ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

বাসস

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শনিবার (১১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিদর্শনকালে তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দু’টি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া বৃক্ষরোপণ এবং এক আলোচনা সভায় অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ পরিদর্শনকে ঘিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চলছে নানা প্রস্তুতি। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এ পরিদর্শনকে মিলনমেলার সঙ্গে তুলনা করছেন।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ান পরিবারকে উচ্ছ্বসিত করেছে। এ সফরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের মতে, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠান নানা সংকটেও নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এ আগমন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের আরও উৎসাহিত করবে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানের উপস্থিতিও তাদের কাছে বিশেষ আনন্দের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের অবদান অবিস্মরণীয়।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রিয় ক্যাম্পাসে আসছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও আনন্দের।

ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরলস কাজ করার অঙ্গীকার আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ সুপরিকল্পিত ও আধুনিক। ঢাকা মেডিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান নোমান বলেন, আগামী ১১ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ানদের জন্য গৌরব, আবেগ ও নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসবে। এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করবে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ২০০১-০২ সালে ঢামেকসুর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কর্মস্পৃহা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. বাদশা বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, প্রতিটি জাতীয় সংকট, দুর্যোগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানবিক বিপর্যয়ে মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদলের একজন সাবেক কর্মী ও এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণীর ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। এ সফরের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও বেগবান হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক, মানবিক ও জনমুখী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এমবিবিএস কোর্সের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিবুল হাসান বলেন, নিজ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ সুযোগে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয় তার কাছে সরাসরি তুলে ধরতে পারব। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন এবং অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্যখাতকেও আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত এ সরকারি মেডিকেল কলেজ বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে স্নাতক পর্যায়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: স্থায়ী কমিটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বলা হয়, প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব থাকবে। তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কর্মী পাঠানোর কারণে দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, বর্তমানে সেগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন বা ‘অথেন্টিকেশন’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়া গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং অ্যাজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত এবং প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। সম্ভাব্য অভিবাসীদের দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান পরিচালনা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও সমস্যা সমাধানে অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।  রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কমিটি আগামী অক্টোবর মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করেছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন এবং সানজিদা ইসলাম অংশগ্রহণ করেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: স্থায়ী কমিটি
রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দেশের রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আইএইএর সহযোগিতা চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদরদপ্তরে সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এক বৈঠককালে এ সহযোগিতা চান। ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বর্তমানে ভিয়েনায় অবস্থান করছেন। এছাড়াও সভায় পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।  ফকির মাহবুব আনাম পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির ভূমিকার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।  বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইএইএ’র মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।  মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ’র কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুফল পেয়ে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ২০২৬-২০৩২ মেয়াদেও কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষর করেছে, যা আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,  বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বৈঠকে ‘রেইজ অব হোপ: ক্যান্সার কেয়ার অব অল’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইএইএ মহাপরিচালক এবং আইএইএ সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘রেইজ অব হোপ’  উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এবং এই অংশীদারিত্বকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আইএইএ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এর অন্যতম অগ্রাধিকার হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আরও সমন্বিত, সহজলভ্য ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আইএইএ-এর কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে ‘রেইজ অব হোপ’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ নভেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠেয় আইএইএ-ডব্লিউএইচও-ইমপ্যাক্ট রিভিউ মিশন-এর দিকে আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। এ মিশন বাংলাদেশের জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন এবং ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে কাজে লাগাতে হবে।  তিনি আরও বলেন, তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার।  শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করার বিষয়ে আইএইএ এর মহাপরিচালকের প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী।  মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আরও সমন্বিত, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যাতে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।  তিনি আইএইএ ও এর অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ‘রেইজ অব হোপ’ উদ্যোগের প্রতিশ্রুতিকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী সুফলে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে আইএইএ’র পক্ষ হতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান তিনি।  এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে ভারতকে বাংলাদেশের বার্তা
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতকে এ বার্তা দেন তিনি।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে ভারতকে বাংলাদেশের বার্তা
এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস দেন।
এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
নির্বাচনি ব্যয়ের তথ্য দাখিলে নতুন বিধান
এ লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ সংশোধন করা হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যয়ের তথ্য দাখিলে নতুন বিধান
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি পেলেন আজন্ম দৃষ্টিহীন রাবি শিক্ষার্থী
ইবিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন আবুল খায়ের