
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ পাওয়ার জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছেন ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা হলেন— ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মো. ময়নুল আলম এবং ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মো. আতিউর রহমান।
তাদের এই সফলতার গল্প জানতে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন আরটিভির নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আবু তাহের।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ময়নুল আলম বলেন, এই সম্মাননা অর্জনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটা আমার একার অর্জন নয়; আমার বাবা-মা, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, প্রিয় বিভাগ এবং সর্বোপরি আমার তীর্থভূমির সমতুল্য প্রিয় বিদ্যাপীঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন। এই পদকটি উৎসর্গ করছি আমার প্রাণপ্রিয় বাবাকে, যিনি ২০০২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পরলোকগমন করেন। পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় মা ও প্রিয় ছোটবোন জেবিনকে, যাদের ত্যাগ, অনুপ্রেরণা ও সমর্থন ছাড়া এই পথচলা সম্ভব হতো না। সত্যিই আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
অনুভূতি প্রকাশ করে আতিউর রহমান বলেন, কিছু অর্জন শুধু পুরস্কার নয়, বরং একটি দীর্ঘ পথচলার নীরব স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক—আমার কাছে তেমনই এক অনন্য প্রাপ্তি। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। এর পেছনে রয়েছে আমার বাবা-মায়ের অসংখ্য ত্যাগ ও দোয়া, পরিবারের ভালোবাসা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং আমার প্রিয়জনদের নিরন্তর উৎসাহ।
সফলতার গল্প জানিয়ে ময়নুল বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমার সফলতাকে শুধু আমার ভালো রেজাল্টের কৃতিত্ব হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টা বলা হবে না। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি এবং শুরু থেকেই একটা বিষয় মাথায় রেখেছি—শুধু পরীক্ষার আগে পড়ে ভালো করার চেয়ে ক্লাসের পড়া নিয়মিত বুঝে পড়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করতাম, ক্লাসে মনোযোগী ছিলাম এবং যা পড়তাম বুঝে পড়তাম। আমি কখনও ভাবিনি যে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপদক পাব। নিজের জায়গা থেকে যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেছি।
আতিউর বলেন, সত্যি বলতে কোনো শর্টকাট ছিল না। প্রতিদিন অল্প হলেও পড়ার চেষ্টা করেছি, ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া, মুখস্থনির্ভর না হয়ে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা, নিয়মিত রিভিশন এবং পরীক্ষার আগে নয়—পুরো সময়জুড়েই ধারাবাহিক প্রস্তুতি নেওয়াটাই ছিল আমার মূল কৌশল। নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা আমাকে অনুপ্রাণিত করেনি কিংবা কাউকে কিছু প্রমাণ করার তাগিদও ছিল না। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক সম্পর্কে জানার পর থেকেই মনে হয়েছিল, আমাকেও একদিন এমন একটি অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে হবে। পুরো অনার্সের আটটি সেমিস্টারজুড়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত দুইজন শিক্ষার্থীই আমার সরাসরি ছাত্র। এটি আমার শিক্ষকতা জীবনের অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের মুহূর্ত। তাদের এই অসামান্য অর্জনে আমি আনন্দিত, অভিভূত এবং অনুপ্রাণিত। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি বিশ্বাস করি, তাদের এই অর্জন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও উচ্চতর অ্যাকাডেমিক সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। এই কৃতিত্ব শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, পরিবারের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতেও আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশা করি।
আরটিভি/এসএস


