছে সরকার। সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) ও প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলের (সিপিএফ) জমার বিপরীতে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর
আরও পড়ুন
মদিনায় পৌঁছে নগরবাসীকে মহানবী (সা.)-এর প্রথম বার্তা
রাসূলের শিক্ষায় পরিচালিত হলে পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
শত্রুকেও ক্ষমা করতেন রাসুল (সা.)
মহানবীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, পুলিশ হেফাজতে যুবক