ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘লোকলজ্জার ভয়ে’ সীমান্ত পাড়ি কিশোরীর, ফিরল এক বছরের সন্তান নিয়ে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

দালালের মাধ্যমে এক বছর আগে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল ১৩ বছরের বাংলাদেশি এক কিশোরী। ভারতে গিয়ে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় সে।

সেখানে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এক বছরের কারাবাস শেষে সন্তানসহ দেশে ফিরেছে ওই কিশোরী। তার মতোই ভারতে পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের শিকার আরও ১৫ কিশোর–কিশোরীসহ মোট ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরে।

ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ‘রাষ্ট্রীয় ট্রাভেল পারমিট’–এর মাধ্যমে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। সবাইকে পুনর্বাসনের জন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’–এর জিম্মায় হস্তান্তর করেছে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন বলেন, ‘ভারত থেকে ফেরত আসা নারী ও শিশুদের বেনাপোলে আমাদের সংস্থার একটি নিজস্ব শেল্টার হোমে (নিরাপদ আশ্রয়) রাখা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুবিধাজনক সময়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

ইমিগ্রেশন পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা এক বছরের সন্তানসহ এক কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত করুণ। মাত্র ১৩ বছর বয়সে খুলনার নিজ এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। পরে সামাজিক লজ্জা ও লোকলজ্জার ভয়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়।

সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে ভারতের একটি স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় সন্তানসহ ওই কিশোরীকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পর রাষ্ট্রীয় পারমিটের ভিত্তিতে বুধবার তাকে অন্যদের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ভারতের বন্দিদশা থেকে ফেরত আসা ১৮ জনের মধ্যে মাত্র দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। বাকি ১৬ জনই শিশু–কিশোর।

তিনি বলেন, ফেরত আসা শিশুদের অনেকেরই মা–বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও কারও মা–বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এলেও সন্তানেরা ভারতের কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা পড়েছিল। বুধবার সমন্বিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাদরাসায় আবাসিক ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
নাটোরে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার ভেতর খাদিজা খাতুন (১৬) নামের এক আবাসিক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াপদা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।  রাতেই মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে মাদরাসার ভেতর কীভাবে ছাত্রী মারা গেল তাৎক্ষণিক তার উত্তর পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শ্যামপুর গ্রাম থেকে হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার সুপার সুলাইমান সরদার (৩৮) ও তার স্ত্রী ওই মাদরাসার শিক্ষিকা মদিনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিহত ওই ছাত্রী সিংড়া উপজেলার শালিখা গ্রামের মৃত খলিল উদ্দিনের মেয়ে। মাদরাসা সুপার সুলাইমান সরদারও একই গ্রামের বাসিন্দা। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ওই কিশোরীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল মঙ্গলবার দুপুরে। ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, নিহত ছাত্রী খাদিজা খাতুন ওই হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।  মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আকস্মিকভাবে ওই মাদরাসা থেকে খাদিজাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা ও খালু।  সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাটি জানাজানি হলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে আসে গুরুদাসপুর থানা ও নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল ওই মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন তিনি। নিহত ওই ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার সুপার ও এক শিক্ষিকাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মাদরাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন খাদিজা এমন তথ্য প্রচার করেন তার মা। আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ারও দাবি করা হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্ত করতেও বাধা দিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা তৈরি করেন নিহত খাদিজার মা ও স্বজনেরা। নিহত মাদরাসা ছাত্রী খাদিজার মা মেয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকায় মাদরাসা সুপার ও তার স্ত্রীর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ওই হাফিজিয়া মাদরাসায় বেশ কিছু ছাত্রী আবাসিকে থেকে পবিত্র কুরআন হিফজ করছেন। মাদরাসার ভেতরেই সেখানকার এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। তবে হত্যা নাকি দুর্ঘটনা এ ব্যাপারে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চান তিনি। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান মাদরাসা ছাত্রী খাদিজা নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ওই ছাত্রীর মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তিনি। আরটিভি/এসএস
মাদরাসায় আবাসিক ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে আগুন
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানাধীন নিউ মার্কেট বি ব্লকের তৃতীয় তলায় একটি কাপড়ের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে আগুন
দিনে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয় যে হাটে
দিনাজপুরে বাড়ছে কলার চাষ। জেলার ১৩ উপজেলায় কমবেশি কলা উৎপাদন হলেও বীরগঞ্জ ও কাহারোলে মেহের সাগর কলার আবাদ বেশি হচ্ছে। অল্প পুঁজি ও ভালো লাভের কারণে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড়ে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বসে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট। এ হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়।
দিনে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয় যে হাটে
৯৩ ‘বাবার সন্তান’ নেত্রকোনার রবিউল
নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ ভিন্ন হলেও ৯৩টি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ব্যবহার করা হয়েছে একই ব্যক্তির ছবি। জাল এনআইডি তৈরির অভিযোগে নেত্রকোনায় রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
৯৩ ‘বাবার সন্তান’ নেত্রকোনার রবিউল
শিশু রায়হানের পা কাটা নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার শিশু মো. রায়হানকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর একটি চক্র তার পা কেটে দিয়েছে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য ও ঘটনাক্রম অনুসন্ধান করে এর সঙ্গে পাওয়া ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।
শিশু রায়হানের পা কাটা নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
আরও পড়ুন
সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ঠেকিয়ে দিলো বিজিবি
শি’র দিল্লি সফরের মাঝেই ভারতের সীমান্তে অগ্রসর হচ্ছে চীন, ধরা পড়ল স্যাটেলাইটে
বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে ভারতে উদ্ধার ১১ কেজির বেশি সোনা
বাংলাবান্ধা সীমান্তের সৌন্দর্যে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত