ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তা ব্যারেজ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়, তিস্তাপাড়ে আনন্দের জোয়ার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
তিস্তাপাড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে কোনো মূল্যে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রত্যয়ে তিস্তাপাড়ে মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে যারা এতদিন আন্দোলন করেছেন, তাদের মাঝেও স্বস্তি এসেছে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চয় হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার হলে তিস্তা উপকূলের মানুষ আনন্দে মেতে উঠেন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সোমবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি সরবরাহ পান, সেজন্য সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর পরপরই তিস্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাল্লাহ এই সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

তিনি বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানি ও তিস্তা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুন

উত্তরাঞ্চলের পানির অধিকার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংসদ সদস্যরা, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের দুটি বড় কনসার্ন হচ্ছে পদ্মা ও তিস্তা নদী।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল মুঠোফোনে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত পরিকল্পনার রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। জাতীয় বাজেটে যেহেতু তিস্তা নিয়ে কোনো বরাদ্দ নেই। তাই দ্রুত পরিকল্পনা প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সামু প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। খরা মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার এবং বর্ষায় দুই কূল প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য দেখতে হবে না।

‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকের বৈঠকে পাশ করে কাজ শুরু করতে হবে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান, কাউনিয়া উপজেলার আসাদুজ্জামানসহ অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী শত শত মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ ঘুচবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো) সূত্রে জানা যায়, শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি পাওয়া যায় ৮০০ থেকে এক হাজার কিউসেক। তখন তিস্তার চারিদিকে দেখা যায় ধু-ধু বালুচর।

ভারত তিস্তার উজানে গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে তিস্তা প্রকল্পে প্রতিবছরই পানির ঘাটতি দেখা দেয়। আবার বর্ষাকালে বিপৎসীমা অতিক্রম করলে পানি প্রবাহ বেড়ে ৪ লাখ কিউসেক হয়ে যায়। প্রবল পানির তোড়ে ব্যারাজ ও আশপাশের অঞ্চল ঝুঁকির মুখে পড়ে। তখন ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি গেট রাতদিন খুলে রেখেও পানি সরানো কঠিন হয়ে পড়ে।

সূত্র জানায়, শুকনো মৌসুমে ভারতে পানির ওপর নির্ভরতা থাকায় তিস্তা অববাহিকার ৫ জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় পানির জন্য হাহাকার দেখা দেয়। তিস্তা নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুকনো মৌসুমে ভারতের কাছে পানির জন্য হাত পাততে হবে না। এ ছাড়া তিস্তা নদীকে ঘিরে প্রায় ১২০০ কিলোমিটারের বেশি খাল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব খালে পানি ধরে রাখতে পারলে সারা বছর জুড়ে এই পানি ব্যবহার করা যাবে। নদীতে বারো মাস পানি থাকলে কৃষিকাজ থেকে আরম্ভ করে এ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে।

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এ অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয় এই অবহেলিত মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলেছে।

তিনি আরেও বলেন, আমাদের আন্দোলন প্রকৃতভাবে এই অঞ্চলের মানুষকে অর্থনীতির দিক থেকে সমৃদ্ধ করবে এমন প্রত্যাশাই ছিল। সেটি আজ পূরণের পথে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারি প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না: ডেপুটি স্পিকার
আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারি প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না, সবখানেই সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 
আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারি প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না: ডেপুটি স্পিকার
দুর্যোগ মোকাবিলায় দূরদর্শী নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
দুর্যোগ মোকাবিলায় দূরদর্শী নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের আলোচনা সভায় এ তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যতম শক্তি জনগণের অংশগ্রহণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে উদীয়মান ঝুঁকির একটি ভূমিকম্প। নগরে ভবন নির্মানবিধির প্রয়োগের ঘাটতি ভূমিকম্পের এ ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এসময় দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনায় নারী, শিশু, প্রবীন ও প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। আরটিভি/এসআর
দুর্যোগ মোকাবিলায় দূরদর্শী নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘নতুন মাত্রা’
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা জোরদার করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রচলিত টহল ও জনবলনির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং, নাইট ভিশন ডিভাইস, ড্রোন, রাডার ও আধুনিক যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহার সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘নতুন মাত্রা’
প্রবাসী‌দের জন্য বি‌শেষ ট্রাইব্যুনাল কর‌ছে সরকার: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রবাসী‌দের জন‌্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ আদালত গঠন করার প‌রিকল্পনা হা‌তে নি‌য়ে‌ছে সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর এক‌টি হো‌টে‌লে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠা‌নে এ তথ‌্য জানান তি‌নি। আইনমন্ত্রী ব‌লেন, আমা‌দের শ্রম আদালত রয়েছে। বাংলা‌দে‌শের অভ‌্যন্ত‌রে শ্রমিক‌দের জন‌্য বি‌শেষ শ্রম আদালত গঠন করা হ‌য়ে‌ছে, শ্রমিক আইন করা হ‌য়ে‌ছে। কিন্তু আমা‌দের প্রবাসীরা বি‌দেশ থে‌কে বাংলা‌দে‌শে টাকা পাঠা‌নোর প‌র যখন প‌রিবা‌রের সদস‌্যদের কা‌ছে টাকা ফেরত চাই‌তে যান, কিংবা তা‌দের সম্প‌ত্তি নি‌য়ে বি‌রোধ তৈ‌রি হয়, তখন বছ‌রের পর বছ‌র তারা (প্রবাসীরা) আমা‌দের আইনজীবী‌দের প‌কে‌টে টাকা দেন, মামলা কর‌তে থা‌কেন, তা‌দের জীবন শেষ হ‌য়ে যায় মামলা টেকঅ‌্যাপ (বিচারক কর্তৃক শুনানির জন্য কোনো নির্দিষ্ট মামলার কার্যক্রম) কর‌তে গি‌য়ে। তিনি ব‌লেন, প্রবাসী‌দের জন‌্য আমরা বি‌শেষ আদালত গঠন করব বি‌শেষ ক‌রে ডি‌ভিশনাল হেড‌কোয়ার্টা‌রে। যে আদালত শুধুমাত্র প্রবাসী‌দের যেকো‌নো ধর‌নের সম্পদ সহায়তা দি‌তে পার‌বে, যে‌কো‌নো ধর‌নের প্রবাসী মামলা এই আদালত দেখ‌তে পার‌বে, বিশেষায়িত আদালত। তিনি আরও বলেন, এই প‌রিকল্পনা আমরা হা‌তে নি‌য়েছি এবং আশা ক‌রি এটা আমরা অচিরেই শুরু কর‌তে পারব। আরটিভি/এমএ
প্রবাসী‌দের জন্য বি‌শেষ ট্রাইব্যুনাল কর‌ছে সরকার: আইনমন্ত্রী
দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপদ যাতায়াতে ১৬ নির্দেশনা
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এ সময় নৌদুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখাসহ ১৬টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপদ যাতায়াতে ১৬ নির্দেশনা
আরও পড়ুন
উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসবের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ঢাবির ৩২ শিক্ষার্থী
ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সাক্ষাৎ