ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে ঢোকানো হচ্ছে বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
ছবি: কোলাজ

সম্প্রতি ঢাকায় মিরপুরের রূপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়শা এবং ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেকসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর থেকে যে-সব বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে, তার মধ্যে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা ছাড়াও কর্ণ স্নেক, ডামফি ফ্রগ, লেপার্ড গ্যাকো, সাইডনেক কচ্ছপসহ নানা ধরনের প্রাণীও রয়েছে।

বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া এবং জীববৈচিত্রে প্রভাব পড়ার শঙ্কা থাকায় আইন অনুযায়ী এসব প্রাণী বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকরা বলছেন, আইনের তোয়াক্কা না করেই বিদেশ থেকে এসব প্রাণী বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। যার ফলে দেশের জীববৈচিত্রে যেমন প্রভাব পড়ছে, তেমনি রোগবালাই বৃদ্ধির শঙ্কাও রয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, মাকড়শা কিংবা ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক বাংলাদেশের অনেকেই এখন সখের বসে পুষছেন- এমনকি অবাক করার মতো বিষয় যে, আফ্রিকার ব্যাঙও এখন লালনপালন করা হচ্ছে।

তিনি বলছেন, অনুমতি সাপেক্ষে যে-সব প্রাণী বিদেশ থেকে আনার সুযোগ রয়েছে, মূলত তার আড়ালেই অবৈধ প্রাণী বাংলাদেশে আনছেন অনেকে।

বিমানবন্দরে সোনা বা অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি থাকলেও, পোষা প্রাণী আনার ক্ষেত্রে নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

যদিও বিমানবন্দরসহ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও অবৈধ প্রাণী বিক্রি ও লালন-পালনের বিষয়ে নজরদারি রয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশ বন বিভাগের।

এছাড়া বিলুপ্ত প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধারেও অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক।

তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ।

কয়েকদিন আগেই ঢাকার মিরপুরে অভিযান চালিয়ে আট প্রজাতির ৪২টি দেশীয় বন্য প্রাণী উদ্ধারের কথাও জানান তিনি।

মিরপুরের রূপনগরে আবাসিক ভবনের ছাদে অ্যাকুরিয়াম তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের বিদেশি প্রাণী।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে এক হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করা হলেও, সেখানে প্রায় ছয় হাজার প্রাণী ছিল বলে জানা গেছে।

অর্থাৎ, মাকড়সা, সাপ, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি প্রাণী অভিযানের আগেই বিক্রি করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সাপ, মাকড়সা, ব্যাঙ ও কচ্ছপ।

একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি প্রাণী উদ্ধার হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে যে, এসব প্রাণী আসলে বাংলাদেশে কেন আনা হচ্ছে।

এর পেছনে দুইটি বিষয়কে কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একদিকে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি প্রাণী লালনপালন করার প্রবণতা যেমন বেড়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে এসব প্রাণী পাশের দেশে পাচার করার সুযোগও নিচ্ছে অনেক ব্যবসায়ী। যারা শৌখিন পালক তাদের জন্য আনা হয় এবং আরেকটা হচ্ছে আমাদের দেশ একটা রুট হিসেবে ব্যবহার হয়। থাইল্যান্ড বা বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আসে, চোরাইপথে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে চলে যায়।

তিনি বলেন, অন্য দেশে পাচারের পাশাপাশি দেশের মধ্যেও বিদেশি প্রাণী বেচাকেনার বাজার বেশ রমরমা। বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়শা কিংবা ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক বাংলাদেশের অনেকেই এখন সখের বসে পুষছেন, অবাক করা বিষয় যে, আফ্রিকার ব্যাঙও এখন অনেকে লালনপালন করছেন।

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বিদেশি প্রাণী যাতে দেশে ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর হওয়ার কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, অবৈধ এই ব্যাবসা পৃথিবীর সব দেশেই আছে কিন্তু যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

এক দেশ থেকে অন্য দেশে পোষা প্রাণী (যেমন- কুকুর, বিড়াল, খরগোশ) নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি ও স্বাস্থ্যগত নির্দেশনা পালন করতে হয়।

কিন্তু বন্যপ্রাণী বা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী আনা বা বহন করার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশেই নানা ধরনের আইনি বাধা বা নিয়মকানুন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদেশ থেকে প্রাণী আনার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশই কোয়ারেন্টাইন নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। অর্থাৎ যে-কোনো প্রাণী চাইলেই একটি দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদেশি একটি প্রাণীর উপস্থিতিতে আমাদের পরিবেশে কী প্রভাব পড়বে, কী রোগবালাই আছে সেগুলো ছড়াবে কিনা- যেহেতু এগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে না তাতে ক্ষতির সুযোগ থাকে।

আইন অনুযায়ী, অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, কেনা-বেচা ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু তারপরও কীভাবে বিদেশ থেকে আনা প্রাণী বাংলাদেশে ঢুকছে?

এক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের একটি অফিস যদি করা যায় তাহলে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা যেত, কারণ কোনটি অবৈধ বা বৈধ প্রাণী সেটি কাস্টমস্ হয়ত ঠিকমতো জানেনা, অনেক বৈধ প্রাণীও তো দেশে আসে।

যদিও বিদেশ থেকে কোনো প্রাণী আনা হচ্ছে কিনা- এই বিষয়টি বিমানবন্দরে নিয়মিত চেক করা হয় বলে দাবি করেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক।

তিনি বলেন, অ্যাকুরিয়াম ফিশ বা অ্যাকুরিয়াম স্পেসিজ হিসেবে এগুলোর ভিতরে করে অনেকেই বিদেশ থেকে অবৈধ প্রাণী আনেন, অর্কিডের ভিতরে করেও আনেন। বিমানবন্দর থেকে অবৈধ অনেক প্রাণী সিজ করা হয়।

বিদেশ থেকে অবৈধভাবে কোনো প্রাণী আনা হলে অবৈধ পাচার বা আমদানি-রপ্তানির জন্য শাস্তির বিধান আইনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধের জন্য তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একযোগে ৯৯ বিচারককে বদলি
দেশের অধস্তন আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের ৯৯ জন বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত বিচারকদের মধ্যে জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৪৪ জন জেলা জজ, ২৬ জন অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ জন যুগ্ম জেলা জজ, দুজন সিনিয়র সিভিল জজ এবং দুজন সিভিল জজ রয়েছেন।
একযোগে ৯৯ বিচারককে বদলি
দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছরে বেরোবির উন্নয়নের সার্বিক চিত্র তুলে ধরলেন উপাচার্য
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আত্মদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের সংকট ও অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে এখানকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁকে উদারভাবে গ্রহণ করেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ, শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক সেমিনার, প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন, দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন কোর্স, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী দিনের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, একাডেমিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, উন্নত আবাসিক, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও পাঠাগার সুবিধা নিশ্চিতকরণ, গবেষণার মান বৃদ্ধি, ডিজিটাল ও ভাষাগত দক্ষতা এবং পেশাগত উন্নয়নের জন্য কোর্স চালু, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, আসুন, আমরা সবাই মিলে জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন, মানবিক মূল্যবোধ ও দক্ষতার সমন্বয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলি। আরটিভি/টিআর
দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছরে বেরোবির উন্নয়নের সার্বিক চিত্র তুলে ধরলেন উপাচার্য
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: স্থায়ী কমিটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বলা হয়, প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব থাকবে। তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কর্মী পাঠানোর কারণে দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, বর্তমানে সেগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন বা ‘অথেন্টিকেশন’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়া গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং অ্যাজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত এবং প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। সম্ভাব্য অভিবাসীদের দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান পরিচালনা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও সমস্যা সমাধানে অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।  রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কমিটি আগামী অক্টোবর মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করেছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন এবং সানজিদা ইসলাম অংশগ্রহণ করেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: স্থায়ী কমিটি
রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দেশের রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আইএইএর সহযোগিতা চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদরদপ্তরে সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এক বৈঠককালে এ সহযোগিতা চান। ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বর্তমানে ভিয়েনায় অবস্থান করছেন। এছাড়াও সভায় পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।  ফকির মাহবুব আনাম পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির ভূমিকার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।  বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইএইএ’র মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।  মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ’র কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুফল পেয়ে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ২০২৬-২০৩২ মেয়াদেও কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষর করেছে, যা আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,  বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বৈঠকে ‘রেইজ অব হোপ: ক্যান্সার কেয়ার অব অল’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইএইএ মহাপরিচালক এবং আইএইএ সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘রেইজ অব হোপ’  উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এবং এই অংশীদারিত্বকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আইএইএ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এর অন্যতম অগ্রাধিকার হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আরও সমন্বিত, সহজলভ্য ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আইএইএ-এর কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে ‘রেইজ অব হোপ’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ নভেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠেয় আইএইএ-ডব্লিউএইচও-ইমপ্যাক্ট রিভিউ মিশন-এর দিকে আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। এ মিশন বাংলাদেশের জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন এবং ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে কাজে লাগাতে হবে।  তিনি আরও বলেন, তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার।  শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করার বিষয়ে আইএইএ এর মহাপরিচালকের প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী।  মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আরও সমন্বিত, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যাতে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।  তিনি আইএইএ ও এর অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ‘রেইজ অব হোপ’ উদ্যোগের প্রতিশ্রুতিকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী সুফলে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে আইএইএ’র পক্ষ হতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান তিনি।  এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে ভারতকে বাংলাদেশের বার্তা
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতকে এ বার্তা দেন তিনি।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে ভারতকে বাংলাদেশের বার্তা
আরও পড়ুন
‘লোকলজ্জার ভয়ে’ সীমান্ত পাড়ি কিশোরীর, ফিরল এক বছরের সন্তান নিয়ে
বিমানবন্দরে ২৫ কোটি টাকার অবৈধ সোনা জব্দ, নেপথ্যে কারা
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হালনাগাদ হচ্ছে রেড লিস্ট
গুদামে মজুত ছিল ৭২ বস্তা সার, জব্দের পর ব্যবসায়ীকে জরিমানা