ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যের সব রুটে ফ্লাইট চলাচল প্রায় স্বাভাবিক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর চলাচলের সূচিতে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছিল। তবে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কিছু রুটে এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সব রুটে ফ্লাইট চলাচল আবার নিয়মিত করা হয়েছে।

বুধবার (২১ এপ্রিল) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরুর পর থেকেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত সেবা দিয়ে আসছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মতো ইউএস-বাংলার ফ্লাইট সূচিতেও সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সব রুটে ফ্লাইট চলাচল আবার নিয়মিত করা হয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যের সব রুটে পুনরায় স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। এয়ারলাইন্সটি দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, মাস্কাট, দোহা, রিয়াদ এবং জেদ্দা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ঢাকা-দোহা রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে দোহার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে এবং একই দিন স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে দোহা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ফিরবে।

ঢাকা-মাস্কাট রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও মাস্কাট থেকে ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় অবতরণ করছে। এছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে প্রতিদিন দুবাই ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। আবুধাবি রুটে সপ্তাহে ছয়দিন (বৃহস্পতিবার ব্যতীত) এবং শারজাহ রুটে সপ্তাহে চারদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।

আরও পড়ুন



সৌদি আরবের রিয়াদ রুটে সপ্তাহে পাঁচদিন এবং জেদ্দা রুটে সপ্তাহে তিনদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইন্সটি, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াতকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রুটে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং রিয়াদ ও জেদ্দা রুটে এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে ৩টি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে।

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা আরটিভিকে জানিয়েছেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি রুটে বিমানের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।
জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
উনি তারেক জিয়া না, উনি ‘আরেক জিয়া’: চিফ হুইপ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝে তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য কাজ করছেন উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, তাকে তারেক জিয়া না বলে আপনারা যদি বলেন ‘আরেক জিয়া’, সেটাই ঠিক হবে। উনি তারেক জিয়া না, উনি আরেক জিয়া। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় বরগুনা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের রাজনীতির পার্থক্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিপরীতে তারেক রহমান দেশ গঠনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার রাজনীতি ছিল শুধুই ক্ষমতায় থাকার। অন্যদিকে তারেক রহমান মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ওপর আস্থা রাখেন। সব নির্যাতন ও অবিচারের মুখেও তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি এড়িয়ে দেশ গঠনে মনোযোগ দেওয়ার আদর্শে বিশ্বাসী। তারেক রহমানের কর্মনিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, তিনি আপাদমস্তক একজন কর্মঠ ও মানবদরদী নেতা। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কল্যাণমূলক কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশের গরিব, অসহায় ও দুস্থ ৫০ লাখ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তার পাশাপাশি শিশুদের জন্য মিড-ডে মিল, বিনা মূল্যে বই বিতরণ এবং ইংরেজি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। এ ছাড়া নারীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে স্নাতকোত্তর (এমএ) পর্যন্ত মেয়েদের সম্পূর্ণ পড়াশোনার খরচ সরকারের বহন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে চিফ হুইপ বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান দেশকে তিন বছরের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচি, তৈরি পোশাকশিল্পের সূচনা এবং হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির বিপ্লব তাঁর হাত ধরেই হয়েছিল। শারদীয় দুর্গোৎসব ও ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে সব নাগরিকের অধিকার সমান এবং এ দেশে কোনো ‘সংখ্যালঘু’ বিভাজন নেই। এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আবেদনের চেয়েও বেশি অনুদান হিসেবে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং উৎসব উদযাপনে সরকারি ছুটি পাঁচ দিন করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর
উনি তারেক জিয়া না, উনি ‘আরেক জিয়া’: চিফ হুইপ
সোমবার ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ওসমানী উদ্যান প্রাঙ্গণে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও ‘ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন’ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা উদ্যানটি এবং সেখানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ শেষে একইদিন উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে নগরবাসী আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ওসমানী উদ্যান ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। উদ্যানটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মানুষ সেখানে হাঁটাচলা, অবসর যাপন ও পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে পারেন। জুলাই শহীদ ও জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের স্মরণে উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করার সুযোগ পাবেন। সচিবালয়-সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যানের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে থাকছে হাঁটার পথ, রেস্তোরাঁ, আধুনিক লাইব্রেরি, শিশুদের জন্য নির্ধারিত খেলার জায়গা, কৃত্রিম পানির ফোয়ারা ও মনোরম জলধারা। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যানটিকে নগরবাসীর অবসর বিনোদন ও সময় কাটানোর উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আরটিভি/এসআর
সোমবার ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর সুনাম বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর সুনাম বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬-এ বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে আমি সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছি। সুতরাং, আজকের এই অনুষ্ঠানে আপনাদের সামনে ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ আমার জন্য নতুন নয়। যাই হোক, পেশাগত সাফল্যের জন্য ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে।  ‘আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন। এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’ তিনি বলেন, জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়ত আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেই জাতীয় পতাকা আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো, আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অস্বীকার করার উপায় নেই, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখা জরুরি, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেছিলেন। ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি। অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ফিরে তিনি সেনাবাহিনীর সব বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিককে জড়ো করেন। সবাইকে জড়ো করে কী নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা একাধিক নিবন্ধে উল্লেখ রয়েছে। ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও ও জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলাম। তারা সবই জানতো। আমি সংক্ষেপে সব বললাম এবং তাদের নির্দেশ দিলাম সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সর্বসম্মতিক্রমে হৃষ্টচিত্তে এ আদেশ মেনে নিলো। আমি তাদের একটা সামরিক পরিকল্পনা দিলাম। তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ। ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখতে ভালোবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোনোদিন ভুলবে না। কো-নো-দি-ন না।’ শহীদ জিয়ার লেখা এসব তথ্য ১৯৭২ সালে অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা, ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশ পত্রিকার বিশেষ ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরদিন, ২৭ মার্চ, তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঘোষণাটি দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ও বীরোচিত ভূমিকা নিঃসন্দেহে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক এক গৌরবজনক অধ্যায়। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য বলেই মনে করে। একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার মধ্যে। সর্বোপরি, চেইন অব কমান্ডের মধ্যে। আমরা সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও সর্বাধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। বর্তমানে বিশ্বের নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন ও কৌশল। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাস্তবতায় আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান। বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষাসামগ্রী দেশেই উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। আমাদের এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে। সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বিদেশে শান্তিরক্ষা মিশনেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। সরকার সেনাসদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সবশেষে বলতে চাই, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়। পরিশেষে, আজকের এই সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নবম পদাতিক ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। আরটিভি/এসআর
বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর সুনাম বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে পৌঁছালে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন তিনি। এরপর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে জাতীয় পতাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সাভার সেনানিবাস সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। আরটিভি/এসআর
সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
মক্কা-মদিনাকে নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী ফেসবুক পোস্ট
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূলপর্ব শুরু আজ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় এবার ইসরায়েলের সাহায্য চাইছে সৌদি